বেকারত্বের মহামারিতেও তরুণ উদ্যোক্তারা বঞ্চিত

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:১৪ এএম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

ইসরাত জাহান চৈতী

বর্তমান সময়ে চাকরি যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। চাকরির বাজার অন্যান্য সময়ের তুলনায় করোনা পরিস্থিতিতে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকে হারিয়েছেন চাকরি। তাই বাড়ছে বেকারত্বের হারও। বেকার সমস্যা বাংলাদেশ অন্যতম প্রধান সমস্যা গুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে যুব বেকারত্বের হার বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। ২০১৯ সালের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী দেশের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ বেকার। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যদি ৬ মাস বা তার বেশি বাধাগ্রস্থ হয় তাহলে যুব বেকারত্বের হার বেড়ে হতে পারে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ট্যাকলিং দ্যা কভিড-১৯ ইয়ুথ এমপ্লয়মেন্ট ক্রাইসিস ইন এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে এমনটিই জানিয়েছে আইএলও।

ভয়াবহ এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সমাজের অনেক তরুণ সদস্যই উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে চলেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক জিনিসপত্র নিয়েই কাজ করছে বহু তরুণ-তরুণী। কিন্তু নতুন এই উদ্যোক্তাদের চলার পথ খুব একটা মসৃণ নয়। পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাদের। নতুনদের এই উদ্যোগকে আমাদের সমাজ যেন সহজে সাধুবাদ জানাতে পারে না। শুরুতেই বাধা আসে পরিবার থেকে। তারপর আস্তে আস্তে বাধা আসতে শুরু করে চারপাশ থেকে। বিভিন্ন কটু কথা ও নানা ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাদের।

এত পড়াশোনা করে কেন চাকরি করছে না? কি হবে ব্যবসা করে? ইত্যাদি আরো নানান প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয় তাদের দিকে। যা একজন নতুন উদ্যোক্তাকে শুরুতেই থামিয়ে দেয়। মসৃণ পথ টিকে বানিয়ে দেয় কঠিন থেকে কঠিনতর। আর উদ্যোক্তা নারী হলে তো কোন কথাই নেই। প্রতি পদে পদে তাকে থামিয়ে দেয় সমাজ, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, উদ্যোক্তা মানে সমাজে তথাকথিত সফল হওয়া নয়, সফল হতে হলে দরকার একটি সরকারি চাকরির। 'স্বপ্ন কুড়াই' নামের একটি পেজ খুলে করোনাকালে কাঠের তৈরি গহনা নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু করেন ঢাকার বাসিন্দা মুনিয়া। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি করছেন এই কাজ। কিন্তু তাকে যেন সমাজ মেনে নিতে পারে না। কেন তিনি এই কাজ করবেন, কেন ডেলিভারি দিতে হবে বাসায় বাসায় গিয়ে, ডেলিভারি ম্যান কেন একজন ছেলে পার্টনার হবে ইত্যাদি আরো নানান প্রশ্ন তাকে শুনতে হয় প্রতিনিয়ত।

এই সমস্যা শুধু মুনিয়ার একার নয়, সমাজে আরো অনেক তরুণ উদ্যোক্তাকে এই সব সমস্যা মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়। আমাদের সমাজ যদি সাদরে গ্রহণ করে, সামনে এগিয়ে যেতে সাহস দেয় উদ্যোক্তা এই তরুণদের তবেই তারা এগিয়ে যেতে পারবে দুর্বার গতিতে। এর ফলে অনেকেই চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে ব্যবসাকে নিজেদের পেশা হিসেবে গ্রহণ করবে। এর ফলে কিছুটা হলেও কমবে সমাজে বেকারত্বের হার। তাই পারিবারিক, সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রয়োজন তরুণ উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেওয়া এবং তাদের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান। যা একসময় ব্যর্থতার গল্পকে ছাপিয়ে সফলতার গল্প শুনাবে সমাজকে।

লেখক : শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এইচআর/এমএস

একজন নতুন উদ্যোক্তাকে শুরুতেই থামিয়ে দেয়া হয়। মসৃণ পথ টিকে বানিয়ে দেয় কঠিন থেকে কঠিনতর। আর উদ্যোক্তা নারী হলে তো কোন কথাই নেই। প্রতি পদে পদে তাকে থামিয়ে দেয় সমাজ, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, উদ্যোক্তা মানে সমাজে তথাকথিত সফল হওয়া নয়, সফল হতে হলে দরকার একটি সরকারি চাকরির।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]