মাসিক, ট্যাবু এবং উত্তরণের পথ

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০১ এএম, ০১ জুন ২০২০

জান্নাতুন্নাইম মনিরা

মাসিক কথাটি বলার সাথে সাথেই আমাদের দেশের অধিকাংশ নারীই লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলবে। আর অধিকাংশ ছেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। মাসিক আমাদের কাছে একটি নিষিদ্ধ বিষয়। অথচ মানবজাতির জন্মপ্রক্রিয়া থেমে যেত যদি নারীদের মাসিক না হতো। কিন্তু মানবজাতির জন্মের সাথে সম্পৃক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আমাদের কুসংস্কারের শেষ নেই। পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন (এমনকি মুদি দোকান) সবখানেই চলে কানাকানি। এই কুসংস্কারের মূলে রয়েছে মাসিক সম্পর্কে আমাদের সঠিক জ্ঞান এবং সচেতনতার অভাব। কিন্তু এর জন্য আমরা ছেলেমেয়েদের দায়ী করতে পারি না। আমাদের সমাজব্যবস্থা বিষয়টিকে এমনভাবে নিষিদ্ধ করে রেখেছে যে কেউই এ বিষয়ে খোলাখুলি কথা বলতে পারে না।

আজও বাবা, মা ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান একসাথে বসে টিভির পর্দায় ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন দেখতে পারেন না। এমনকি স্কুল-কলেজের শারীরিক শিক্ষা বইয়ের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনের অনুশীলনীগুলো সুকৌশলে এড়িয়ে যান শিক্ষকরা। অথচ একটু খোলামেলাভাবে বললেই মেয়েরা যেমন তাদের শরীর সম্পর্কে সচেতন হতে পারত, তেমনি ছেলেরাও জানতে পারত এই সময়টাতে মেয়েদের ঠিক কী হয়।

মাসিক কী? একজন মেয়ে হিসেবে আপনার রিপ্রোডাক্টিভ অরগ্যান, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং মাসিক সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আছে কি? আর ছেলেদের কাছে প্রশ্ন আপনার স্ত্রী, বোন কিংবা মেয়ের মাসিক সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন? খুব স্বাভাবিকভাবেই ছেলে ও মেয়ের উত্তর প্রায় একই রকম হবে। তাদের উত্তরে বাচ্চা হওয়ার জন্য মাসিক হয় বলাটাই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বাচ্চা হওয়ার জন্য মাসিক কেন হতে হয়? এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে ছেলেদের ভেতর একধরনের কৌতূহল কাজ করে। আর মেয়েদের এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের অভাবের কারণে এটি ট্যাবু হয়ে যায়। এই ট্যাবু আমাদের ভাঙতেই হবে, নতুবা আমরা আমাদের প্রজন্মকে সঠিকভাবে সামনে নিতে পারব না।

মাসিক বা রজঃচক্র কোনো অসুখ নয়। পৃথিবীর সকল নারীকেই এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বা পদ্ধতির মাধ্যমে যেতে হয়। একজন কিশোরীর জন্য প্রথম সংকেত যা বলে দেয় সে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে শিশুবয়স থেকে পরিণত বয়সের দিকে যাচ্ছে। খুব সহজ কথায় মুন ক্যালেন্ডার বা চন্দ্রমাস অনুযায়ী হরমনের প্রভাবে পরিণত মেয়েদের জরায়ু চক্রাকারে যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় এবং প্রতিমাসে হরমনের প্রভাবে মেয়েদের যোনিপথ দিয়ে যে রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত তরল বের হয়ে আসে এই অবস্থাই মাসিক বা ঋতুস্রাব বা রজঃচক্র। মাসিক সাধারণত ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সে শুরু হয়ে ৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মাসিকের কারণ হিসেবে দেখা যায় যে সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে মেয়েদের শরীরে একটা পরিবর্তন আসে। এ সময় মেয়েদের শরীরে ডিম্বাণু উৎপন্ন শুরু হয়। প্রতিমাসে ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ক ডিম্বাণু বের হয়ে ডিম্ববাহী নালীতে আসে এবং একইসাথে জরায়ুতে রক্তে ভরা নরম পর্দা তৈরি হয়। যদি এই সময় যৌনমিলন হয় তাহলে পুরুষের শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণু মিলিত হয়ে ভ্রুণ তৈরি হয়। এই ভ্রুণ রক্তে ভরা নরম পর্দায় গিয়ে বসে এবং ধীরে ধীরে বড় হয়ে শিশুতে পরিণত হয়। যদি শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণুর মিলন না ঘটে তাহলে এই পর্দার আর প্রয়োজন হয় না। তখন এই রক্তে ভরা নরম পর্দা ডিম্বাণুসহ মাসিক হিসেবে যোনিপথ দিয়ে বের হয়ে আসে।

