অনলাইন ক্লাস ও একটি প্রস্তাবনা

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫০ পিএম, ৩০ জুন ২০২০

আহসান জোবায়ের

করোনার প্রাদুর্ভাবে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটির মেয়াদ আরও বাড়তে পারে, এই সম্ভাবনাই প্রবল। এর মধ্যে সেশনজট কমাতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম থেকেই ইউজিসির অনুমোদন নিয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু করে। সরকারি উদ্যোগে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ক্লাস টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হচ্ছে। এখন সেই পথে হাঁটতে যাচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। ইতিমধ্যে ইউজিসি অনলাইন ক্লাস নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

স্বাভাবিকভাবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসের যৌক্তিকতা নেই বরং এটি বৈষম্যমূলক। শিক্ষার্থীদের কাছে ভালো নেটওয়ার্ক সুবিধা নেই, স্মার্ট ডিভাইসও সবার কাছে নেই। যাদের সামর্থ আছে তারা অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারবে আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা যোগ দিতে পারবে না। এতে করে ‘সামর্থ্যবান ও সামর্থ্যহীন’ দুটি শ্রেণি বৈষম্য তৈরি হবে। তবে পরিস্থিতিতে যেভাবে অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে, অনলাইনে ক্লাস নেয়া গেলে ভালো হতো, আমাদের এই সময়টা নষ্ট হতো না। অনলাইনে ক্লাস নিলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। অনলাইনে তো আর ল্যাব করা সম্ভব না, ল্যাব ছাড়া কিছু বুঝবেও না। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হবেন। আমাদের শিক্ষকদেরও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই অনলাইন ক্লাসের। আর করোনার প্রভাবে ক্ষতিটা তো সর্বোপরি অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি- বৈশ্বিকভাবে সবকিছুরই হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই ক্ষতিটা সবার মেনে নিতেই হবে। শিক্ষিত বেকার তৈরি করে বরঞ্চ আমাদেরই ক্ষতি।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্তে- শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস করার যাবতীয় ইন্টারনেট খরচ দেয়া, অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করার জন্য ডিভাইসের ব্যবস্থা করা, টেলিকম অপারেটরদের সহযোগিতা নিয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য স্বল্পমূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা, ক্লাস উপস্থিতি নাম্বার না রাখাসহ বেশ কয়েকটি দাবি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ছাত্রসংগঠনগুলো দিয়ে আসছে। ইউজিসিও বলছে সবদিক বিবেচনায় রেখে তারা অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তে এসেছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অনিশ্চয়তার এই সময়ে সার্বিক দিক বিবেচনায় অনলাইন লাইভ ক্লাস না নিয়ে রেকর্ড ক্লাস নেয়া যেতে পারে। শিক্ষকরা কোর্স রিলেটেড লেকচার রেকর্ড করে সেটা ইউটিউব, পেইজ বা সংশ্লিষ্ট গ্রুপে দিয়ে দিতে পারে। এতে করে যার যখন সময় ও সুযোগ হবে, সে লেকচারটা দেখে নিলো। লাইভ ক্লাস নিলে সবাই একই সময়ে ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। সবার পারিপার্শ্বিক সুযোগ-সুবিধা একরকম না। আমাদের শিক্ষকরাও কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইভে এসে ক্লাস নেয়ার জন্য প্রস্তুত না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত তিনমাসে অনলাইন লাইভ ক্লাস নিয়ে যে খুব একটা সফল হয়েছে তা কিন্তু না। নেটওয়ার্ক, ডিভাইসসহ নানাবিধ সমস্যা তারা মোকাবিলা করছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নানারকম অভিযোগও আছে।

তবে অনলাইন ক্লাসের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো যেতে পারে। রাষ্ট্র, ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি সত্যিকার অর্থেই অনলাইন ক্লাস নিয়ে সফল উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে এর ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারি। শিক্ষাখাতে যে ডিজিটালাইজেশন এর কথা বলা হচ্ছে, তার সূচনা হতে পারে এখন থেকে। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে উন্নত ডিভাইস ও উচ্চ গতিসম্পন্ন নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে এই উদ্যোগটি কার্যকারিতা পাবে। এখন থেকে শুরু করলে ধীরে ধীরে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা পরিপূর্ণতা পাবে। এজন্য সরকারকেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচআর/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]