পেঁয়াজ নিয়ে জুয়াড়িদের ধরুন

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:১৯ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৯

দেশে শুদ্ধি অভিযান চলছে। ঘরে-বাইরের রাঘববোয়ালরা কেউ বাদ যাচ্ছেনা এই অভিযান থেকে। বিশেষ করে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে অনেক রাঘববোয়াল। কিন্তু এই সময়ে ভোক্তার পকেট খালি করে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। যা জনসাধারণের চাহিদাকে জিম্মি করে এক ধরনের জুয়াই। এই জুয়াড়িদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করাটা সময়ের দাবি। নইলে শুদ্ধি অভিযান আখেরে কোনো কাজ দেবে না। যদি সমাজে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে চার মাসে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস) নামের একটি সংগঠন। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। সংগঠনের দাবি, পেঁয়াজের বাজারে কারসাজি করে গ্রাহকের যে টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, তা দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। কারসাজি চক্র প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকার ওপরে হাতিয়ে নিয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং দাম বৃদ্ধির স্থায়ী সমাধান চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে রিট করা হবে বলে জানানো হয়। গতকাল রোববার ডাক ও রেজিস্ট্রি যোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

নোটিশে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সাতদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রতিকার চেয়ে হাকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে এলসি এবং বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্ক থেকেও এলসির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। সম্প্রতি মিয়ানমারও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি করেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দিরে বিক্রি হচ্ছে।

কথায় আছে, দুর্জনের ছলের অভাব হয় না। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর লাভ ও লোভের কারণেই যে পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। মুনাফালোভী এই মানসিকতা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। টিসিবিকে কার্যকর করে একটি প্যারালাল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়। পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হল কী করে। এক্ষেত্রে কী কারো কোনো দায়-দায়িত্ব নেই?

যে কোনো উসিলায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন-কানুন নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই এখানে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হবে আর সরকার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অবিলম্বে পেঁয়াজের মূল্য জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে যার যা করণীয় রয়েছে সেটি করতে হবে। এজন্য সরকার-ব্যবসায়ী সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। ত্যাগ করতে হবে মুনাফালোভী মানসিকতা।

এইচআর/পিআর

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে অনেক রাঘববোয়াল। কিন্তু এই সময়ে ভোক্তার পকেট খালি করে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। যা জনসাধারণের চাহিদাকে জিম্মি করে এক ধরনের জুয়াই। এই জুয়াড়িদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করাটা সময়ের দাবি। নইলে শুদ্ধি অভিযান আখেরে কোনো কাজ দেবে না। যদি সমাজে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব না পড়ে