মাসিক বা ঋতুস্রাবকে তিনটি ফেজ বা দশায় ভাগ করা হয়। যেমন:

১. মেন্সস্টুয়াল ফেজ

এটি সাধারণত চার থেকে সাতদিন স্থায়ী হয়। এ সময় যোনিপথ দিয়ে রক্ত বের হয়। চার থেকে সাতদিন স্থায়ী হওয়া এই রক্তপাতে ভেঙে যাওয়া রক্তকণিকা ছাড়াও এর সাথে শ্বেত রক্তকণিকা, জরায়ুমুখের মিউকাস, ব্যাকটেরিয়া, প্লাজমিন ও অনিষিক্ত ডিম্বাণু থাকে। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের যৌথ ক্রিয়ায় এই পর্বটি ঘটে।

২. প্রলিফারেটিভ ফেজ

সাধারণত আট থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। এই সময়ে জরায়ু নিষিক্ত ডিম্বাণু গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আট থেকে ১০ দিন স্থায়ী এ পর্বটি শুধু ইস্ট্রোজেন হরমনের প্রভাবে হয়ে থাকে।

৩. সেক্রেটরি ফেজ

ফেজটির স্থায়িত্ব তুলনামূলক সবচেয়ে দীর্ঘ হয়ে থাকে। এটিকে প্রজেস্টেরন বা লুটিয়াল ফেজও বলা হয়। ইস্ট্রোজন ও প্রজেস্টেরন উভয় হরমোনের যৌথ কারণে এটি ঘটে। এই সময়ে নিষিক্ত ডিম্বাণুর বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নিয়ে থাকে ডিম্বাশয়ের কোনো ডিম্বাণু জরায়ু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত না হলে জরায়ু আবার মেন্সস্টুয়াল ফেজ এ চলে যায়। আর এভাবেই পূর্ণ বয়স্ক মেয়েদের ঋতুচক্র চলতে থাকে।

মাসিকের সময় মেয়েদের শরীর থেকে যোনিপথ দিয়ে রক্তপাত হয়। প্রতিবার মাসিকের সময় ১০-৮০ মিলি রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে যায়। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মতে, প্রতিমাসে এক কাপ পরিমাণ রক্ত বের হয়। রক্তপাতের পরিমাণ কারও কারও ক্ষেত্রে কম বা বেশি হতে পারে। তবে ১০ মিলির কম কিংবা ৮০ মিলির বেশি রক্তপাত হলে তাকে স্বাভাবিক ধরা যায় না। এক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

এই সময়ে অবশ্যই যথাযথ উপায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এবং বিভিন্ন মানের স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যায়। তবে সেগুলো যে মানেরই বা ব্র্যান্ডের হোক না কেন তা কোনোভাবেই চার ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না। অনেক মেয়েই এটিকে টাকা অপচয় মনে করে এবং যত অল্প পরিমাণ ন্যাপকিনে কাজ চালানো যায় সেই চেষ্টাই করে। কিন্তু এটি খুব বড় বিপদের কারণ হতে পারে। আপনার সাজসজ্জা করার জন্য যদি ২০০ টাকা বরাদ্দ করা থাকে তাহলে তা না করে স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার জন্য ব্যয় করুন।

