পোশাক হোক ব্যক্তির পছন্দের, স্বাচ্ছন্দ্যের

প্রভাষ আমিন
প্রভাষ আমিন প্রভাষ আমিন , হেড অব নিউজ, এটিএননিউজ
প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

হঠাৎ করে মা-ছেলের ক্রিকেট খেলার ছবি ঝড় তুলেছে নেট দুনিয়ায়। শনিবার একাধিক জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়েছে মা-ছেলের ছবিটি। ইদানীং কোনো আলোচনা বা ইস্যু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে গণমাধ্যমে আসে। অনেকদিন পর গণমাধ্যম থেকে ইস্যু পেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ছবিটি দেখে আমার ভালো লেগেছে। শনিবার সকালেই মন ভালো হয়ে গেছে। শুধু আমার নয়, ছবিটি আরও অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কারণ ছবিটার পেছনে দারুণ একটা গল্প আছে। মাদরাসাছাত্র ইয়ামিন প্রতিদিন পল্টন ময়দানে যায় ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে। তাকে নিয়ে যান মা ঝর্ণা আক্তার। শুক্রবার তারা একটু আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। তখনও অন্য কেউ আসেনি। ছেলের অনুরোধে মা ঝর্ণা আক্তারই নেমে গেলেন ব্যাট হাতে। কাবু হলেন ছেলেন স্পিন বলে। পরে আবার বলও করলেন। প্রথম দেখায় ছবিটাতে আমি মা-ছেলের ভালোবাসার অসাধারণ গল্পই শুধু খুঁজে পেয়েছি, পেয়েছি বাংলাদেশের মানুষের ক্রিকেট প্রেমের উদাহরণ।

এখন তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিন্তু যখন খোলা থাকে প্রতিটি স্কুলের সামনে মায়েদের অপেক্ষা দেখে আমার মিশ্র অনুভূতি হয়। আমি জানি দিনভর সন্তানের স্কুল বা কোচিংয়ের সামনে বসে থাকা মায়েদের মধ্যে অনেকেই আছেন উচ্চশিক্ষিত। তাদের অনেকেরই চমৎকার সফল ক্যারিয়ার হতে পারতো। অনেকে হয়তো শুরুও করেন, শেষ করতে পারেন না। সংসারের জন্য, স্বামীর অনুরোধে, শাশুড়ির ভয়ে অনেকে একাডেমিক উৎকর্ষকে তালাবন্দী করে ক্যারিয়ারের স্বপ্নকে বিসর্জন দেন। কিন্তু কখনোই কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর ক্যারিয়ারের কথা ভেবে, এমনকি সেই ক্যারিয়ার তার চেয়ে ভালো হলেও, নিজের ক্যারিয়ার ত্যাগ করেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে সব স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে সন্তানের স্কুলের সামনে বসে থাকা মায়েদের জন্য আমার খারাপ লাগে, কষ্ট হয়। আবার দৃশ্যটা ভালোও লাগে। মা-ছেলের এই ভালোবাসা তো চিরন্তন। সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে নিজের বর্তমান বিবর্ণ করে ফেলা মায়েদের ত্যাগের মূল্যও কিন্তু কম নয়। মায়েরা এভাবে লেগে থেকে থেকে সন্তানকে যোগ্য করে গড়ে তোলেন। কোনো স্কুলের সামনেই কিন্তু বাবাদের খুব ভিড় দেখা যায় না।

শুধু স্কুল নয়; মায়েরা সন্তানদের নিয়ে গানের স্কুলে যান, নাচের স্কুলে যান, ক্রিকেট বা ফুটবল মাঠে যান। সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করতে, তাকে পূর্ণ মানুষ করে তুলতে মায়েদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। তবে পল্টনের মা-ছেলের ক্রিকেট খেলার গল্পটা আমাকে বেশি টেনেছে তাদের পোশাকের কারণেই। পাজামা-পাঞ্জাবি পরা মাদরাসা ছাত্র ইয়ামিন আর বোরকায় ঢাকা মা ঝর্ণা আক্তার। আমি বুঝতে পারি, তাদের প্রতিদিন কতটা কষ্ট করে ক্রিকেট মাঠে আসতে হয়। কষ্ট মানে, আমি পথের কষ্ট বলছি না। বোরকায় নিজেকে ঢেকে রাখা মায়ের সন্তান পড়ে মাদরাসায়। তার মানে ধরে নিতে পারি কঠোর ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা পরিবার তাদের। সেই পরিবার থেকে প্রতিদিন ছেলেকে নিয়ে ক্রিকেট অনুশীলনের জন্য মাঠে যাওয়া সহজ কথা নয়। নিশ্চয়ই অনেক নিষেধ, অনেক ভ্রুকুটি উপেক্ষা ঝর্ণা আক্তারকে বেরুতে হয়।

