একটি বৃষ্টিভেজা সকাল

ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
ডা. বিএম আতিকুজ্জামান ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
প্রকাশিত: ০২:১৯ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৯

কাজে যাচ্ছি। এ সময়ে অরলান্ডোতে বৃষ্টি হয় না।কিন্তু আজ হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্ষাকালের মতো একঘেয়েমি বৃষ্টি। এ রকম দিনে বিছানা ছেড়ে উঠতে মন চায় না। কেবল হালকা ঘুমের ঘোরে বৃষ্টির শব্দ শুনতে মন চায়।

প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও বাবা মার সাথে কথা বলতে বলতে কাজে যাচ্ছি। তারা দুজনেই বহু দূরে। ঢাকায় থাকেন।বাবা প্রায় শয্যাশায়ী এখন। মা হাসপাতালে যান আসেন। কিন্তু আমরা সবাই দূরে থেকেও অনেক কাছে। আমার বাবা-মা দিনের এসময়টা একসাথে ফোন ধরে বসে থাকেন। আমার সাথে কথা বলার অপেক্ষায় থাকেন।

গতকাল থেকে আজ তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি তাদের চারপাশে। কেবল আমার কন্যা নাবিহা হঠাৎ করে গতরাতে তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সপ্তা শেষের ছুটিতে এসেছে। ওর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহর থেকে বিমানযাত্রা কেবল আধাঘন্টার ব্যাপার। আমার বাবা শুনে মহাখুশি। তিনি আমাকে মনে করিয়ে দিলেন আমি যখন মেডিকেল কলেজ থেকে ঘরে ফিরতাম তখন কি করতেন তারা। কি খাবার পছন্দ করতাম আমরা সেটি এখনো তার নখদর্পণে।

pic-atk

মহিলা সমিতির মঞ্চে নতুন কোন নাটক এলে একসাথে তা দেখতে যাবার আয়োজনের কথা শুনতে শুনতে খুব নস্টালজিক হবার আগেই আমার মা ফোনটা নিলেন। মা বললেন এখন কার্তিক মাস।এ সময় নড়াইলে রসের জন্য খেজুর গাছ কাটা হয়। তিনি নলিনি গুড়ের সন্দেশের কথা মনে করিয়ে দিলেন। ফিরোজা ফুপু সবসময় সেগুলো নিয়ে আসতেন ঢাকায়। মতিঝিল কলোনী হয়ে সেসব পৌঁছে যেতো আমার চট্টেশ্বরী রোডের ছাত্রাবাসে। হঠাৎ করে খুব নলিনি গুড়ের সন্দেশের লোভ হলো।

অনেক আগেই এসব লোভ সংবরণ করতে শিখে গিয়েছি। কাজে পৌঁছে গিয়েছি এতক্ষণে। গাড়ি থেকে নামতেই বৃষ্টির ফোটাগুলো বাস্তবে ফিরিয়ে আনলো আমাকে। মনে পড়লো তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে নাবিহাকে নিয়ে একটা সিনেমা দেখতে যেতে হবে আজ। ওর প্রিয় টেলিভিশন সিরিয়াল ‘ ডাউনটন এ্যাবি’ নিয়ে বানানো সিনেমা দেখতে যাবার কথা আজ। আমার খুব ইচ্ছে হলো বৃষ্টিভেজা এরকম একটা দিনে রিক্সাতে চড়ে বেইলি রোডের ‘খাবার দাবারে’ একটু ঢুঁ মেরে আজ বাবা মা ভাই বোনের সাথে মহিলা সমিতি মঞ্চে একটা নাটক দেখতে যাই।

এইচআর/পিআর

কার্তিক মাস।এ সময় নড়াইলে রসের জন্য খেজুর গাছ কাটা হয়। তিনি নলিনি গুড়ের সন্দেশের কথা মনে করিয়ে দিলেন। ফিরোজা ফুপু সবসময় সেগুলো নিয়ে আসতেন ঢাকায়। মতিঝিল কলোনী হয়ে সেসব পৌঁছে যেতো আমার চট্টেশ্বরী রোডের ছাত্রাবাসে। হঠাৎ করে খুব নলিনি গুড়ের সন্দেশের লোভ হলো

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]