ছাত্র সংগঠন থাকা না থাকা প্রসঙ্গ

শেখর দত্ত
শেখর দত্ত শেখর দত্ত
প্রকাশিত: ০১:০৪ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯

‘…জাতিবিরোধী এই সামরিক অপশক্তির বিরুদ্ধে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দ্রুত ছাত্রসমাজ অবস্থান নেয় এবং জনগণকে একত্র করে প্রতিক্রিয়ার মূল দুর্গ সামরিক বাহিনী ও ধর্ম অপব্যবহারকারী রাজনীতিকে আঘাত হানে। তাই ষাটের দশকের গণজাগরণের অভিজ্ঞতা স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াশীল কায়েমি স্বার্থবাদীদের কাছে এটা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে যে, সামরিক বাহিনী ও ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করার ওপর একান্তভাবে ভর করা ছাড়া প্রতিক্রিয়ার শক্তির পক্ষে রাষ্ট্র ও সমাজজীবনে টিকে থাকা অসম্ভব। … একইভাবে ছাত্রসমাজকে বিপথগামী ও কলুষিত এবং ছাত্র সংগঠনগুলোকে ধিকৃত করে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা ভিন্ন যে প্রতিক্রিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকতে এবং সমাজজীবনকে নিজেদের কায়েমি স্বার্থরক্ষার বাহন করতে পারবে না, এটাও ছিল দিবালোকের মতোই সুস্পষ্ট। তাই একটু লক্ষ করলেই দেখা যাবে, গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি এই দুই কাজে পূর্বাপর খুবই তৎপর।…’ উল্লিখিত কথাগুলো এই কলামের লেখক ‘ষাটের দশকের গণজাগরণ : ঘটনাপ্রবাহ, পর্যালোচনা ও প্রভাব’ বইতে ঘটনাপ্রবাহের অভিজ্ঞতার সারসংক্ষেপ করে লিখেছে।

প্রসঙ্গত বলতে হয় যে, পাকিস্তান সৃষ্টির পর সামরিক বাহিনীই ছিল একমাত্র সবচেয়ে দৃঢ়বদ্ধ সংগঠিত শক্তি। যে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’-এর ওপর ভর করে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াশীল কায়েমি স্বার্থবাদীরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এবং জনগণ বিশেষত পূর্ব বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। কিছু সময়ের মধ্যেই পূর্ব বাংলায় ছাত্রসমাজ ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। নবজাগ্রত এই সংঘবদ্ধ শক্তিই ’৫২ থেকে শুরু করে ’৬৯-এ এসে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীকে পরাভূত করে এবং মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সেই প্রতিক্রিয়াই স্বার্থ হাসিলে আবার সামরিক বাহিনীর ওপর ভর করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। সামরিক দুই শাসক জিয়া ও এরশাদ খুবই সুচতুরতার সঙ্গে নানা প্রলোভন দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ছাত্রসমাজ বিশেষত ছাত্র আন্দোলন-সংগঠনকে কলুষিত ও বিপথগামী করে এবং অনেকটাই সফল হয়। এই দুই স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে আশির দশকে স্বৈরাচারী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণি অপর এক স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে অবির্ভূত হয় এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্যপরিষদ স্কপের আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সামরিক সরকারকে আঘাত হানে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ওই ফোর্স বহুবিধ কারণে টিকে থাকতে পারেনি। প্রলোভন ও বিভ্রান্তি আর সেইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রয়োজনে যথেচ্ছ ব্যবহার করার কারণে নানা সীমাবদ্ধতা-দুর্বলতা নিয়েও ছাত্রসমাজ সুপ্ত শক্তি নিয়ে টিকে আছে। পাকিস্তান আমলে তো বটেই এবং বাংলাদেশ আমলেও ছাত্রসমাজ নানা বিভ্রান্তি ও দুর্বলতা নিয়েও ছিল মোটা দাগে স্বাধীনতার অঙ্গীকার জাতীয় চার নীতি তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে। কিন্তু আবরারের হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের পর দেখা যাচ্ছে, সেই জায়গায়ও যেন চিড় ধরছে।

প্রসঙ্গত এই উপমহাদেশে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল গঠন এবং প্রসার প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই এক সময় ছাত্র আন্দোলন-সংগঠন গড়ে ওঠে। শিক্ষাঙ্গন তথা ছাত্রদের রাজনৈতিক আন্দোলনে নামানো কিংবা না নামানো নিয়ে কবিগুরু ও মহাত্মা গান্ধীর মতভেদ-বিতর্ক আমরা কমবেশি জানি। কিন্তু কালক্রমে তখন থেকেই ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রকাশ্য না হলেও ভেতরে ভেতরে অঙ্গ বা সহযোগী হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি আমলে বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে মুসলিম লীগবিরোধী রাজনৈতিক দল গড়ে না ওঠে প্রথমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে মুসলিম ছাত্রলীগ এবং পরে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হলে ওই ছাত্র সংগঠন হয় সেই দলের। এভাবে ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে গড়ে ওঠে ছাত্র ইউনিয়ন। পরে আওয়ামী লীগ ভেঙে বাম ও কমিউনিস্টরা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ প্রতিষ্ঠা করলে ছাত্র ইউনিয়ন প্রকাশ্যে ন্যাপের সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পায়। এই কারণেই দেখা যায়, রুশ-চীন দ্বন্দ্বে কমিউনিস্ট পার্টি যখন ভেঙে যায়, তখন ছাত্র ইউনিয়নও ভেঙে যায়। যেমন এনডিএফের কারণে ছাত্রলীগও ভেঙেছিল।

