বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে…

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:২৪ এএম, ১২ আগস্ট ২০২০

মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে সারাদেশে এক কোটি গাছের চারা রোপণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর। এরই অংশ হিসেবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী-খালপাড় ছাড়াও বাঁধ ও অন্য ফাঁকা জায়গায় ১০ লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। গত সোমবার (১০ আগস্ট) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অন্যান্য মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সকলে এগিয়ে এসে কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। সবুজে ভরে দিতে হবে দেশকে।

ঋতু পরিক্রমায় বর্ষাকাল চলছে। এই সময়ে গরম তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে শুরু করেছে। যে কারণে ঋতুচক্র ঠিক থাকছে না। অকাল ঝড়-বন্যা বৃষ্টি নানা দুর্যোগ নিয়ে আসছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে অস্বাভাবিক রকমের গরম হয়ে উঠতে পারে পৃথিবী। এর নজির দেখা যাচ্ছে বর্তমানে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। গরমে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অফিস, আদালত, বিপণী বিতান সর্বত্র এর প্রভাব পড়ছে। নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে লোকজন। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে পর্যুদস্ত মানুষজন তারওপর এ অবস্থা চলতে থাকলে জনদুর্ভোগ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা মুশকিল।

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে অস্বাভাবিক রকমের গরম হয়ে উঠতে পারে পৃথিবী। খোদ গবেষকরাই বলছেন, কার্বনডাই অক্সাইডের উপস্থিতি দ্বিগুণ হওয়ার কারণে ধারণাতীত উষ্ণতা অনুভূত হতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতার এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। গত কয়েকমাস ধরে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে দেশে। এল নিনোর প্রভাবও পড়েছে বাংলাদেশের ওপর। যার কারণে দেশের এক অঞ্চলে বৃষ্টি তো অন্য অঞ্চলে প্রখর রোদ। ১৯৫০ সালের পর থেকে এবারের এল নিনো সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী। তিন মৌসুমের এল নিনোর একটি বলে গণ্য হবে। তবে এটাকেই সবচেয়ে শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে শীতের সময় শীত কম অনুভূত হলেও গরমের সময় গরম কম অনুভূত হবে এমন কোনো কথা নেই।

জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ একথা অনেকদিন ধরেই আলোচনা হচ্ছে। এখন হাড়ে হাড়ে তা টের পাওয়া যাচ্ছে। এটাকে শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বললে ভুল করা হবে। এটা অনেকটাই মনুষ্যসৃষ্ট। যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে, আমরা আরও আধুনিক হচ্ছি। এর সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। আমরা যত বেশি যন্ত্রের ব্যবহার করছি তত বেশি পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। রান্নার ধোঁয়া, ডিটারজেন্ট, সাবান, শ্যাম্পু, মনুষ্য বর্জ্য, ইটভাটা, বিভিন্ন কেমিক্যাল পরিবেশ দূষণ করছে। এসবের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের সবাইকে গাছ লাগাতে হবে।

আমাদের মোট ভূমির ২০ ভাগ বনায়ন করতে হবে। এছাড়া যে বনগুলো আছে তা রক্ষা করতে হবে। নদী ড্রেজিং, নদী প্রবাহমান রাখতে হবে। বিভিন্ন দ্বীপে প্রচুর বৃক্ষরোপণ করতে হবে। শিল্পোন্নত বিশ্বের কথা বাদ দিলেও আমাদের দেশেও বিভিন্নভাবে আমরা পরিবেষ দূষণ করে চলেছি। অধিকাংশ নদী-নালা-খালবিল দখল-দূষণে মৃতপ্রায়। অবাধে চলছে বৃক্ষনিধন। পাহাড়কেটে সমতলভূমি বানিয়ে বসত গড়া হচ্ছে। শিল্পকারাখানার কালো ধোয়ায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর কীটনাশক। নানাবিধ কারণে পরিবেশ দূষণ চলছেই। অথচ সচেতন না হলে আমাদের জন্য এক মহাবিপদ সামনে। এজন্য সকলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কারণ পরিবেশজনিত বিপর্যয় থেকে আমরা কেউ কিন্তু রক্ষা পাবোনা।

এইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]