পরে জেনেছি, তাদের বাসা শেওড়াপাড়ায়। শেওড়াপাড়া থেকে স্টেডিয়াম- পথের দূরত্বও কম নয়। প্রতিদিন শত প্রতিবন্ধকতা ঠেলে ছেলেকে নিয়ে এত লম্বা পথ আসা-যাওয়া করা ঝর্ণা আক্তারের লড়াইটা কিন্তু কম নয়। বাংলাদেশে সব নারীকেই লড়াই করতে হয়। কিন্তু উদার, আধুনিক, স্বাধীন পরিবারের নারীদের লড়াই আর ঝর্ণা আক্তারদের মতো প্রতিদিনের লড়াই এক নয়। ঝর্ণা আক্তার নিজেও একসময় অ্যাথলেট ছিলেন। জেলা পর্যায়ে ২০০ মিটার দৌড়, লংজাম্প, চাকতি নিক্ষেপসহ আরও নানা খেলায় অংশ নিয়েছেন। আগে যেমন বলেছি, বাংলাদেশের আরও অনেক নারীর মতো ঝর্ণাও সংসারের জন্য, সন্তানের জন্য মাঠ ছেড়েছেন, তবে স্বপ্ন ছাড়েননি। আর সব অভিভাবকের মতো ঝর্ণাও তার অপূর্ণতার পূর্ণতা চান সন্তানের মধ্যে। আপাতত তার লড়াই সন্তানকে বিকেএসপিতে ভর্তি করানো পর্যন্ত। সন্তানের জন্য মায়ের এই লড়াইটাই আমাকে মুগ্ধ করেছে। ঝর্ণা আক্তার শেষ পর্যন্ত এক চিরন্তন মা।

তবে এই ছবিটা অনেকের ভালো লাগেনি। নাই লাগতে পারে। একেকজনের দেখার ভঙ্গি একেকরকম। যাদের ভালো লাগেনি, তাদের ভালো না লাগার কারণগুলোর সাথে আমার দ্বিমত নেই। তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথেও আমার অমিল নেই। আমিও মনে করি না, এটা বাংলা মায়ের রূপ। আমিও চাই না নারীদের অবগুণ্ঠিত করে তাদের স্বপ্ন, তাদের সম্ভাবনা, তাদের মেধা, প্রতিভা, যোগ্যতা চার দেয়ালে গুমড়ে কাঁদুক। কিন্তু একজন মা বোরখা পরে ছেলেকে নিয়ে মাঠে গেলেই দেশটা আফগানিস্তান বা পাকিস্তান হয়ে গেছে; এটা ভাবাও ভুল। যারা এমনটা ভাবেন, তারা আসলে বাংলাদেশ দেখেননি।

ঢাকায় আমাদের চারপাশের মধ্যবিত্তসুলভ কমফোর্ট জোনটাই কিন্তু বাংলাদেশ নয়। হিজাব না হয় সাম্প্রতিক প্রবণতা। কিন্তু বোরকা তো বাংলাদেশে নতুন নয়। গ্রামীণ মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে বোরকা প্রচলিত বহু আগে থেকেই। আমি বোঝার পর থেকে দেখে এসেছি আমার মা বোরকা পরেন। বোরকা পরেই তিনি আমাদের নিয়ে সিনেমায় যেতেন, রাতে তাকে দস্যু বনহুর পড়তে দেখেছি, আম্মার বোরকায় কিন্তু আমাদের বাসায় রবীন্দ্রসঙ্গীত বা আধুনিক গান বাজার বাধা হয়নি। নানান আউটবইও পড়েছি দেদারসে। আমার মা কখনো আমার স্কুলে যাননি বা আমাকে নিয়ে মাঠেও যাননি। গেলে শৈশবে এমন একটা ছবির সাবজেক্ট আমরাও হতে পারতাম।

পোশাকটা আমার কাছে প্রথমত স্বাচ্ছন্দ্যের। আমি যেমন জিন্স-টি শার্ট পরে আরাম পাই। বোরকা যেমন আমাদের সংস্কৃতি নয়, জিন্স-টি শার্টও তো আমাদের সংস্কৃতি নয়। তাহলে জিন্স-টি শার্ট পরে কি আমরা বোরকাকে বিজাতীয় সংস্কৃতি বলে গালি দিতে পারব? সত্যিকারের উদার হতে হলে আমাদের ভিন্নমত মানতে হবে, ব্যক্তিস্বাধীনতাকে সম্মান জানাতে হবে। একজন মানুষের অবশ্যই বোরকা পরার স্বাধীনতা আছে। এই ভাদ্র মাসের গরমে যে ঝর্ণা আক্তার এ রকম জোব্বা ধরনের বোরকাখা পরে আছেন, দেখে আমারই দম বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু তিনি যদি নিজের ইচ্ছায় সেটি পরে থাকেন, আমার আপত্তি নেই। আমার লড়াই হলো, ঝর্ণা আক্তাররা যেন সব বাধা ঠেলে, সব অবগুণ্ঠন সরিয়ে বিকশিত হন। কিন্তু রাতারাতি তো সে লড়াইয়ে জেতা যাবে না। লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।

