পর্যটন স্পট সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:০৭ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

পর্যটনে অপার সম্ভাবনা বাংলাদেশের।ষড়ঋতুর এই দেশে প্রকৃতি যেন উজাড় করে ঢেলে দিয়ে সব সৌন্দর্য।কক্সবাজারের কথাই ধরা যাক। কক্সবাজার উখিয়া উপজেলার ইনানী বিচে রয়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ সড়ক। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতের পাশ দিয়ে এই নয়নাভিরাম এই সড়ক দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে এমনটি আশা করা যায়।

পর্যটন বাংলাদেশের এক অমিত সম্ভাবনাময় খাত। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ঐতিহ্যমণ্ডিত বিভিন্ন স্থাপনা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু পর্যটন শিল্পের বিকাশ ততোটা হয়নি যতোটা হওয়া উচিত ছিল। এ জন্য এক্ষেত্রে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আসলে পর্যটন কোনো একক বিষয় নয়। পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতারও একটি দিগন্ত উন্মোচিত হয়। যা শেষ পর্যন্ত কূটনীতিক সাফল্যে পরিণত হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পর্যটন শিল্পের বিকাশ আরও জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, অফুরন্ত পর্যটন সম্ভাবনার এক দেশ। সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা, অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের জন্য খুবই সম্ভাবনাময়। বিশ্ব মানচিত্রে একটি নতুন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার জন্য এদেশে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপাদানই রয়েছে। প্রকৃতি দুহাত উজাড় করে দিয়েছে বাংলাদেশকে। কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের অপার সৌন্দর্য, সেখানকার বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন-যাপন, সিলেটের জাফলং, ময়মনামতি বৌদ্ধ বিহারসহ দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য পর্যটন স্পট।

পর্যটনের বিকাশ হলে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, বাড়বে মানুষের কর্মসংস্থান। এ কারণেই পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পর্যটন স্পটগুলোতে যাতায়াত থাকা খাওয়ার সু ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভিসা জটিলতাও বন্ধ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ভিন্ন সংস্কৃতির ধারক বিদেশি পর্যটকদের জন্য উদার নীতি গ্রহণ করলে পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করা যাবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও রক্ষা করতে হবে।

পর্যটন স্পটগুলো সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সুন্দরবন ইতিমধ্যেই হুমকির মুখে। রয়েল বেঙ্গল টাইগারও বিলুপ্ত হওয়ার পথে। নদ-নদী, খাল-বিল দখল দূষণে মরে যাচ্ছে। নদী না বাঁচলে বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে ব্র্যান্ডিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে জোর প্রচারণা চালাতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প কর্পোরেশন ও ট্যুরিজম বোর্ডকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

এইচআর/এমএস

‘পর্যটনের বিকাশ হলে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, বাড়বে মানুষের কর্মসংস্থান। এ কারণেই পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। পর্যটন স্পটগুলোতে যাতায়াত থাকা খাওয়ার সু ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভিসা জটিলতাও বন্ধ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ভিন্ন সংস্কৃতির ধারক বিদেশি পর্যটকদের জন্য উদার নীতি গ্রহণ করলে পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করা যাবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও রক্ষা করতে হবে।’