এই দিকটি বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে, সেনাশাসক জিয়াউর রহমান হীন উদ্দেশ্য নিয়ে সামরিক ফরমান দিয়ে লাইসেন্স প্রথায় অঙ্গ বা সহযোগী করার যে নিয়ম চালু করেন, এতে যা ছিল ভেতরে ভেতরে তা প্রকাশ্য রূপ পায়। বাস্তবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে উর্দি পরা শাসক জিয়া কী করতে চেয়েছিলেন, তা যদি আমাদের জানতে হয়, তবে যেতে হবে আইয়ুব খানের সামারিক শাসনামলে। আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে তখনকার একটি গোয়েন্দা রিপোর্টে। ১৯৬১ সালের ২৩ জুন, একুশে ফেব্রুয়ারি পালনকালে সামরিক আইন ভেঙে মিছিল-সমাবেশ এবং মে মাসে সরকারি মহলের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে ছাত্রসমাজের অগ্রণী ভূমিকা লক্ষ করে উল্লিখিত রিপোর্টে আইবির উপমহাপুলিশ পরিদর্শক এ এম এ কবির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রেরিত এক গোপন প্রতিবেদনে লেখেন যে, ‘…আপনাকে লেখার বিষয়টি হলো ছাত্রদের অবাঞ্ছিত কাজকর্ম থেকে বিরত রাখা, বিশেষত মেধাবী ছাত্রদের। …এ বিষয়ে গোপন সংবাদ সমন্বয়কারী কমিটির গভর্নর হাউসে অনুষ্ঠিত এক সভায় আলোচনা হয় এবং পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। …সেই পরিপ্রেক্ষিতে সুপারিশ করা হয় যে, প্রত্যেক ব্যাচের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ৪-৫ জন মেধাবী ছাত্রকে সেশনের প্রারম্ভে ডেপুটি কমিশনার ডেকে এ ব্যাপারে যথাযথ বিষয়ের আলোকপাত করতে পারেন। এর জন্য পরিবেশগত সর্বোৎকৃষ্ট সময় নির্বাচিত হতে পারে চা-পর্বে।’

‘…সেই অনুষ্ঠানে ছাত্রদের তাদের মেধার জন্য অভিনন্দিত করা যেতে পারে। এবং আরো উৎকর্ষতার জন্য উৎসাহিত করা যেতে পারে। সেখানে সব রকম আনুষ্ঠানিকতা বর্জন করে কেবল ঘরোয়া বা সাধারণ আলাপের মধ্যে সীমিত থাকতে হবে। আলাপ সূত্রে …উল্লেখ করতে পারেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, ছাত্রদের কাছে দেশের কী কী প্রত্যাশা আছে। এর পরে আরো বলা যেতে পারে যে, তাদের ব্যক্তিগত মতামত যা-ই থাকুক এবং তাদের চারপাশে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যা ঘটছে সে বিষয়ে তাদের যত কৌতূহলই থাকুক তারা যেন এমন কর্ম থেকে বিরত থাকে, যার ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যেন তারা সরাসরি যুক্ত হয়ে না যায়। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, যারা আবার বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী (যেমন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন) তাতে একটি ছাত্র বিশেষভাবে চিহ্নিত হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ফল উল্টো বয়ে আনতে পারে।’

‘…আমি আপনাকে সবিনয় অনুরোধ করছি, আলোচিত বিষয় সম্পর্কে আপনার ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করার জন্য। আপনি তাকে এই চিঠিটিও দেখাতে পারেন এবং ইপ্সিত ফল লাভের জন্য যদি অন্য কোনো উপায় সুপারিশ করা হয়, সে বিষয়ে আমাকে জানাবেন। যদি ডেপুটি কমিশনার আগামী মাসে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চান তাহলে আমি দরকার হলে আলোচ্য বিষয়ের একটি খসড়া তৈরি করে দিতে পারি। …যদি এরপরও তারা খারাপ রাজনীতির সঙ্গে মেলামেশা করে পরিণতির জন্য কেবল তারা নিজেরাই দায়ী থাকবে। …’

এই প্রতিবেদন স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক সরকার জিয়ার আমলে মেধাবী ও চৌকস ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে হিযবুল বাহারে নৌবিহারসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করার কথা। ৭ খুনের আসামি শফিউল আলম প্রধানকে ছেড়ে দেয়া কিংবা অভি-নিরু-ইলিয়াসদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া কী ওই রিপোর্ট বা এনএসএফেরই বাস্তবায়ন নয়! জিয়া যুব কমপ্লেক্স কেন করেছিল, এর উত্তরও পাওয়া যাবে ওই রিপোর্ট বিবেচনায় নিলে। সেনাশাসক এরশাদও আইয়ুব আমলের ওই রিপোর্ট বাস্তবায়নের পথে গিয়ে এক সময় বিফল হয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার দিকে গিয়েছিলেন। এটা করতে গিয়ে তিনি ছাত্র সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরে ও পরস্পরের মধ্যে সংঘাত-খুন-জখম-অস্ত্রবাজি-বোমাবাজি অব্যাহত রেখে ছাত্র আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করে জনগণের মধ্যে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি করতে উদ্যোগী হন। এর সুযোগ নিয়ে এরশাদ এক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে রাজনীতি উচ্ছেদ করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক সমাবেশ ও সব প্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। এই লক্ষ্যে এরশাদ নিজ ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্র সমাজ’ বিলুপ্ত করে।

ইতিহাসের এই প্রেক্ষাপট স্মরণে এনে ভাবলে বিস্মিত হতে হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় মেধাবী ছাত্র আবরারের ভয়াবহ ও করুণ হত্যার প্রেক্ষাপটে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্ররা পর্যন্ত আন্দোলনে নেমেছে এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি তুলেছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও না-রাজনীতির আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রকৃত বিচারে ছাত্র আন্দোলনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি তথা শত্রুর মতামত ভিন্ন রূপে কার্যকর হচ্ছে। কী কারণে সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি সংগঠন বন্ধের এমন পরিস্থিতি দাঁড়াল তা জাতীয় মূলধারা আন্দোলন তথা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলকে গভীরভাবে ভাবতে হবে।

১১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। শত্রুর এই নীলনকশার বাস্তবায়নের জন্য দল কতটুকু দায়ী, দলে মোটিভেশন-প্রশিক্ষণ না থাকা আর দলীয় কোন্দল-সংঘাত বছরের পর বছর টিকে থাকা কতটা দায়ী, ভালো ও ত্যাগীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করা কতটা দায়ী, প্রশাসন কতটা দায়ী, শিক্ষক আন্দোলন-সংগঠন এবং তাদের ক্ষমতার লড়াই কতটুকু দায়ী, কাঁটা (টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি-দখল-দাপট অর্থে) দিয়ে কাঁটা তোলার কৌশল কতটা দায়ী প্রভৃতি অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে ভাবার সময় এসেছে। বিগত নির্বাচন এবং ক্যাসিনোকাণ্ড ও জিরো টলারেন্স নীতি চালু করার প্রেক্ষাপটে এই ভাবনা এবং নীতি-কৌশল ঠিক করে ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। কেবল জিরো টলারেন্স এর সমাধান নয়। অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে ছাত্র আন্দোলন-সংগঠন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা স্মরণে রেখে বলতে হয়, ছাত্র ও যুব আন্দোলনের নীতি-কৌশল-পদক্ষেপ ঠিক করে মাঠে নামা ভিন্ন বিকল্প আর কিছু নেই। এটা ঠিক করতে দলের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সুশীল সমাজের মতামতও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিতে পারে। কেবল উন্নয়ন দিয়ে নয়, ছাত্র-যুবসমাজসহ জনগণের মন জয় করাই যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ যথাসম্ভব কণ্টকমুক্ত হবে, তা অনুধাবনের সময় সমুপস্থিত। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ জনগণের মন জয় করার দিকেও যথাসম্ভব নজর দেবে- এটাই বর্তমানের একান্ত কামনা।

লেখক : রাজনীতিক।
sdisnow@gmail.com

এইচআর/পিআর

অতীত ঐতিহ্য স্মরণ করে ছাত্র আন্দোলন-সংগঠন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা স্মরণে রেখে বলতে হয়, ছাত্র ও যুব আন্দোলনের নীতি-কৌশল-পদক্ষেপ ঠিক করে মাঠে নামা ভিন্ন বিকল্প আর কিছু নেই। এটা ঠিক করতে দলের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সুশীল সমাজের মতামতও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নিতে পারে। কেবল উন্নয়ন দিয়ে নয়, ছাত্র-যুবসমাজসহ জনগণের মন জয় করাই যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ যথাসম্ভব কণ্টকমুক্ত হবে, তা অনুধাবনের সময় সমুপস্থিত। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ জনগণের মন জয় করার দিকেও যথাসম্ভব নজর দেবে- এটাই বর্তমানের একান্ত কামনা