পরীক্ষা ভীতি এবং ক্রিসেলের কুকুর

ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
ডা. বিএম আতিকুজ্জামান ডা. বিএম আতিকুজ্জামান
প্রকাশিত: ০৩:৩২ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

এ বয়সেও আমাকে পরীক্ষায় বসতে হয়। সামান্য বিরতিসহ টানা আট-দশ ঘণ্টার পরীক্ষা। পরীক্ষার শেষপ্রান্তে মাথা কাজ করে না। মনে মনে পরীক্ষাওয়ালাদের অভিশাপ দেই। মেডিকেল কলেজে আমার বেশকিছু পডুয়া মেধাবী বন্ধুকে দেখতাম পরীক্ষার আগে উধাও হয়ে যেত। কাউকে কাউকে পাহারা দিতে হতো। কারো কারো বাবা-মা পরীক্ষা হলে আসতেন সাহস জোগাতে।

ক্রিসেল আমার রোগী অনেক বছর ধরে। ওর পরীক্ষা ভীতি ছোটবেলা থেকে। সেগুলোর পাশাপাশি তার আছে উদ্বেগ ব্যাধি। সব বাধা অতিক্রম করে সে এখন সাইকোথেরাপিস্ট। ওর সাথে আসে জ্যাক। জ্যাক ওর ‘সার্ভিস ডগ’। জ্যাক তার অফিসে তার পায়ের কাছে বসে থাকে। তার রোগীরা ওকে খুব পছন্দ করে।

ক্রিসেলের ছোটবেলাটা বড় কষ্টের। মায়ের ছিল কঠিন ব্যাধি। বাবা ছিল মাদকাসক্ত। ওহাইয়োর ছোট একটা শহরের কারখানায় কাজ করতো তার বাবা। চার ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল সে। জন্মগতভাবে তার চোয়াল ছিল ছোট। স্কুলে গেলেই সেটি নিয়ে নানা রকমের কথা বলতো তার সহপাঠীরা।

jagonews24

সেই থেকে স্কুলে যাওয়ার প্রতি তার অনীহা। পরীক্ষা দেয়ার প্রতি আরো অনীহা। তার মা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে স্কুলের এক কাউন্সিলরের কাছে তাকে নিয়ে যান। তিনি ব্যাপারটি নিয়ে অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে তাকে সাহায্য করলেন। সে সময় একজন সাইকোথেরাপিস্ট তাকে একটি ‘সার্ভিস ডগের’ ব্যবস্থা করে দেন।

তার জীবনে সেটি আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। পরবর্তীতে নিজেও হয়ে যান সাইকোথেরাপিস্ট। সার্ভিস কুকুরগুলোকে মানবিক শিক্ষা দিয়ে বড় করা হয়। ওরা অনেক শারীরিক ও মানসিক রোগীদের সাহায্য করে। ওরা খুব সহানুভূতিশীল এবং অনুগত। ক্রিসেল তার কাজের পাশাপাশি অনেক ধরনের মানবিক কাজ করে। তার একটি হলো পরীক্ষা কেন্দ্রে জ্যাককে নিয়ে যাওয়া।

জ্যাককে দেখলেই পরীক্ষার্থীরা খুশি হয়ে যায়। জ্যাক তাদের মজার মজার সব কসরৎ দেখায়। এতে তাদের পরীক্ষাভীতি কমে আসে।

অভিনব ব্যাপার। জ্যাক এলেই আমার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমাকেও চেনে সে। জ্যাক আমার দিনটিকে আলোকিত করে দেয়।

এইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]