আমার মাকে আমি কখনো বোরকা না পরতে বলিনি। আবার আমার স্ত্রী কখনো বোরকা বা হিজাব পরেন না। আমার কিন্তু কোনোটাতেই আপত্তি নেই। আমার মা বা স্ত্রী কখন কোন পোশাক পরবেন সেটা একদমই তাদের সিদ্ধান্ত। আমি ছেলেবেলায় গ্রামে আমার মা, খালা, চাচি সবাইকে দেখেছি শাড়ি পরেই সংসার সামলাচ্ছেন, সব কাজ করছেন। কিন্তু আমার স্ত্রী আবার কোনো দাওয়াত না থাকলে শাড়ি পরেন না। কে কোন পোশাক পরবেন, না পরবেন; সেটা একদমই তার সিদ্ধান্ত, তার স্বাধীনতা। পার্টির পোশাক, ঘরের পোশাক, ঘুমের পোশাক- সব পোশাক আলাদা আলাদা। পার্টি ড্রেসে আপনি যেমন সমুদ্র সৈকতে যাবেন না, আবার অফিসের পোশাকে সাগর পাড়েও যাবেন না।

পোশাকের ব্যাপারে প্রথম বিবেচনা অবশ্যই স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে পারিপার্শ্বিকতাও বিবেচনায় নিতে হয়। বাসায় আমি লুঙ্গি পরি। কিন্তু আমি আবার নাঈমুল ইসলাম খানের মতো সাহসী নই যে লুঙ্গি পরেই অফিসে চলে যাব। আবার নাঈম ভাই যত সাহসীই হোন, তিনি কিন্তু লুঙ্গি পরে ঢাকা ক্লাবে ঢুকতে পারবেন না। ঢাকায় আমি থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট পরে বাজারেও যাই না, মানুষ ঘুরে তাকায়, অস্বস্তি লাগে। আবার আমিই নয়াদিল্লিতে দিনের পর দিন থ্রি কোয়ার্টার পরে ঘুরেছি। গ্রামের পোশাকের ধরন একটা, শহরের আরেকটা। মিলবে না, মেলানো যাবে না। এমনকি ঢাকার গুলশান এলাকার মানুষের পোশাক আর পুরান ঢাকার পোশাকও এক নয়।

পোশাক কখনোই আধুনিকতা মাপার মানদণ্ড নয়। তথাকথিত আধুনিক পোশাক পরা অনেক কূপমণ্ডুক দেখেছি। আবার টুপি-পাঞ্জাবি বা বোরকা-হিজাব পরা অনেক আধুনিক মানুষ দেখেছি। আমি নিজে থ্রি কোয়ার্টার বা হাফ প্যান্ট পরে বাজারে যাব না। কিন্তু কেউ যদি হাফ প্যান্ট পরে আরাম পান, আমার কোনো আপত্তি নেই। তার সাহস বেশি, আমার সাহস কম। কিন্তু আপনি হাফ প্যান্ট পরে ছবি দেবেন, আরেকজন বোরকা পরলে আপত্তি করবেন কেন? পোশাক কখনো ধর্মেরও নির্ণায়ক নয়। দাড়ি-পাঞ্জাবি পরে রমনা বটমূলে গেলে বাঙালিয়ানা, বায়তুল মোকাররমে গেলে ইসলামিয়ানা। আমি কখনো মানুষকে পোশাক দিয়ে, বর্ণ দিয়ে, জাতি দিয়ে, ধর্ম দিয়ে বিবেচনা করি না; আমার একমাত্র বিবেচনা ব্যক্তির কর্ম।

আমার দেখায় গত তিন দশকে গ্রামে পরিস্থিতির বরং কিছু উন্নতি হয়েছে। আগে বোরকার পর রিকশাও শাড়ি দিয়ে পেঁচানো থাকত। এখন ততটা দেখা যায় না। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে শহরে। সাম্প্রদায়িকতার দ্রুত বিস্তার হয়েছে। ক্ষমতাকে নির্বিঘ্ন করতে আওয়ামী লীগ হেফাজতে ইসলামের সাথে আপস করেছে। তারা পাঠ্যপুস্তকও বদলে ফেলেছে। সাম্প্রদায়িকতার এই বিস্তার আমরা ঠেকাতে পারিনি। তবে আমি মনে করি আমাদের লড়াইয়ে একটা বড় ভুল আছে। দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাব দেখলেই সাম্প্রদায়িক আর মাদরাসায় পড়লেই জঙ্গি- আমাদের এই ভাবনায় বড় গলদ আছে। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতেও জঙ্গির চাষ হয়, জিন্স-টি শার্টের আড়ালেও সাম্প্রদায়িকতা ঘাপটি মেরে থাকে; এমন উদাহরণ তো ভুরি ভুরি।

বোরকা আর টুপিকে সাম্প্রদায়িকতা ভেবে আমরা সমাজের একটা বড় অংশকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে রেখেছি। লাখ লাখ মাদরাসার ছাত্রকে শত্রু মনে করেছি। আমরা কখনো সেই নারীর বেদনা বুঝিনি; তাকে কত লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অত্যাচার সয়ে সংসার করতে হয়। আমরা কখনো মাদরাসা ছাত্রের অসহায়ত্ব, দিনের পর দিন নির্যাতনের বেদনা উপলব্ধি করিনি। ঢাকায় পান থেকে চুন খসলেই নারীরা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। কিন্তু গ্রামের নারীর প্রতিদিনের নির্যাতনের পাশে দাঁড়াই না। ভালো না লাগলে সংসার করবো না, এটা বলার সুযোগ গ্রামের নারীর নেই। তার কাছে নারীবাদ মানে বেঁচে থাকা, টিকে থাকা, মাটি কামড়ে সংসার করা। আর মাদরাসার ছাত্রটি দিনের পর দিন হুজুরের বিকৃতির শিকার হয়েও চুপ করে থাকে। প্রতিবাদ করলে তার থাকা-খাওয়ার শেষ আশ্রয়টুকু উড়ে যাবে। আমরা তাদের পাশে দাঁড়াই না। সারাক্ষণ দোষ দেই।

এভাবে নিজেদের লড়াইটা আরও কঠিন করে ফেলি, নিজেদের স্পেসটাকে আরও সঙ্কুচিত করে ফেলি। তারপর নিজেরা নিজেরা তথাকথিত প্রগতিশীলতার একটা কমফোর্ট জোন তৈরি করে নেই। বিশাল বাংলার কোটি কোটি মানুষের হাহাকার আমাদের কানে পৌঁছায় না। এই সুযোগে মাদরাসার বড় হুজুর গিয়ে তার ছাত্র বাড়ায়। আর ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, প্রগতিশীলতা মানে ইসলাম বিরোধিতা নয়। ইসলামকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে বাংলাদেশে কোনো লড়াইয়ে জেতা যাবে না। সবার ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মে বিশ্বাস করার, এমনকি বিশ্বাস না করারও অধিকার দিতে হবে। মৌলবাদী চিন্তার কাঠমোল্লারা যাতে ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের মনোজগতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সেটা করতে হবে ধার্মিকদের পাশে দাড়িয়ে, তাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে নয়।

দুই সপ্তাহ আগে এই কলামে ‘ফারহানারাই এগিয়ে যাবে, এগিয়ে নেবে’ শিরোনামে যশোরে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে নিজের গায়ে হলুদে যাওয়া ফারহানার পক্ষে লিখেছিলাম। সমস্যা হলো ফারহানার মোটরসাইকেলে চড়ে গায়ে হলুদে যাওয়া দেখে একটা পক্ষ, ইসলাম গেল গেল বলে রব তুলেছিলেন। আবার এখন আরেকপক্ষ একজন নারী বোরকা পরে ব্যাট চালিয়েছেন বলে দেশ আফগানিস্তান হয়ে গেছে বলে মনে করছেন। আরে ভাই, নারীরা এখন ট্রেন চালায়, প্লেন চালায়, প্যারাস্যুটে জাম্প করে, ফুটবল খেলে, ক্রিকেট খেলে; তাই বোরকা আর মোটরসাইকেলে তাদের আটকে রাখা যাবে না।

আর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ধর্মভীরু হলেও সবাই ধর্মান্ধ নয়। হলে ইসলামী দলগুলো অনেক ভোট পেত, জঙ্গিরাও আশ্রয় পেত সমাজে। তাই বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানানোও অত সহজ নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি সত্যিকারের উদার, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই; একটি প্রগতিশীল, মুক্তচিন্তার, বহুত্ববাদী সমাজ চাই। যেখানে আস্তিক থাকবে, নাস্তিক থাকবে, ধার্মিক থাকবে, মানুষের মর্যাদা থাকবে, ব্যক্তির স্বাধীনতা থাকবে। একজন নারীর ভালো লাগলে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজের গায়ে হলুদে এন্ট্রি মারবেন, চাইলে বোরকা পরে ছক্বা পেটাবেন। কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দেয়া যাবে না।

এইচআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]