মাসিকের প্রথম দুইদিন যেহেতু বেশি ব্লিডিং হয় সেহেতু এই সময়ে বেশি বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ন্যাপকিন যদি ভিজে যায় তাহলে কোনোভাবেই এটি আর ব্যবহার করা উচিত হবে না। মাসিকের চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে রক্তপাতের পরিমাণ অনেক কমে যায়। অনেকে এই সময়টাতে একটি ন্যাপকিন দিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেয়। এটা করা কোনোভাবেই উচিত নয়। কারণ এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ কেননা প্যাডে ন্যাপকিনের জমে থাকা রক্ত দ্রুত শুকিয়ে গিয়ে জীবাণুতে পরিণত হয় এবং সেই জীবাণু যোনিপথের সংস্পর্শে এসে চুলকানি, ফোঁড়া, যৌনাঙ্গের নানা রকম অসুখ যেমন ফাঙ্গাস, ইনফেকশন ইত্যাদি সৃষ্টি করে।

আবার অনেকে লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যায়- এমন স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এই ধরনের প্যাডে সেলুলোজ জেল নামে এক ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয় যেটি জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। যদিও ইদানীং স্যানিটারি ন্যাপকিন ছাড়াও মেন্সস্টুয়াল ক্যাপ এবং ট্যাম্পুনের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। আরামদায়ক মনে করলে নিয়ম মেনে সেগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।

মাসিক চলাকালীন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই জরুরি। প্রতিবার ন্যাপকিন পরিবর্তনের সময় যৌনাঙ্গ খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এ সময় পেটব্যথা খুবই কমন একটি বিষয়। প্রায় সব মেয়ের ক্ষেত্রেই এমন হয়ে থাকে। প্রতিরোধক হিসেবে হট ওয়াটার ব্যাগে গরম পানির ভাপ দেয়া যেতে পারে। তবে পেটব্যথা যদি তীব্র হয়ে থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এ সময় যেহেতু শরীর থেকে বেশ পরিমাণ রক্ত বের হয়ে যায় সে জন্য শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য এ সময় বেশি পরিমাণ আয়রন জাতীয় খাবার খেতে হবে।

মাসিকের সময় মুড সুইং খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। এই সময় মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। অনেক সময় এটি পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিকার হিসেবে বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম ও মেডিটেশন করা যেতে পারে। পরিবারের উচিত এই সময়টাতে তাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দেয়া এবং নমনীয় হওয়া।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু ঘটনা তুলে ধরছি। এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমেই মাসিককে আমরা যে ট্যাবু বানিয়েছি এবং তার পরিণামে আমরা যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

ঘটনা ১

রেহানা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান প্রথম বর্ষের ছাত্রী। স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনার জন্য তার ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনের মুদি দোকানে দাঁড়িয়ে আছে। দোকানের সামনে তার পরিচিত কয়েকটি ছেলেও দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। তাই সে বেশ ইতস্ততবোধ করছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সে কোনোরকম ইশারা ইঙ্গিতে দোকানদারকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে তার স্যানিটারি ন্যাপকিন লাগবে। দোকানদার ইশারা বুঝে কালো পলিথিনে মুড়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন তার হাতে দেয়।

দোকানদার ইশারা বোঝার সাথে সাথে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেরাও এটি বুঝে ফেলে এবং তারা এটা নিয়ে মজা করতে থাকে। একজন পাশের জনকে জোরে প্রশ্ন করে, ‘বলতো মামা স্যানিটারি ন্যাপকিন আর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মধ্যে মিল কোথায়?’ পাশের জন শ্লেষের সাথে বলে, ‘কোথায়?’ তখন প্রশ্নকারী উত্তর দেয়, ‘গিভ মি ব্লাড, আই উইল গিভ ইউ ফ্রিডম।’

