৩২ টাকার পেঁয়াজ ১৩০ টাকা হয় কী করে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ এএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশটা মগের মুল্লুক হয়ে গেছে নাকি পেঁয়াজের মুল্লুক সেটা বলা মুশকিল। নাহলে ৩২ টাকায় কেনা পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয় কী করে? তাও আবার দিনের পর দিন। পেঁয়াজ নিয়ে কম কথা হয়নি। বিমানে করেও পেঁয়াজ আনা হলো। কিন্তু বাজারে এখনো উচ্চমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এর একটা বিহিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যে কোনো উপায়ে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এ সংক্রান্ত সংবাদ থেকে জানা যায়, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ ট্রাকে ওঠা পর্যন্ত কেজিতে ৪০-৪৫ টাকা খরচ পড়লেও সেই পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ২০০-২৩০ টাকা। এভাবে কেজিতে লাভ হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ দুই মাস ধরে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়লেও টেকনাফ-কক্সবাজারের স্থানীয় বাজারে বাড়তি আমদানির কোনো প্রভাব পড়েনি। বিভিন্ন সময় ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’র কথা উঠলেও বিষয়টি প্রকাশ পায়নি। কিন্তু গত বুধবার (৪ ডিসম্বের) অজ্ঞাত এক ফোনের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের কারসাজির বিষয়টি নজরে এলে টেকনাফ থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) রাকিবুল ইসলামকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, হঠাৎ বন্দরে গেলে ওসি রাকিবকে বন্দর কর্তৃপক্ষ অসহযোগিতা করে। পরে উখিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বন্দরে প্রাথমিক তদন্তে দেখতে পায়, আমদানির সঙ্গে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহের কোনো মিল নেই। সিন্ডিকেট আমদানির কাগজপত্রে হাজার হাজার টন পেঁয়াজ আনার চিত্র দেখালেও বাজারে ছাড়া হয়েছে সামান্য। এভাবে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নেয়া হয়েছে। অথচ মিয়ানমারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা হয়েছে মাত্র ৩২ টাকায়।

এমনিতেই দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে, তার ওপর পেঁয়াজের দাম বাড়ায় যেন বাজ পড়ছে ভোক্তাদের মাথায়। প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো দেখার কি কেউ নেই? কথায় আছে, দুর্জনের ছলের অভাব হয় না। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর লাভ ও লোভের কারণেই যে পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। মুনাফালোভী এই মানসিকতা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। টিসিবিকে কার্যকর করে একটি প্যারালাল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রেখে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা যায়। জনমনে প্রশ্ন পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হল কী করে। এক্ষেত্রে কী কারো কোনো দায়-দায়িত্ব নেই?

যে কোনো উসিলায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইন-কানুন নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই এখানে। ভোক্তাদের পকেট কাটা হবে আর সরকার শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে এটা হতে পারে না। বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। অবিলম্বে পেঁয়াজের মূল্য জনসাধারণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে যার যা করণীয় রয়েছে সেটি করতে হবে। এজন্য সরকার-ব্যবসায়ী সব পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। ত্যাগ করতে হবে মুনাফালোভী মানসিকতা।

এইচআর/পিআর

দেশটা মগের মুল্লুক হয়ে গেছে নাকি পেঁয়াজের মুল্লুক সেটা বলা মুশকিল। নাহলে ৩২ টাকায় কেনা পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয় কী করে? তাও আবার দিনের পর দিন। পেঁয়াজ নিয়ে কম কথা হয়নি। বিমানে করেও পেঁয়াজ আনা হলো। কিন্তু বাজারে এখনো উচ্চমূল্যে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এর একটা বিহিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যে কোনো উপায়ে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে