প্রণব মুখার্জি : বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু

সুভাষ সিংহ রায় সুভাষ সিংহ রায়
প্রকাশিত: ০৮:৪৩ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২০ | আপডেট: ০৯:০৮ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০২০

প্রায় অর্ধশত বছর ধরে প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশকে সমর্থন জুগিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর্বটি হিসাব করলে সময়কালটা তেমনি দাঁড়ায়। প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডের সময়কাল ১৯৬৯ থেকে ১৯৮০। সঙ্গত কারণেই তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘দ্য ড্রামাটিক ডিকেড’। কংগ্রেসে বিভাজন, ইন্দিরা গান্ধীর বিপুল জয় ও নির্মম পরাজয়, জরুরি অবস্থা, জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন, দেশে প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকারের ক্ষমতাসীন হওয়া এবং চলে যাওয়া, নানা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বৈরথ, সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ-স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের ইতিহাসে এত সব নাটকীয় ঘটনাসমৃদ্ধ দশক তার আগে বা পরে সত্যিই এসেছে কি না সন্দেহ।

প্রণব মুখার্জি এর কিছুটা দেখেছিলেন কংগ্রেসের বাইরে থেকে। কেননা ১৯৭২-এ পশ্চিবঙ্গে বিধানসভার ভোটের আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন রাজ্যসভায় বাংলা কংগ্রেসের সদস্য। যদিও এই সময়টুকুতেও ব্যাংক জাতীয়করণ কিংবা রাজন্যভাতা বিলোপের মতো ইন্দিরা গান্ধীর প্রায় সব নাটকীয় সিদ্ধান্ত সংসদের ভিতরে বাইরে তিনি সোচ্চারে সমর্থনই করেছিলেন, বস্তুত এই সময়ে এমন বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি যেখানে তাকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশ্য বিরোধিতা করতে হয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে প্রণববাবুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে পাক জঙ্গিশাহির অত্যাচার যখন চরমে উঠেছে, লাখ লাখ ছিন্নমূল শরণার্থী প্রাণের ভয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন, সে সময়েই।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ ইন্দিরা গান্ধী আদেশ দিলেন শরণার্থীরা যাতে বিনা বাধায় এ দেশে প্রবেশ করতে পারেন সে জন্য পূর্ব পাকিস্তান সীমান্ত সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হবে। শুধু তাই নয়, তিনি এই আদেশও দিলেন যে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে যে সব রাজনৈতিক নেতা এপারে আসবেন তাদের সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যেতে হবে। ৩০ মার্চ ঘটনাবলি সম্পর্কে ভারত সরকারের মনোভাব পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল।

সে বছরই বাজেট অধিবেশনের সময় রাজ্যসভায় প্রণব মুখার্জি পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেন। বিষয়টি ছিল অবিলম্বে মুজিবনগরে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দান। প্রণববাবুর কথায়, আলোচনা চলাকালীন একজন সদস্য আমাকে প্রশ্ন করলেন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উপায় কী! আমি জবাবে বললাম, কাল বিলম্ব না করে বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া। অর্থাৎ সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাধানের অর্থ হবে যত রকম ভাবে সম্ভব স্বাধীন, সার্বভৌম গণতান্ত্রিক বালাদেশ সরকারকে সাহায্য করা। অনুরূপ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপের কত নজির দুনিয়ার ইতিহাসে আছে আমার ভাষণে সে সব উদাহরণও উপস্থিত করলাম।’

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাত ৯টা থেকে শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানে খান সেনাদের অকথ্য অত্যাচার। তাকে অচিরেই গ্রেফতার করা হবে বুঝতে পেরে মুজিবুর রহমান সে রাতেই ঘোষণা করেন, ‘হয়তো এটাই আমার শেষ বার্তা। বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমার আবেদন একটাই। আপনারা যে যেখানে আছেন, হাতের কাছে যে সম্বলটুকু আছে তা দিয়েই শেষ বিন্দু পর্যন্ত এই সেনাদের প্রতিহত করুন। যতদিন না শেষ পাকিস্তানি সেনাটি বাংলাদেশের মাটি থেকে উৎখাত হবে, অর্থাৎ আমাদের সম্পূর্ণ জয় হাসিল হবে, আপনারা তত দিন লড়াই চালিয়ে যান।’

প্রণববাবুর কথায়, ‘এই সময় থেকেই ইন্দিরাজি আমাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন। ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বরে তিনি আমাকে প্রথম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য মনোনীত করেন। সেই বৈঠকে আমাদের কাজ ছিল প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং ভারতের অবস্থান বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা, যাতে তারা যে যার দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের সরকারকে বিষয়টি অবহিত করাতে পারেন। হতে পারে এই বৈঠকে আমার ভূমিকার কথা প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছেছিল এবং তিনি সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। কেননা এর পরই একই ম্যান্ডেট দিয়ে তিনি আমাকে পাঠান ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে।’

চিন-মার্কিন-পাকিস্তানি অক্ষশক্তির কার্যকারিতা কিছুটা ভোঁতা করে দিতে ১৯৭১ এর আগস্ট মাসে ইন্দিরা গান্ধী আকস্মাৎ সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের চুক্তি স্বাক্ষর করে বসেন।

এই রকম একটি মৈত্রী চুক্তির খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছিল দু’বছর আগেই। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তখন তা স্বাক্ষর করতে সম্মত হননি প্রধানত দুটি কারণে। এক. ভারতবর্ষের মতো সে সময় পাকিস্তানের সঙ্গেও মস্কো সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছিল। এমনকি ইসলামাবাদকে তারা অস্ত্র রফতানিও করছিল। দুই. ইন্দিরা গান্ধী হয়তো মনে করেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে এই রকম একটি চুক্তি হলে বিদেশনীতিতে ভারতের জোট-নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, দেশে তার থেকে বিরোধী দলগুলো ফায়দা তোলার চেষ্টা করতে পারে। তার সেই মনোভাবে পরিবর্তন ঘটে দু’বছর পরে যখন তিনি বুঝতে পারেন পাকিস্তানের সমর্থনে চিন ও আমেরিকা সক্রিয়ভাবেই দাঁড়িয়ে পড়তে পারে। এমন একটি পরিস্থিতিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো একটি বৃহৎ শক্তির সঙ্গে মৈত্রী যে বিশেষ জরুরি ইন্দিরা গান্ধীকে সে কথা বুঝিয়েছিলেন তার দুই ঘনিষ্ঠ মস্কোপন্থী উপদেষ্টাটি এন কল ও ডি পি ধর।

নয়াদিল্লি যে শেষ পর্যন্ত মস্কোর সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করে বসবে ওয়াশিংটন তা কল্পনা করতেই পারেনি। হয়তো সে জন্যই অনেক দিন পরে তার স্মৃতিকথায় হেনরি কিসিঙ্গার লিখেছেন, তাদের কাছে এই চুক্তি ছিল একেবারেই ‘বম্বশেল’র মতো। তার নিজের কথায়, ‘ইট ওয়াজ লাইক থ্রোয়িং এ লাইটেড ম্যাচ ইনটু এ পাউডার কেগ।’

২.
স্রেফ নিজের চেষ্টা, একাগ্রতা আর অধ্যাবসায়ের জোরে (সঙ্গে অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তির ব্যাপারটা তো ছিলই) নিজের সেই দুর্বলতাগুলো প্রণববাবু ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠেছিলেন। এদিক থেকে দেখতে গেলে তিনি প্রায় ষোলো আনা স্বশিক্ষিত রাজনীতিক। তবুও ইংরেজিতে দুর্বলতা, বিশেষ করে বীরভূমি উচ্চারণে রানির ভাষা বলার জন্য সারা জীবন তাকে কম খোঁটা হজম করতে হয়নি। রসিক প্রণববাবু এমনতরো তুচ্ছ অপবাদ বিশেষ একটা গায়ে মাখেননি, তার আড়ালে কংগ্রেসি সতীর্থরাই যে বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করে থাকেন সে সম্পর্কে তিনি ছিলেন বরাবর ওয়াকিবহাল। ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় কংগ্রেসের নেতৃত্বে তবু আঞ্চলিক কিংবা ভাষাগত বৈচিত্র্য ছিল, যেটা আমূল বদলে যায় রাজীব গান্ধী ক্ষমতায় আসার পরে। যাদের ওপর নির্ভর করে ইন্দিরাতনয় তার প্রধানমন্ত্রিত্বের ইনিংস শুরু করেন তারা প্রায় সবাই ছিলেন পাবলিক স্কুল পড়ুয়া, বিলেত অথবা আমেরিকা ফেরত, চলনে বলনে উচ্চারণে আঠারো আনা সাহেব। তাদেরই একজন মণিশঙ্কর আইয়ার একদা আমার কাছে প্রণববাবুর ইংরেজি নিয়ে কুরুচিকর রসিকতা করেছিলেন। একবার টেলিফোন করে সৌজন্যবশত মণিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘বস হোয়াট আর ইউ ডুয়িং?’ ও পার থেকে জবাব এল, ‘কারেক্টিং প্রণব মুখার্জিস ইংলিশ।’

প্রণববাবুর মুখেই শোনা গল্প, তার ইংরেজি উচ্চারণের জন্য ইন্দিরা গান্ধীও মাঝে মাঝে ভর্ৎসনা করতেন। একবার এত বিরক্ত হয়েছিলেন যে পরামর্শ দিয়েছিলেন বাড়িতে গৃহশিক্ষক রেখে ইংরেজি বলাটা ঝালিয়ে নিতে। ‘কিপ এ টিউটর প্রণব, দ্যাট উইল ডু ইউ আ ওয়ার্লড অব গুড।’
‘জবাবে আপনি কী বললেন?’

‘কী আর বলব? হাসতে হাসতে বললাম, ‘ম্যাডাম এই বয়সে আমি চেষ্টা করেও উচ্চারণ বদলাতে পারব না। সেই ছেলেবেলায় বীরভূমের গাঁয়ে যে ব্যাপারটা একবার অস্থিমজ্জায় প্রবেশ করে গিয়েছে তাকে আর বের করে ফেলা সম্ভব নয়। ইউ উইল হ্যাভ টু সাফার ইট।’

বাংলাদেশের প্রতি প্রণব মুখার্জির দুর্বলতা অপরিসীম, অনেকটা জ্যোতিবসুর মতোই। জ্যোতিবাবুর পৈতৃক বাড়ি ছিল বারদিতে, লোকনাথ বাবার আশ্রমের পাশেই। সে অর্থে তিনি ছিলেন বাঙাল। প্রণববাবু আপাদমস্তক ঘটি, তাদের আদি বাড়ি নদিয়ায়। তবে বিবাহসূত্রে তিনিও বাঙালদের জামাই। স্বাধীন বাংলাদেশ বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতারা, পশ্চিমবঙ্গের এই দুই প্রবীণ নেতাকে বরাবর তাদের একান্ত আপনজন বলে মনে করে এসেছেন, প্রয়োজনে তাদের সাহায্যপ্রার্থীও হয়েছেন বার বার। প্রণবপত্মীর মৃত্যুর খবর শুনে এই তো সেদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে অশ্রুসজল চোখে চলে এসেছিলেন দিল্লিতে। শুভ্রাদেবীর শেষ যাত্রার আগে যে ভাবে প্রকাশ্যেই তিনি হাউ হাউ করে কেঁদেছিলেন তাতে স্বজন বিয়োগের চিহ্ন ছিল পরিষ্কার।

প্রণববাবুর আত্মজীবনীর প্রথম খণ্ডের পরিচ্ছেদটি মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের জন্মের কাহিনি নিয়েই। একেবারে দেশভাগের দিন থেকে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেস কোর্স ময়দানে খান সেনার আত্মসমর্পণ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাস সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন তিনি। কিন্তু ভারত সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তির প্রসঙ্গ যেমন অবতারণা করেননি, তেমনই সে সময় ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক দৌত্যের প্রসঙ্গ নিয়েও বিস্তারিত কিছু লেখেননি। অথচ সত্যটা হলো, নিক্সন প্রশাসনের সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর স্নায়ুযুদ্ধ, নাটকীয় দ্বৈরথের প্রসঙ্গ ব্যতিরেকে বাংলাদেশের জন্মবৃত্তান্ত বোধহয় সম্পূর্ণ হয় না।

