কথায় নয় কাজেও প্রমাণ দিতে হবে

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ এএম, ০২ জুলাই ২০২০

রাজধানীতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। বলা যায় মশার উৎপাতে জনজীবন অতিষ্ঠ। কিন্তু বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ থাকলেও সে অনুযায়ী মশকনিধনে নেই দুই সিটি করপোরেশেনের তেমন কোনো কার্যক্রম। তাই মশা নিয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। মশকনিধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

নগরবাসীরা বলছেন অন্য সময়ের চেয়ে মশার উপদ্রব খুব বেড়েছে। দিনেও মশার হাত থেকে রেহাই নেই। অন্যদিকে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দরজা-জানালা সব বন্ধ করে বদ্ধভাবে থাকতে হয়। অথচ মশকনিধনে দুই সিটি করপোরেশেনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা।

এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কার্যকরী পদক্ষেপ প্রশ্নবিদ্ধ। প্রতিদিন সকাল-বিকাল দুবেলা মশা নিধনে বিষাক্ত কীটনাশক ছিটানোর কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। মশকনিধনকারী কর্মীদের দেখা পাওয়া যায় না।

আশার কথা হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মশা নিধনে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, আমরা ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্তি দেব। আশা করছি ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্তি দিতে পারবো।

গতকাল বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে নগর ভবনে অনলাইনের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থলে কীটনাশক ছিটানো সেবা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তাপস বলেন, কারও বাসাবাড়ি বা বেজমেন্টে বা কারও নির্মাণাধীন বাসাবাড়িতে মশার লার্ভা বা লার্ভার বিস্তার ক্ষেত্র রয়েছে কিনা সেটা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। কিন্তু মানুষের বাসাবাড়িতে বা নির্মাণাধীন বাড়িতে বা মানুষের বাসার ফুলদানি-টব-টায়ারে মশার বিস্তার হয় সেটা আমরা জানি। এ ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্যই বছরব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন থেকে ঢাকাবাসীর জন্য অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে মশার প্রজননস্থলে কীটনাশক ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি এর মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্তি দিতে পারবো।

তাপস আরও বলেন, এ সেবা পেতে মানুষের বাসাবাড়িতে মশার লার্ভা কিংবা বিস্তারক্ষেত্র থাকলে সে জন্য আমাদের মোবাইল কোর্ট যে জরিমানা করে, তার চাইতেও অনেক কম মূল্যে বলা যায় নামমাত্র মূল্যে আমরা ঢাকাবাসীকে এ সেবা দেব।

বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় এখন থেকে একজন সেবাগ্রহীতা ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকার নিজ বাসা-ভাড়া বাসা-বাণিজ্যিক ভবন বা অন্যান্য স্থাপনায় জমে থাকা মশার লার্ভা বিনষ্ট করতে মশার প্রজননস্থলে কীটনাশক ছিটানো সেবা নিতে পারবেন। সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়েব পোর্টালের নির্দিষ্ট লিংকের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পাঁচ ক্যাটাগরিতে সেবা গ্রহণ করা যাবে এবং সেবা গ্রহীতাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সেবা মূল্য হিসেবে দিতে হবে। আবেদনের পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই সেবা প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। দুই সিটি করপোরেশনেই এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। কথায় নয় কাজেও প্রমাণ দিতে হবে।

মশা শুধু দুর্ভোগই সৃষ্টি করে না। ডেঙ্গু, জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন মরণঘাতী রোগের জীবাণুও বহন করে। এ জন্য মশার উপদ্রব বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে এডিস মশার সংখ্যা যাতে বৃদ্ধি না পায় এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষজনকে সচেতন করে তুলতে হবে।

এ বিষয়ে নাগরিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ির আঙিনা, ফুলের টব, ছাদের বাগান, ভবনের চৌবাচ্চা, এসি-ফ্রিজ থেকে জমা পানিতে মশার বংশ বিস্তার বেশি ঘটে। এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নানা সময় মশকনিধনের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ হয় না। দিন দিন রাজধানীতে মশার উৎপাত বেড়েই চলেছে। মশকনিধনে তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। অথচ এ জন্য বাজেট রয়েছে। রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক। মশকনিধন নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা শৈথিল্য মেনে নেয়া যায় না।

এইচআর/বিএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]