মানুষজনকে রক্ষা করতে হবে

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ এএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ এখন বাংলাদেশ। আর এই বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসী। অন্যদিকে শব্দ দূষণের কারণেও মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের জোরালো পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ অবস্থায় জনস্বার্থে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণ রোধে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই কমিটি বায়ুদূষণ রোধে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কী কী উপায়ে বায়ুদূষণ রোধ করা যায় সে ব্যাপারে সুপারিশ করবে।

পরিবেশবাদী ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দেন আদালত। সেই সঙ্গে রাজধানীর রাস্তা ও ফুটপাতে ধুলাবালি, ময়লা ও বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে ঢাকা শহরের যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কার (রাস্তা ও নির্মাণাধীন কাজের জায়গা) কাজ চলছে, সেসব এলাকা ঘেরাও করে কাজের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ পালন করে এর দুই সপ্তাহের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিফতরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলছে এবং যেসব এলাকায় ধুলাবালি বেশি, সেসব এলাকায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিনে দুবার পানি ছিটাতে দুই সিটির মেয়র ও নির্বাহীদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ আদেশ অনুসারে বিবাদীরা হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। পরে এ নিয়ে দুই সিটির নির্বাহীকে তলব করেন হাইকোর্ট।

বায়ু দূষণের দিক দিয়ে বাংলাদেশের ধারে কাছেও নেই কোনো দেশ। প্রায় ২১ পিএম কম বায়ু দূষণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। এরপর ভারত, আফগানিস্তান, বাহরাইন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক বায়ু দূষণ পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ার ভিজ্যুয়ালের সর্বশেষ তথ্য এগুলো। তাদের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে গড় বায়ু দূষণের পরিমাণ ৯৭ দশমিক ১০, যেখানে পাকিস্তানের ৭৪ দশমিক ২৭, ভারতের ৭২ দশমিক ৫৪, আফগানিস্তানের ৬১ দশমিক ৮০ এবং বাহরাইনের ৫৯ দশমিক ৮০ পিএম২.৫।

বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে বছরে ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আর বায়ুদূষণের কারণে শিশুমৃত্যুর হারের দিক থেকে পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ঢাকার চারপাশে প্রায় এক হাজার ইটভাটা নভেম্বর থেকে চালু হয়। সেগুলো ওই বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী। এ ছাড়া শীতকাল বা শুষ্ক মৌসুমে বেশির ভাগ অবকাঠামোর নির্মাণ ও মেরামতকাজ শুরু হয়। এ কারণেও এই সময় বায়ুদূষণ বেড়ে যায়।

পরিবেশ দূষণ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ধুলি দূষণ কমিয়ে আনতে নগরীতে পানি ছিটানোর ‘স্পেশাল ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ৯টি গাড়ি দ্বারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন এলাকায় পানি ছিটানো হবে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনকেও এ ধরনের প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে। শুধু রাজধানীতেই নয় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও দূষণবন্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। দূষণজনিত ক্ষয়-ক্ষতি থেকে মানুষজনকে রক্ষা করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

এইচআর/এমএস

‘পরিবেশ দূষণ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ধুলি দূষণ কমিয়ে আনতে নগরীতে পানি ছিটানোর ‘স্পেশাল ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। ৯টি গাড়ি দ্বারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন এলাকায় পানি ছিটানো হবে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনকেও এ ধরনের প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে। শুধু রাজধানীতেই নয় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও দূষণবন্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। দূষণজনিত ক্ষয়-ক্ষতি থেকে মানুষজনকে রক্ষা করতে হবে যে কোনো মূল্যে। ’