ইলাস্ট্রেটেড উইকলির তৎকালীন সম্পাদক প্রীতীশ নন্দীর নেওয়া এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল পত্রিকার প্রচ্ছদ নিবন্ধ হিসেবে, ১২টি পৃষ্ঠাজুড়ে। শিরোনামটিও ছিল অতি নাটকীয়- ‘দ্য ম্যান হু নিউ টু ম্যাচ’। আপাতদৃষ্টিতে এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে স্বভাব সাবধানী প্রণববাবু এমন কিছু বলেননি, যা দলকে বিব্রত করতে পারে বা যার জন্য দল বহিষ্কারের মতো চরম শাস্তি প্রাপ্য হতে পারে। প্রবণবাবুকে ফাঁদে ফেলার জন্য প্রীতীশ ইচ্ছে করেই বারবার ইন্দিরা গান্ধীর জমানার সঙ্গে রাজীব গান্ধীর জমানার তুলনা করে বিবিধ প্রশ্ন করেছিলেন। এসব প্রশ্নের খোলাখুলি উত্তরের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল কংগ্রেসের নতুন জমানা সম্পর্কে প্রণববাবুর বিদ্বিষ্ট মনোভাব। অনেক পরে আত্মজীবনী লিখতে বসে তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, ‘হতে পারে ওই সাক্ষাৎকারে আমার উষ্মা বেশকিছুটা প্রকাশ পেয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি থেকে বাদ পড়ার মর্মান্তিক বেদনা আমাকে তখন কুরে কুরে খাচ্ছিল। তাছাড়া দলের অন্দরে তখন যেভাবে আমায় অকারণে অচ্ছুৎ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তা নিয়েও আমার ক্ষোভ ছিল প্রচণ্ড। অবশ্য ওই সাক্ষাৎকারে আমি দল ভাঙার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলাম ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। দলের অন্দরে যতই ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকুক না কেন তার ফলে কংগ্রেসের ক্ষতি হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।’

লেখা হয়েছিল রাজীব গান্ধীর জনপ্রিয়তা কমছে, আনুপাতিক হারে বাড়ছে প্রণব মুখার্জির জনপ্রিয়তা। এমন কথাও লেখা হয়েছিল যে প্রণববাবু নাকি এমন সব গোপন তথ্যের কথা জানেন যা প্রকাশিত হলে দলের, সরকারের এমনকি রাজীব গান্ধীরও বিশেষ ক্ষতি হতে পারে। এসব তথ্য নিয়ে প্রণব মুখার্জি অপেক্ষা করছেন যথাসময়ে তার সদ্ব্যবহার করার জন্য। প্রণববাবুর বক্তব্য, ‘আমি যা যা বলেছিলাম তাতে তো এই সব কথা ছিল না। কিংবা আমি এমন কিছুও বলিনি যার ভিত্তিতে এই ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীতি হওয়া যায়। প্রীতীশ যে কুমতলব নিয়ে আমার সাক্ষাৎকার নিতে চাইছেন আমি তা বুঝতে পারিনি।’

যে কারণে প্রণব মুখার্জি আজ থেকে ১৩ বছর আগে ভারতের খ্যাতনামা গণমাধ্যম ‘এবিপি আনন্দ’ তাকে ‘সেরা বাঙালি’ পদক দিয়েছিল। কোনো এক আড্ডায় এক সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আচ্ছা প্রণববাবু, আপনি ভারতের ক্যাবিনেটে এতদিন ধরে অলিখিত দু’নম্বর ছিলেন, কিন্তু তবু আপনার কখনও প্রধানমন্ত্রী হওয়া হলো না। আফসোস হয় না?’

প্রণব মুখার্জির ঝটিকা জবাব ছিল, ‘আমার যে প্রধানমন্ত্রী হওয়া হবে না, সে তো সাতচল্লিশ সালেই স্থির হয়ে গিয়েছিল! এখন সেটা নিয়ে আফসোসের আবার কী আছে?’

প্রণব মুখার্জি ভারতে একমাত্র বাঙালি রাষ্ট্রপতি ছিলেন। পরবর্তী আরেকজন বাঙালি রাষ্ট্রপতির কথা কল্পনায়ও আনা যাচ্ছে না।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এইচআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]