আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা কেন?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

রাজধানী ঢাকা অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে উঠার কারণে এর কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। আবাসিক এলাকাতেও রয়েছে বাণিজ্যিক স্থাপনা। শুধু তাই নয় সারাবছর ধরে নির্মাণযজ্ঞ চলতেই থাকে। এরফলে নাগরিক দুর্ভোগ যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধুলো দূষণে তো মানুষের শ্বাস নেওয়াই দায়। এ অবস্থা রাজধানীকে বাস উপযোগী করতে হলে সবকিছু পরিকল্পনামাফিক করতে হবে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় যেন কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা হতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো মূল্যে।

এর আগে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ধানমন্ডি এলাকার সকল অবৈধ স্থাপনা আগামী ১০ মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, আবাসিক এলাকার মধ্যে স্থাপিত সকল বাণিজ্যিক স্থাপনাও এই সময়ের মধ্যে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে এ ধরনের নির্দেশনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে দুরাশার কথা হলো কোর্টের নির্দেশও অনেক সময় বাস্তবায়ন হয় না।

সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর গড়ে উঠেছে একেবারেই অপরিকল্পিতভাবে। নাগরিক সুযোগ সুবিধার অনেক কিছুই এখানে অনুপস্থিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপে বিশ্বের বসবাসের উপযোগিতার বিবেচনায় সবচেয়ে অযোগ্য শহর হিসেবে ঢাকার নাম ওঠে এসেছে। এরচেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে! এই অবস্থা যে আমাদের জন্য গৌরবজনক নয় সেটি কি বলার অপেক্ষা রাখে?

আসলে পরিকল্পিত নগর বলতে বুঝায় একটি পরিকল্পিত জনবসতি। যার সবকিছু হবে পরিকল্পনা অনুযায়ী। কোথায় স্কুল কলেজ হাসপাতাল হবে, অফিস আদালত কোথায়, কোথায় বসবাসের জায়গা সবকিছুই হবে পরিকল্পনামাফিক। পরিকল্পনামাফিক সবকিছু হলে প্রত্যেক নগরেই মানুষ শৃঙ্খলাপূর্ণ নাগরিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করে। এতে তার নাগরিক জীবন হয় মর্যাদাপূর্ণ, গ্রাম কিংবা মফস্বলের তুলনায় উন্নততর, স্বস্তিদায়ক। কিন্তু এই নগরই আবার পরিকল্পনাহীনভাবে বেড়ে উঠলে তাতে নাগরিকদের জীবন অস্বস্তিকর হয়ে হঠে। জনজীবনকে তা বিপর্যস্ত করে ফেলে। মানুষের ভোগান্তির কোনো শেষ থাকে না।

বস্তুত ঢাকা এখন নানা দিক থেকেই ভোগান্তির নগরীতে পরিণত হয়েছে। তাই একে বাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পনামাফিক সবকিছু হতে হবে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। নগরী যাতে বিশিষ্টতা না হারায় সেটি নিশ্টিত করতে হবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে দেখতে চায় মানুষজন।

এইচআর/এমকেএইচ

বস্তুত ঢাকা এখন নানা দিক থেকেই ভোগান্তির নগরীতে পরিণত হয়েছে। তাই একে বাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পনামাফিক সবকিছু হতে হবে। আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। নগরী যাতে বিশিষ্টতা না হারায় সেটি নিশ্টিত করতে হবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে দেখতে চায় মানুষজন।