ভয়াবহদিনগুলো আর ফিরে না আসুক

মাহমুদ আহমদ
মাহমুদ আহমদ মাহমুদ আহমদ , ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
প্রকাশিত: ১২:৪৯ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০২০

গত ১২ নভেম্বর ২০২০ দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ, প্রেসক্লাব, গুলিস্তান, মতিঝিল, নয়াবাজার ও শাহজাহানপুর এলাকাসহ আরো অন্যান্য এলকায় বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনা বার বার আমাদেরকে ২০১৪-১৫ সালের আগুন সন্ত্রাস, পেট্টল বোমার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে সময় কয়েকশ মানুষ আগুনে পুড়ে হতাহত হয়েছিল। একপর্যায়ে আমরা ঘর থেকে বেরোতেও ভয় পেতাম। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পেতাম, আর পাঠালেও সারাদিন ভয়ে কাটতো আদরের সন্তানটি নিরাপদে ঘরে ফিরে আসবে তো। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও এমন আগুন সন্ত্রাস দেখে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। মানুষের মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা চাই না সেই ভয়াবহদিনগুলো যাতে কোনোভাবেই আবার ফিরে আসে।

গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ওয়ালিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে সহিংসতার উদ্দেশেই পার্কিং করা সরকারি যানবাহনে এবং রাস্তায় চলমান গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।’

যদিও এ ঘটনায় হতাহতের কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি তবে এ ঘটনা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। দেশে আবার অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার পাঁয়তারা নয়তো এই অগ্নিকাÐ? বিশ^ময় মহামারি করোনার কারণে বলা যায় সবাই অস্থিরতার মধ্যেই দিনাতিপাত করছে আর এমন সময় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি, বিশ^ময় মহামারি করোনার কারণে সব ব্যবসা-বাণিজ্য যখন বন্ধ এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দীর্ঘ আট মাস ধরে খাদ্য বা অন্য কোন কিছু নিয়ে আমরা যেখানে চিন্তিত নই বরং সুন্দরভাবে দেশ এগিয়ে চলেছে ঠিক এমন সময় এ ধরনের ঘটনা স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করে যারা এ ধরনের হীন কাজটি প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ দক্ষতার ফলেই আমরা করোনা মহামারির ধাক্কা সামলিয়ে একটি সুন্দর সময় অতিবাহিত করছি। এই সুন্দর সময়ে আবার জ্বালাও-পোড়াও তা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

যুগ যুগ ধরে এ চিরসবুজ বাংলার মাটিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। শত দল-মত থাকা সত্তে¡ও সবার মাঝে রয়েছে ভ্রাতৃত্ব, প্রেম, ভালোবাসা। সবাই সহজ সরল জীবন যাপনে অভ্যস্থ। দেশমাতৃকা বাংলা সবার শান্তির আবাস। তাইতো কবিরা গেয়েছেন ‘ও আমার দেশের মাটি, তোমার পরে ঠেকাই মাথা। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের সেরা সে যে আমার জন্মভূমি’। কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন, ‘আবার আসিব আমি এই বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে, জলাঙগীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার সবুজ করুণ ডাঙ্গায়।’ তাই এই মায়ময় বাংলায় নৈরাজ্য ও অরাজকতার কোন স্থান নেই। একইদিনে ছয়টি স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার ঘটনা আমাদেরকে বিস্মৃত করেছে।

আমরা লক্ষ্য করি একশ্রেণি এমন রয়েছে যারা কারণে অকারণে বিভিন্ন সময় ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াও ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা রাস্তায় নেমে পড়ে আর নির্বিচারে দেশের সম্পদ নষ্ট করে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশ যখন করোনা মহামারির সঙ্গে লড়ছে এবং নিজ নিজ দেশের মানুষের সুরক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নানা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে চলেছে, সে সময়ে হীন গোষ্ঠীস্বার্থের জন্য এভাবে আগুন জ্বালিয়ে মানুষ হত্যার অপতৎপরতা নজিরবিহীন। এটি কোন প্রকৃত মানুষের কাজ হতে পারে না।

আসলে যারা সমাজ ও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে তাদের কোন ধর্ম নেই, তারা সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন জ্বালিয়ে যারা এ কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এদেশ আমাদের সবার, তাই এদেশের উন্নয়নেও সবার অংশ নিতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে আমরা সহাবস্থান করব- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এইচআর/পিআর

আসলে যারা সমাজ ও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে তাদের কোন ধর্ম নেই, তারা সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন জ্বালিয়ে যারা এ কাজটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এদেশ আমাদের সবার, তাই এদেশের উন্নয়নেও সবার অংশ নিতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে আমরা সহাবস্থান করব- এটাই আমাদের প্রত্যাশা

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]