হত্যা নাকি আত্মহত্যা?

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ২২ মে ২০২০

মফিজুর রহমান পলাশ

দুজনই উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী। দুজনের অফিসও একটা। পার্থক্য শুধু একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, আর অন্যজন তারই অধীনে জুনিয়র পদে চাকরি করেন। বলছিলাম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন ও তার জুনিয়র সহকর্মী সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমের কথা। তাদের কর্মস্থল গাজীপুর সিটি করপোরেশন।

কর্মস্থল গাজীপুর হলেও তারা দুজনই ঢাকা থেকে আসা-যাওয়া করে কর্মসম্পাদন করতেন। অফিসের দিনে দুজনই একটি বেসরকারি কোম্পানির সৌজন্যে পাওয়া হাইস মাইক্রোবাসে করে ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানা রোড থেকে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতেন।

এ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। আর দশজন চাকরিজীবীর মতোই নিত্য তারা অফিসে যাওয়া-আসা করছিলেন। অফিসের বাইরে পরিবারের সাথে সময় পার করছিলেন। হয়তো কায়মনোবাক্যে চাইছিলেন সর্বনাশী করোনায় সংক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরতে। কিন্তু মরা-বাঁচা শুধু করোনাভাইরাসের ওপর নির্ভর করে না সাদা চোখে এর বাইরে তখন পর্যন্ত আর কিছু দৃশ্যমান হয়নি।

ভেতরে ভেতরে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে সহকারী প্রকৌশলীর মনোমালিন্য চলছিল- এটা জানতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কীসের মনোমালিন্য হতে পারে একই অফিসে কর্মরত সিনিয়রের সাথে তারই এক জুনিয়রের? দুজনের কাজের ধরন ও পদ্ধতি আলাদা। পেশাগত ঈর্ষা? সম্পদ? না অন্য কিছু? যাহোক, এক পর্যায়ে জুনিয়র প্রকৌশলী সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিরতরে শেষ করে দেবেন! এ জন্য একটি পরিকল্পনাও আঁটলেন তিনি!

আপনারা যারা ভাবছেন একজন জুনিয়র সহকর্মী হয়ে কেমনে সামান্য মনোমালিন্যকে কেন্দ্র করে তারই সিনিয়র সহকর্মীকে হত্যার আয়োজন করতে পারেন তাদের জন্য বলছি পুলিশি জীবনে এমন অহরহ ঘটনা দেখি যেখানে মাত্র ১০০ টাকার জন্য ছোটভাইয়ের হাতে আপন বড় ভাই খুন হওয়ার মতো নিদারুণ ঘটনাও ঘটে আমাদের এই মনুষ্য সমাজে। বাবার হাতে সন্তান বা সন্তানের হাতে বাবা-মা হত্যার ঘটনা তো নতুন কিছু নয়!

এরই মধ্যে পুলিশ একটা মরদেহ উদ্ধার করে রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকা থেকে। পত্রিকায় ফলাও করে খবরও ছাপা হলো। কী ভাবছেন? পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ জানতে মরদেহটি যে এলাকায় পাওয়া যায় সেই উত্তরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শচীন মৌলিকের দ্বারস্থ হলাম।

ডিএমপির এই তরুণ কর্মকর্তা জানালেন, চলতি মে মাসের ১১ তারিখে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরে অজ্ঞাতনামা একটি লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দেন। সংবাদ পেয়ে তুরাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝোপের মধ্যে একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের গলায় এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন দৃশ্যমান ছিল।

পুলিশের এই সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জানালেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাটি তাদের কাছে পরিকল্পিত খুন বলে মনে হয়। অজ্ঞাত পরিচয়ের মৃতদেহটি শনাক্তের জন্য র্যাব সদর দফতরের সহায়তা নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় উদঘাটন করা হয়। এরপর শনাক্তকৃত ঠিকানায় যোগাযোগ করে জানা গেল, মৃত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন! পেশায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী!

নিহতের স্ত্রীকে ডেকে ঘটনাস্থল তুরাগ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা শচীন মৌলিক জানালেন, হত্যা মামলাটি তদন্তকালে প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ততথ্য বিশ্লেষণ করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (অঞ্চল-৭) সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমসহ (৪১) বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী রাশেদ ও প্রকৌশলী সুফিয়ানকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভিকটিমের বাসার আশপাশে এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন প্রত্যেক অপরাধীই তার অপকর্মের কোনো না কোনো প্রমাণ রেখে যান। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। পুলিশ যেসব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভিকটিমের বাসার অদূরে একটি হায়েস মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে। সাদা পিপিই পরিহিত এক ব্যক্তির সাথে শার্ট প্যান্ট পরা ব্যক্তি অপেক্ষা করছেন কারো জন্য।

ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎই ওই দুই ব্যক্তি একটা রিকশা থামিয়ে রিকশাচালকের মোবাইল ফোন থেকে কাকে যেন কল করলেন। কিছুক্ষণ পর রিকশাওয়ালার সেলফোনে ফিরতি কল আসলে তারা দ্রুত ভিকটিমের বাসার দিকে গাড়ি নিয়ে রওনা দেন।

