শিশুর প্রতি নৃশংসতা বন্ধ হবে কবে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৮:৩৭ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯

শিশুরা হচ্ছে আদরণীয়। নিষ্পাপ। শিশুদের দেখলে এক ধরনের মায়া জন্মে। জগতের অন্য অনেক না পাওয়া, হতাশা ভুলিয়ে দেয় শিশুর অমলিন হাসি। সেই শিশুরা যখন নির্মম নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়-এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে।

এবার সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে তুহিন (৫) নামে এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর গাছের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে ঘাতকরা। ঘাতকরা শিশুটির লিঙ্গ ও কান কেটে নিয়ে গেছে। গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের কাজাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তুহিন ওই গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে। গত রোববার রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে তুহিনের চাচাতো বোন ঘরের দরজা খোলা দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠে দেখেন তুহিন ঘরে নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে বাড়ি থেকে একটু দূরে মসজিদের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ পায়। এ সময় তার পেটে দুটি ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সকালে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশু তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যাচ্ছে যে তুহিনের পিতাসহ স্বজনরাই তার খুনি। নিজেকে হত্যামামলা থেকে বাঁচাতেই সন্তানকে বলি দেয়া। পিতার কোলেও শিশু নিরাপদ নয়- এ কোন ঘোর অমানিশার কাল এলো ভাবতে হবে সমাজ বিশ্লেষকদের।

বিগত দু’দশকে শিশু সুরক্ষায় বাংলাদেশে আইনী কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে; নেয়া হয়েছে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ। কিন্তু সামগ্রিক বিবেচনায় ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণে স্পষ্টত শিশুর প্রতি সহিংসতার দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বরং ভয়াবহতা ও নৃশংসতা বেড়েছে। শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচারের সাম্প্রতিক দৃষ্টান্তের পরও দেখা যাচ্ছে নির্যাতন চলছেই। বিশেষ করে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করে হত্যার ঘটনা সমাজকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে শিশুরা অবলীলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। এই নৃশংসতার অবসান হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য নতুন করে ভাবতে হবে কেন এক শ্রেণির মানুষ এতোটা বিকারগ্রস্ত হয়ে শিশুহত্যায় মেতে উঠলো।

সভ্য সমাজে শিশুর প্রতি মানবিক আচরণ করা হয় হত্যা, খুন অপহরণ, ধর্ষণ তো দূরের কথা। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও শিশুহত্যা নিষেধ। কিন্তু আমাদের সমাজে কেন এসব ঘটছে সেটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

শিশুরা নিরীহ ও দুর্বল। এ জন্য সহজেই তারা টার্গেটে পরিণত হয়। এছাড়া শিশুরা নির্যাতনের শিকার হলেও নানা পারিপার্শ্বিক কারণে তারা বিচার চাইতে পারে না। শিশু নির্যাতন বন্ধ না হওয়ার এটিও বড় কারণ। যে হারে শিশুহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ চলছে সেটা যে কোনো সুস্থ সমাজের জন্য অশনি সংকেত। একটি সভ্য সমাজ এভাবে চলতে পারে না। শিশুরাই আগামী। তাদের পরিচর্যা করে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটাতে হবে। পাশাপাশি অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে সমাজে শিশুরা নিরাপদ নয় সে সমাজ কখনো সভ্য সমাজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

এইচআর/পিআর

সভ্য সমাজে শিশুর প্রতি মানবিক আচরণ করা হয় হত্যা, খুন অপহরণ, ধর্ষণ তো দূরের কথা। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রেও শিশুহত্যা নিষেধ। কিন্তু আমাদের সমাজে কেন এসব ঘটছে সেটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে