টিউশন ফি নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ হোক

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

টিউশন ফি নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ফি দেয়া নিয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবকরা বিপাকে পড়েছেন। একদিকে আয় কমে গেছে অন্যদিকে অযাচিত ব্যয় বাড়ছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন মওকুফের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকরা। গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর রূপনগরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তারা। করোনায় অনেক অভিভাবক আর্থিক সংকটে রয়েছে। অনেকে সন্তানের টিউশন-পরীক্ষার ফি পরিশোধ করতে পারছেন না। অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে বকেয়া পরিশোধের জন্য প্রতিনিয়ত চাপ সৃষ্টি করছে। বকেয়া পরিশোধ করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে তোলা হবে না বলেও হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাই ৫০ শতাংশ বকেয়া ছাড় দিয়ে সুবিধামতো টিউশন ফি পরিশোধের দাবিতে রাস্তায় নামেন অভিভাবকরা।

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ চলছে। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে অনলাইন ক্লাস গুণগত মানের হচ্ছে না। কিন্তু এ জন্য মোটা অংকের টিউশন ফি গুণতে হচ্ছে অভিভাবকদের।

টিউশন ফি নিয়ে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দিকে সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমকে বলেন, 'দুর্যোগের এ মুহূর্তে সবাইকে সহনশীল হতে হবে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আগামী কয়েক মাস চলার সামর্থ্য আছে, তাদের উচিত অভিভাবকদের জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়া। তারা কিস্তিতে ফি নিতে পারেন, অতিদরিদ্র কারও কারও মওকুফ করে দিতে পারেন। আর যেসব অভিভাবকের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের উচিত টিউশন ফি দিয়ে দেওয়া। কারণ ফি না পেলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কীভাবে শিক্ষকদের বেতন দেবেন? প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবক উভয়কেই এক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে। করোনার এই সময়ে উভয়কেই আরও মানবিক হতে হবে।'

করোনা মহামারির কারণে মানুষজন দারুণ বিপাকে। অনেকেরই আয় কমে গেছে। কেউ কেউ হারিয়েছেন চাকরি। উচ্চদ্রব্যমূল্যসহ নানাবিধ সংকট পিছু ছাড়ছে না। এ অবস্থায় টিউশন ফি যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। অন্যদিকে টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুগছে অর্থ সংকটে। তাদের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। তবে সেটি কোনো অবস্থায়ই অভিভাবকদের ওপর যেন চাপ সৃষ্টি না করে।

এইচআর/এমএস

‘করোনা মহামারির কারণে মানুষজন দারুণ বিপাকে। অনেকেরই আয় কমে গেছে। কেউ কেউ হারিয়েছেন চাকরি। উচ্চদ্রব্যমূল্যসহ নানাবিধ সংকট পিছু ছাড়ছে না। এ অবস্থায় টিউশন ফি যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। অন্যদিকে টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুগছে অর্থ সংকটে। তাদের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। তবে সেটি কোনো অবস্থায়ই অভিভাবকদের ওপর যেন চাপ সৃষ্টি না করে।’

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]