প্রাণ যায় নেই দায়!

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:০৪ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

দুর্ঘটনা যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক-রেল দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই প্রাণ ঝরছে। কখনো ভবন ধসে, কখনো আগুন লেগে, কখনো নৌযান ডুবিতে, কখনো নানা দৈব দুর্বিপাকে অকাতরে যায় প্রাণ। বিদ্যুত, গ্যাসের মত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতায়ও প্রায় যায়। এবার চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকায় গ্যাস লাইনের রাইজার বিস্ফোরিত হয়ে ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে বড়ুয়া ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রাণহানির ঘটনা আর কত?

রোববার পাথরঘাটায় গ্যাস লাইনের রাইজার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বিস্ফোরণের কারণে একটি দেয়াল ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেছেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জাগো নিউজকে বলেন, সকাল ৯টার দিকে বিকট শব্দ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। মূলত বিস্ফোরণে একটি দেয়াল পথচারীদের ওপর ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিদের অবস্থা ভালো নয়।

এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চতভাবেই কর্তৃপক্ষীয় অবহেলা। পাইপলাইনে কী করে এই বিস্ফোরণ ঘটলো সেটি ভাবনার বিষয়। নিশ্চয়ই পাইপলাইনে ক্রটি ছিল। যেটি সময়মত চিহ্তি করা গেলে এবং ক্রটি সারলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটতো না।

আমাদের দেশে অকাতরে মানুষের প্রাণ যায়। কিন্তু কোনো ঘটনায়ই কাউকে সেভাবে দায় নিতে হয় না। ফলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতেই থাকে। প্রতিটি ঘটনার পরই এক বা একাধিক তন্দ কমিটি গঠ্ন করা হয়। সেগুলো কখনো আলোর মুখ দেখেনা। দেখলেও তদন্ত রিপোর্টর ভিত্তিতে কারো কোনো শাস্তি হয়েছে এমন নজির খুবই দুর্লভ।

আমরা আশা করবো গতানুগতিকতার ভিড়ে চট্টগ্রামের এই প্রাণহানির ঘটনা কর্তৃপক্ষীয় অবহেলার শিকার হবেনা। দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে তদন্ত সাপেক্ষে। নিহত, আহতের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

এইচআর/পিআর

আমরা আশা করবো গতানুগতিকতার ভিড়ে চট্টগ্রামের এই প্রাণহানির ঘটনা কর্তৃপক্ষীয় অবহেলার শিকার হবেনা। দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে তদন্ত সাপেক্ষে। নিহত, আহতের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সর্বোপরি এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে