ভোক্তার পকেট কাটা বন্ধ হবে কবে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৯:১৬ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০২০

দেশে নানামুখী সংকট চলছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত কারণে মানুষজন রয়েছে চরম দুর্ভোগে। এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে যদি দ্রব্যমূল্য নাগালে রাখা না যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নাগালের মধ্যে রাখা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। সে লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বাজারে এমন কোনো সবজি নেই যার দাম বাড়ছে না। সবচেয়ে বাড়তির দিকে পেঁয়াজের দাম। ১০০ টাকা কেজিতে অনেকটা স্থির হয়ে আছে পেঁয়াজের দাম। কমার কোনো লক্ষণ নেই। টিসিবি ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রির কথা বললেও তার মান খারাপ এবং অপ্রতুল। ফলে বাড়তি দামেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে লোকজনকে। অন্যদিকে পেঁয়াজের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আলুর দাম। খোদ কৃষিমন্ত্রী আলুর দাম নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আলু ব্যাবসায়ীরা বর্তমানে প্রতিকেজি আলুতে অন্তত ২০ টাকা লাভ করছেন। এটা একেবারেই অনৈতিক। কেজিপ্রতি খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা বেঁধে দেয়া হলেও সেটি বাস্তবায়ন কঠিন। তবে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২০ ও কৃষির সমসাময়িক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, 'যে দামে তারা (ব্যবসায়ী) কিনেছে, কত লাভ করবে... কিনেছে ১৭ থেকে ১৮ টাকা করে। কিন্তু এটা তাদের ৪৫-৫০ টাকা করে কেন বিক্রি করতে হবে? এই লাভ করার প্রবণতা... ন্যূনতম একটা নৈতিকতা তাদের মধ্যে কাজ করে না। এক কেজি আলুতে ২০ টাকা লাভ করা কি সহজ কথা? সে সুযোগ তারা নিচ্ছে।'

মানুষজনের চাওয়াও তাই চায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক থাকুক। চলছে করোনা মহামারি কাল। সবমিলিয়ে জনজীবন পর্যুদস্ত। এরমধ্যে জিনিপত্রের দাম বাড়লে সেটি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। দুঃখজনক হচ্ছে সিন্ডিকেটধারীরা ওতপেতে থাকে নাজুক সময়ে সুযোগ নিয়ে ভোক্তার পকেট কাটার জন্য। তারা যাতে সেই সুযোগ নিতে না পারে এ জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

সিন্ডিকেটচক্রের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। তাছাড়া বাজারে টিসিবির মাধ্যমে পণ্যের সরবরাহও ঠিক রাখতে হবে।যে কোনো উছিলায় পণ্যের দাম বাড়ানো যেন স্বাভঅবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের মুনাফালোভী মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে শুধু মুনাফার লোভ কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে সরকার, ব্যবসায়ীমহলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভোক্তাস্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

এইচআর/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]