বিদেশে বসে দেশোদ্ধার করবেন না প্লিজ

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৩৩ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

মেজর অব. আহমেদ ফেরদৌস

বাংলাদেশ নামক বদ্বীপ খ্যাত এই অঞ্চলটি যুগে যুগেই মীর জাফরদের আক্রা নামেই ইতিহাসে পরিচিত। পলাশীর প্রান্তরে তাই ইংরেজ বাহিনীর মাত্র গুটিকয়েক সেনার আক্রমণে বাংলার শেষ নওয়াব সিরাজের বিশাল বাহিনী মিরজাফর, উমিচাঁদ, ঘসেটি বেগম গংয়ের বিশ্বাস ঘাতকতায় পরাস্ত হয়ে ইতিহাসের এই কালো অধ্যায় রচনার সূত্রপাত ঘটে। তাই তো লর্ড ক্লাইভ তাঁর আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন, সেদিন উৎসুক জনতা যদি একটি করে ঢিল নিক্ষেপ করতো ইংরেজ বাহিনীর ওপর, তবে ইংরেজদের এই উপমহাদেশে দেড়শ বছর শাসন দূরে থাক, লেজ গুটিয়ে পালাতে হতো। ইতিহাসের এই সেই শুরু হতে আজ অবধি চলছে উমিচাঁদ, ঘসেটি বেগম এবং মিরজাফরগিরি। আমাদের রক্তে মিশে যাওয়া এই ব্যাধি হতে কবে নিরাময় পাবো, তা জানিনে। তবে টিকা আবিষ্কার হবেই হবে, যেমনি মহামারি করোনার টিকা আজ বিশ্ববাজারে পেতে যাওয়া শুরু হয়েছে।

ক্ষমা করবেন আমায় এই নামে কাউকে ডাকা আমি ঘৃণা করলেও অনেক দিন ধরে ইউটিউবের কল্যাণে চিল্লা চিল্লি ও বিশ্রী শব্দ চয়নে আমি এবং আমরা ত্যক্ত বিরক্ত। চোরের মুখে রাম নাম শুনতে শুনতে অসহ্য হয়েই আজ ২০২১ এর প্রথম মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলম ধরেছি প্রতিবাদ করতে। আমার হৃদয়ে যখন বাংলাদেশ, কপালে যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিল মোহর অঙ্কিত, বিশ্বাসে যখন বাংলাদেশের সুশাসন এবং অন্তরে দেশপ্রেম, তখন কেন আমি হেদায়েতপ্রাপ্ত হবো একজন সুবিধাবাদী প্রতারকের দ্বারা?

যার কথা বলছি তিনি সামরিক কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে বরখাস্ত হন। তখন ছিলেন হালুয়া রুটির মাখন খাওয়ার মাঝে বিধায় উচ্চবাচ্য ছিল অনুপস্থিত। এই ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে তাঁর আপন শ্বশুরের কারখানা, জমি, অর্থ সম্পদ দখলের ইতিহাস এই ইউটিউবেই দেখেছি। তাঁর স্ত্রীর মা এবং বড় ভাইকে প্রতারণা করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ এবং ধনসম্পদের মালিক বনে যাওয়ার ঘটনাও আমরা ইউটিউবের কল্যাণে অবহিত।

এভাবেই চলছিল আঙুল ফুলে কলাগাছের মালিক বনে যাওয়া ওই ব্যক্তির উত্থান। এরপর ব্যবসায়িক বিরোধ হলে তখনই তিনি দেশ ত্যাগ করে লন্ডন প্রবাসী বনে যান। একজন তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তির মুখে যখন ‘মাতারানি’ জাতীয় শব্দ শুনি, তখন বুঝতে বাকি থাকে না, এই ব্যক্তির পিতৃ পরিচয়। ইউটিউবের কল্যাণে খুঁজলেই পাবেন, কে এই মহানায়ক এবং বাংলাদেশের ত্রাণকর্তা?

রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের বাক-স্বাধীনতার নামে যা তা বলেই যাবে, তা কীভাবে করি বরদাশত? আলোচনার সুবিধায় ধরেই নিলাম, তাঁর অভিযোগ সব সত্য। তাঁর পরও কি আমরা একজন ৬০ + নাগরিক হতে চিল্লাচিল্লি এবং গালিগালাজ হজম করতে পারি? আরে ভাই, দেশটা কি আফ্রিকার বন জঙ্গলের সংস্কৃতির চর্চার লীলাভূমি?
Hey Come On Mister, Enough is Enough. Damn You & Your Thoughts.

আপনার মুখে বিদ্রোহের ডাক আর বাঘের হরিণ না ধরার শপথের মাঝে কি আছে কোনো পার্থক্য? সংবিধান রচনা করে দেশকে মৃত্যুর পূর্বে আপনি মুক্তি দেয়ার কোন যোগ্যতা রাখেন যদি এ প্রশ্ন করি, তবে কোন মুখে উত্তর দেবেন আপনি? আপনার কাছ থেকে অবশ্য এর বেশি কিইবা করবো আশা স্যার?

আচ্ছা, আপনারা কি আপামর বাংলাদেশের জনগণকে লন্ডন কানাডায় বসে বোকা ভাবছেন? সাবধান। আমরা বাংলাদেশিরা ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ’৭১ এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সেই জাতি। আমরা পাকিস্তান হতে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি কি আপনাদের ষড়যন্ত্রের ক্রিম খেতে দিতে? নাকি আপনার হাতে দিয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশের ভাগ্যের চাবি?

How Dare You Provoke Bangladesh Armed Forces To Do Mutiny Against That Nation Who is Still Traumatized By 1/11 Aftermath?

অবশ্য আপনাকে দেখলে আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাঁড়ের চ্যালা মনে হয়। নিশ্চয়ই আপনি একজন ট্রাম্প সমর্থক। আপনি ও আপনার গং এবং অনুসারীদের সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি, আমরা বাংলাদেশি জনগণ আমাদের মৌলিক অধিকার এবং সংবিধানের সেই সব পরিবর্তন চাই যেখানে মনোনয়ন বাণিজ্য থাকবে না, যেখানে থাকবে সুশাসন, থাকবে মুক্তচিন্তার অবকাশ এবং পরিবেশ, থাকবে না বেনিয়া ফরিয়াদের রাজনীতির মাঠ দখল করে সাংসদ বনে যাওয়া, থাকবে না হাইব্রিড নেতা, থাকবে জনমানুষের কথা বলার সাংসদ, থাকবে না ব্যাংক লুট করে পি কে হালদার, থাকবে না সম্রাট টাইপ মাফিয়াদের আগমন। আমরা চাই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে বিশ্ব পরিমণ্ডলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বলুক, আমরাই বাংলাদেশ।

আসুন আমরা ষড়যন্ত্র পরিহার করে জাতীয় স্বার্থে গাই একতার গান। দেশে ফিরে আসুন। রাজনীতি করুন সুস্থ ধারার। বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতাদের গুষ্টি উদ্ধার না করে ইতিবাচক রাজনীতি করুন। শ্রদ্ধা করুন ভাসানী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকদের মতো দেশপ্রেমিক নেতাদের। অতীত হতে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুক্ত করুন দেশ গঠনে। আমরা যারা আজ অবধি রাজনীতিবিমুখ, তাদের উৎসাহ দেন সুস্থধারার রাজনীতিতে আসতে, ভেঙে ফেলুন ক্ষমতার মোহের রাজনীতির কালচার।

আলো আসবেই ইনশাআল্লাহ, আলো আসবেই। বাংলাদেশ আজ যেখানে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছে, তখন লাখো শহীদের সোনার বাংলা যেন আমরা রেখে যেতে পারি আগামী প্রজন্মের কাছে- এই হোক আমার আপনার আমাদের প্রার্থনা। আল্লাহ আমাদের কামিয়াব করুন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা।
ahmedferdo[email protected]

এইচআর/এমএস

আচ্ছা, আপনারা কি আপামর বাংলাদেশের জনগণকে লন্ডন ক্যানাডায় বসে বোকা ভাবছেন? সাবধান। আমরা বাংলাদেশিরা ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সেই জাতি। আমরা পাকিস্তান হতে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি কি আপনাদের ষড়যন্ত্রের ক্রিম খেতে দিতে? নাকি আপনার হাতে দিয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশের ভাগ্যের চাবি?

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]