রোজমেরির আলোকিত জীবন

ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
ডা. বিএম আতিকুজ্জামান ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
প্রকাশিত: ১০:১৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

রোজমেরিকে সবাই সংক্ষেপ করে ডাকে রোজ। বড় কোনো নামকে ছোট বানিয়ে ডাকা এখানকার রীতি।

রোজ তার বয়সী মা বাবাকে আমার কাছে নিয়ে এসেছিল তাদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রায় ১৫ বছর আগে। ওর বাবা মা কথা বলতে পারেন না। তারা ইশারার ভাষা বা ‘ sign language’ ব্যাবহার করেন। রোজ কথা বলতে পারে আবার ইশারার ভাষাও বোঝে। সে এসেছিল তার বাবা মাকে সাহায্য করতে।

ওর বাবা মার জন্ম নিউইয়র্কে। ওর বাবা ড্যানিয়েলের এক বছর বয়সে মেনিনজাইটিস হবার পর সে কানে শোনা আর কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর তার মা জন্মগ্রহণের সময় জটিলতার জন্য জন্মগতভাবে মূক ও বধির। দুই জনকেই সে সময় একটা বিশেষ স্কুলের ভর্তি করা হয়। সে থেকেই দুজন দুজনকে চেনে। তারা দুজনেই ইশারার মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করতে শিখেছেন। সেই বিশেষ স্কুলে তার মা জেনেলিয়া সেলাই করাতে পারদর্শী আর বাবা ড্যানিয়েল খুব ভালো ঘড়ি মেরামতের বিশেষজ্ঞ হয়ে গেল।

ড্যানিয়েল আর জেনেলিয়া একে অন্যকে খুব ছোট থেকে চেনে। একে অন্যকে সব সময়ই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আর তাই ২৭ বছর বয়সে তারা একসাথে ঘর বাঁধলো। বিয়ের দুই বছর পরই জেনেলিয়ার কল জুড়ে আসলো রোজমেরি।

রোজমেরি কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ শিশু হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিল। তবে ছোট বেলা থেকে রোজ শিখে নিয়েছে ইশারার ভাষা। বাবা মার সাথে বড় হয়ে ওঠা রোজমেরি স্বাস্থ্য পরিচর্যাতে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রী নিয়ে বাবা মাসহ চলে এসেছিল অরল্যান্ডোতে। কাজ নিয়েছিল ডিজনি ওয়ার্ল্ডে।

atik5

সেখানে সবাই জেনে ফেললো সে ইশারার ভাষা ভালো বোঝে। সে হয়ে গেলো ডিজনীর ইশারার ভাষার বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষক। খুব তাড়াতাড়ি রোজ বুঝে গেলো যে এ বিষয়ে ভালো শিক্ষকের অভাব রয়েছে। সে ইশারার ভাষা শেখানোর জন্য একটা প্রতিষ্ঠান খুলতে চাইলো। দুজন বিত্তবান মানুষ তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করল।

সে স্কুলের জন্য সবচেয়ে খুশি হয়েছে ড্যানিয়েল আর জেনেলিয়া। ভাষা শহীদদের বছর ১৯৫২ সাল থেকে দুজন দুজনকে চেনে তারা। রোজের প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হতে পেরে মহা আনন্দে দিন কাটে তাদের।

মূক আর বধির বাবা মার সন্তান হয়ে রোজ উপলব্ধি করেছে ইশারার ভাষা শেখার মূল্য। আর সে শিক্ষার আলোতে রোজমেরি আলোকিত করছে মূক আর বধিরদের অন্ধকার ভুবন।

লেখক : ডা. বিএম আতিকুজ্জামান, পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিভাগীয় প্রধান, ফ্লোরিডা হাসপাতাল, ফ্যাকাল্টি, কলেজ অব মেডিসিন, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি।

এএইচ/এমএস