তদন্তকারী পুলিশ জানাচ্ছেন, সাদা পিপিই পরিহিত ব্যক্তির সাথে সহকারী প্রকৌশলী সেলিমের দেহের আকৃতির মিল পাওয়া যায়। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে ওই রিকশাওয়ালকে আটক করে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, পিপিই পরিহিত ব্যক্তি আর প্রকৌশলী সেলিম একই ব্যক্তি। সেলিমের সাথে আরও একজন ব্যক্তি ছিলেন। রিকশাওয়ালার মোবাইল থেকে কল করে মাইক্রোবাস নিয়ে যাওয়ার সময় রিকশাওয়ালাকে ১০০ টাকা ধরিয়ে দেয়া হয়।

বিষয়টা কিছুটা পরিস্কার হলো। কিন্তু সহকারী প্রকৌশলীর সাথে শার্ট প্যান্ট পরা কে সেই ব্যক্তি যাকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেল? ডিএমপির উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান বিষয়টি ক্লিয়ার করলেন।

সহকারী প্রকৌশলী সেলিমের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাদা পিপিই ও কালো জুতা পরিহিত একজন ব্যক্তি বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত পিপিই, জুতা ও দেহের আকৃতির সাথে ঘটনার সাথে জড়িত পিপিই পরিহিত ব্যক্তির হুবহু মিল রয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন সিসিটিভির ওই ব্যক্তি প্রকৌশলী সেলিমকে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জানালে এক পর্যায়ে হত্যার সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেন এই জুনিয়র কর্মকর্তা।

এ তো বললাম সরল বিবরণ। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে সহকর্মীকে হত্যার মতো ঘটনা আদতে এত সরল হয় না।

হত্যার মোটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে উত্তরার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান সরদার আগের কথার প্রতিধ্বনি করলেন। তিনি জানালেন নিহত প্রকৌশলী দেলোয়ার ও প্রকৌশলী সেলিম একই অফিসে সহকর্মী ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তাদের মধ্যে বনিবনা হতো না।

তাহলে সিসিটিভিতে ধরা পড়া শার্ট প্যান্ট পরিহিত সেই ব্যক্তির পরিচয় কী?

এর উত্তর দিলেন উত্তরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শচীন মৌলিক। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির নাম শাহীন যিনি প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী। পঞ্চারোর্ধ শাহীন ভাড়ায় আসেন ঘৃণ্যতম একটি হত্যাকাণ্ডের সহায়ক হয়ে। আপাত নিরীহ মাইক্রোবাসের ড্রাইভার হাবিবকে সঙ্গে নেন সেলিম। মোট ৪০০০ টাকায় মিরপুর থেকে উত্তরার কথা বলে গাড়ি ভাড়া করেন সেলিম। ড্রাইভার গাড়ি চলানোর দায়িত্বে ছিলেন আর নীরবে সহায়তা করে যাচ্ছিলেন তারই গাড়ির মধ্যে জীবন্ত একজন মানুষ হত্যায়। জুরিসপ্রুডেন্স বা অপরাধ বিজ্ঞান বলে অপরাধ করা আর জেনেবুঝে অপরাধে সহায়তা করা- দুটোই সমান অপরাধ। শাস্তিও সমান। ড্রাইভার হাবিবের বিরুদ্ধে আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি ওটাই হওয়ার কথা।

প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সেলিম ও তাঁর অন্য দুই সহযোগী মাইক্রোবাস নিয়ে প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে তাকে গাড়িতে উঠান। গাড়িটি রূপনগর বেড়িবাঁধে পৌঁছালে সেলিমের ইশারায় মাইক্রোবাসের পেছনে লুকিয়ে থাকা আপাত ভদ্রবেশী ঘাতক শাহীন দেলোয়ারের গলায় রশি দিয়ে পেঁচিয়ে টান দেন এবং সেলিম তাঁকে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর মৃতদেহটি ১৭ নম্বর সেক্টরের খালি জায়গায় ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় দেলোয়ারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দিয়াবাড়ির তিন নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন লেকে ফেলে দেন। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা পারস্পরিক যোগসাজশে একজন মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে গেলেন। ঘটনা এখানে কবর হয়ে যেতে পারত। কিন্তু ধর্মের কল যে বাতাসে নড়ে! ডিএমপির উত্তরা ডিভিশনের তদন্তদল রাত-দিন অমানুষিক পরিশ্রম করতে থাকেন। একটা একটা প্রশ্নের জট খুলতে থাকে। এক পর্যায়ে ঘটনা প্রায় জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়।

কিন্তু প্রকৌশলী সেলিম তার সহযোগী শাহীনকে নিয়ে হাবিবের মাইক্রোবাসটি কেন ভাড়া করলেন? শুরুতেই বলেছি তারা দুই সহকর্মী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সৌজন্য দেয়া একটি হাইস গাড়িতে অফিসে যাওয়া-আসা করতেন। তাহলে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মিলে যায় সরল অংকের জটিল সমাধান একটা বড় শূন্য! দুই প্রকৌশলী প্রতিদিন ঢাকা থেকে যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোবাসে গাজীপুর যাওয়া-আসতেন সেটার দায়িত্বে ছিলেন দুজন প্রকৌশলী। তারা হলেন সুফিয়ান ও রাশেদ।

ঘটনার আগের দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় হত্যার পরিকল্পনাকারী সেলিম ফোন করে সুফিয়ানকে জানান পরের দিন গাড়ি পাঠানো লাগবে না। সেলিম জানান, দেলোয়ার স্যার অন্য গাড়িতে অফিসে যাবেন। মূলত এটা ছিল ষড়যন্ত্রকারীদের একটা কৌশল।

এদিকে পরের দিন অফিসে যাওয়ার সময় দেলোয়ার গাড়ি না দেখে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সুফিয়ানকে ফোন করে গাড়ি না পাঠানোর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান- সেলিম স্যার গাড়ি পাঠাতে নিষেধ করেছেন। প্রকৌশলী রাশেদকে কল করলে তিনিও একই উত্তর দেন।

ষড়যন্ত্র পরিষ্কার হয়। সিনেমার শেষ দৃশ্যের মতো একটা হত্যা মামলার তদন্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশের জালে আটকা পড়েন সহকারী প্রকৌশলী সেলিম, ড্রাইভার হাবিব ও সেলিমের ভাড়াটে সহযোগী শাহীন।

তদন্তের অন্যতম দায়িত্বপালনকারী ও উত্তরার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামরুজ্জামান সরদার জানালেন, এই ঘটনায় ২১ মে গ্রেফতারকৃত শাহীন ও হাবিব আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন এবং বিজ্ঞ আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সেলিমকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এডিসি কামরুজ্জামান সরদার বলেন, তদন্ত অব্যাহত আছে, অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রিয় পাঠক! চলতি মাসের ১১ তারিখে একটা অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হলো আর ২১ তারিখে ভদ্র ও উচ্চশিক্ষিত একজন প্রকৌশলী হত্যার দায়ে আটক হয়ে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেন অভিযুক্তরা। সময় তো মাত্র ১০ দিন। ষড়যন্ত্রকারীদের এত দিনের পরিকল্পনা মাত্র দশ দিনে উৎঘাটন করে সত্যিই বড় ধরনের বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগ।

সহকারী পুলিশ কমিশনার শচীন মৌলিক জানালেন, ঘটনার সুরাহা করতে সিনিয়র কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তারা অবিরাম কাজ করে গেছেন। ঘটনা উৎঘাটনের আগ পর্যন্ত একটা দিনও তিনি বাসায় যেতে পারেননি। তদন্তদলের পরিশ্রমের ফসল এই অপরাধীর শনাক্ত করে হত্যার মোটিভ বের করা ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে দুই সহকর্মীর সম্পদের হিসাব। নির্বাহী প্রকৌশলী ও নিহত দেলোয়ার সৎ জীবনযাপন করতেন। তিনি পরিবার নিয়ে ৬৫০ বর্গফুটের ছোট্ট একটা ফ্লাটে বসবাস করতেন। টাকার সংকুলান না হওয়ার ছেলেকে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে পারেননি।

অন্যদিকে পুলিশ জানায়, সহকারী প্রকৌশলী সেলিম ছোট পদে চাকরি করেও বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। কাফরুলে আছে বিলাসবহুল ফ্লাট। এর বাইরেও নামে বেনামে ঢাকা শহরে জায়গা, ফ্ল্যাট, প্লটসহ অনেক সম্পত্তির মালিক অভিযুক্ত সেলিম।

অংকের শিক্ষক বলতেন সরল অংক জটিল হয়। একটা হত্যাকাণ্ড তো একটা সরল অংকের মতোই। এই যে অংকের মতো হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বের হলো, এক একটা পর্যায় পার হলো, আসামী গ্রেফতার হলো এবং সবকিছু ঠিক থাকলে এদের শাস্তিও হবে একদিন। সরল অংকের একটা একটা লাইন পার হয় আর উত্তর কাছে চলে আসে। সরল অংকের উত্তর জিরো হওয়ার মুদ্রাদোষ রয়েছে!

এই যে একটা হত্যাকাণ্ড ঘটল, এতে কে জিতল? নাকি দুপক্ষই বড় আকারের একটা শূন্য পেল সরল অংকের শূন্য উত্তরের মতোই?

ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা? অন্যকে হত্যা করা কি নিজে আত্মহত্যার শামিল নয়?

যারা এতক্ষণ সাথে আছেন তাদের কাছে প্রশ্ন রেখে শেষ করলাম।

লেখক : সহকারী পুলিশ কমিশনার
মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস ডিভিশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
ইমেইল: palash.du09@gmail.com

এইচআর/বিএ/এমএস