বলার সাথে সাথেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে তারা। রেহানা লজ্জায় কী করবে ভেবে পাচ্ছিল না। তার মনে হতে থাকল সেই মুহূর্তে যেন সে মাটির সাথে মিশে যায়। কালো পলিথিন মোড়ানো ব্যাগ নিয়ে সে দ্রুত সেখান থেকে বেড়িয়ে যায়। এটি আমাদের দেশের অনেক অনেক কমন ঘটনা।

ঘটনা ২

নিরা ক্লাস সেভেনে পড়ে। ছুটির দিনে বাবা-মায়ের সাথে বসে টিভিতে নাটক দেখছে। নাটকের একপর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিজ্ঞাপন শুরু হলো। সাথে সাথেই তার বাবা টিভির চ্যানেলটি পরিবর্তন করে দিলেন। নিরা ছোটবয়স থেকেই বুঝতে শুরু করল এটি গোপন ব্যাপার, সবার সামনে বসে এটা দেখা যায় না কিংবা এসব নিয়ে আলোচনাও করা যায় না।

ঘটনা ৩

এটি খুবই অদ্ভূত একটি ঘটনা। এটি সাধারণত নেপালি প্রেক্ষাপটে ঘটে থাকে। তাদের একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করে যে মাসিকের সময় একজন মানুষ অপবিত্র হয়ে যায়। আর সে জন্য তাকে কিছুদিনের জন্য আলাদা কুঁড়েঘরে একা রেখে আসা হয়। এমনকি তার খাবার, জামাকাপড় সবকিছুই সেখানে আলাদা করে রাখা হয়। ভাবতে অবাক লাগলেও এটিই সত্য ঘটনা।

ঘটনা ৪

জেবা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আজ তার বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। কিন্তু সকালেই তার মাসিক হয় এবং পেটব্যথা শুরু হয়। পরীক্ষা দিতে যাবে কি যাবে না এই নিয়ে ওর মনে দোটানা সৃষ্টি হয়। কাউকে সেভাবে বলতেও পারে না। কী করা উচিত তার? অবশেষে সে পরীক্ষায় উপস্থিত হয় না। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করায় সে ড্রপআউট হয়ে যায়। আর এর কারণেই প্রতিবছর হাজার হাজার ছাত্রী ড্রপআউট হয়ে যায়।

এই ট্যাবু আমাদের ভাঙতেই হবে। সচেতন করতে হবে সবাইকে। সবাই মিলে যদি আমরা এগিয়ে আসি তবেই এটি সম্ভব। তবে কিছু পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন-

> মাসিক সংক্রান্ত ট্যাবু ভাঙতে পরিবারকে সবচেয়ে বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। একটি ছেলে বা মেয়ের প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র পরিবার। বাবা-মা যদি তাদের ছেলেমেয়েদের সাথে এই বিষয়টা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে এবং সঠিক তথ্য জানায় তাহলে ট্যাবু দূর হয়ে যাবে।

> পরিবারের বাইরে অন্যতম ভূমিকা বিদ্যালয়কে গ্রহণ করতে হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনগুলো খুব সুন্দরভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন। এতে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের লজ্জা, সংকোচ দূর হবে। সাথে সাথে এই বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং টিমও গঠন করতে পারে।

> বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এই বিষয়ে আরও ব্যাপক অর্থে আলোচনা থাকতে পারে।

> আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ জন্য ফ্রেশারদের এগিয়ে আসতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এটা নিয়ে কথা বলতে হবে।

> সচেতনতামূলক সিনেমা বা প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা যেতে পারে। কিছুদিন আগে একটা ম্যাগাজিনে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা অক্ষয় কুমার তার প্যাডম্যান সিনেমার আলোকে একটি সুন্দর আর্টিকেল লিখেছেন। আর তার এই প্যাডম্যান সিনেমাটির মূল লক্ষ্যই ছিল মাসিক নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো।

লেখক : সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ ইবি ও ইন্টারন্যাশনাল ইয়ং প্রোফেশনাল।

এইচআর/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]