মৌলবাদীদের মোদি বিরোধিতায় পাকিস্তান-বিএনপি’র অর্থায়ন!

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ০৬ মে ২০২১ | আপডেট: ০৮:২৮ পিএম, ০৬ মে ২০২১

ফারাজী আজমল হোসেন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকালে দেশকে অশান্ত করতে পাকিস্তানভিত্তিক মৌলবাদীরা অর্থ সরবরাহ করেছে। এর সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বেশকিছু বাংলাদেশি জড়িত রয়েছে। পাকিস্তানের এই অর্থ বিদেশি রেমিটেন্স আকারে দেশে প্রবেশ করে যার মাধ্যমে বাংলাদেশে সংগঠিত হয়েছে মোদি বিরোধী আন্দোলন।

বাংলাদেশে বড় ধরনের নাশকতা ছিল মৌলবাদীদের মূল লক্ষ্য। দেশ বিরোধী এই ষড়যন্ত্রে বিএনপিও মদত জুগিয়েছে মৌলবাদীদের। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের পরিকল্পনাই ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত। মোদির বিরোধিতার মাধ্যমে সরকারকে বিপদে ফেলে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চালিয়েছে হেফাজত। আর তাদেরকে দেশের ভিতর মদত জুগিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত ইসলাম। আর পেছনে থেকে কলকাঠি নেড়েছে বিশ্বে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়া পাকিস্তানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।

কট্টরপন্থী মৌলবাদী নেতা মামুনুল আটক অবস্থায় জেরার মুখে পাকিস্তান-জামায়াত-বিএনপি মদতের কথা স্বীকার করেছেন। মাদ্রাসা ছাত্রদের প্ররোচনা দিয়ে বাংলাদেশকে অশান্ত করে তোলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। গোটা চক্রান্তের পিছনে ছিল বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ মদত। তাদের সঙ্গে কথা বলেই দেশকে অস্থিতিশীল অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়ার ফন্দি করেছিল হেফাজত নেতারা। এই কাজে পাকিস্তান যোগান দেয় প্রয়োজনীয় অর্থের বড় অংশ।

জন্মসূত্রে বাংলাদেশি মামুনুলের নিয়মিত যোগাযোগ ছিলো আফগানিস্তানের মুজাহিদীনদের সঙ্গে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ডিটেকটিভ পুলিশ মামুনুলকে তাদের হেফাজতে নিয়ে জেরার মাধ্যমে গোটা পরিকল্পনার অনেকটাই জানতে পেরেছে। এখনও আরো অনেক তথ্য তারা জানার চেষ্টা করছে। উঠে আসতে শুরু করেছে আরও বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, মামুনুলের ব্যক্তিগত জীবনও বেশ অসঙ্গতিপূর্ণ। মুখে বড় বড় কথা বললেও তার তিনটি বিয়ের কথা উঠে এসেছে পুলিশি জেরায়। তবে তিনটি বিয়ের মধ্যে একটিই শুধু বৈধ। বাকি দুটি বিয়ের কোনও বৈধ কাগজপত্র নেই।

মামুনুল ও হেফাজতের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য প্রমাণ পুলিশের হাতে এসেছে। সমস্ত তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, মোদির সফরের আগে বাংলাদেশ জুড়ে নাশকতা চালানোর ষড়যন্ত্র ছিল হেফাজতের। বিভিন্ন মন্দিরের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ অফিস আর সরকারি দফতরে আগুন লাগানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাতে টাকার অভাব ছিল না তাদের। কারণ পাকিস্তান প্রচুর টাকা দিয়েছিল বাংলাদেশকে অশান্ত করে তুলতে। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীরাও কেউ কেউ অর্থ জুগিয়েছে এই ষড়যন্ত্রে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে অর্থায়নে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়েও বহু তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গোটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য হাটহাজারি মাদ্রাসার আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। খালেদা অসুস্থ হলে তার ছেলে তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা শুরু করে বাবু নগরী ও মামুনুল।

লন্ডনে বসে গোটা পরিকল্পনাটিতে বড় ভূমিকা ছিল বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। বাংলাদেশে একাধিক মামলার পলাতক আসামী তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০১৮ সালে অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগে দুটি মামলায় সাজা পান তারেক রহমান। এই দুই মামলায় সাজা হওয়া ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটিসহ ঢাকার আদালতগুলোয় এখনও ১৯টি মামলার কার্যক্রম চলমান।

এসব মামলার প্রায় প্রত্যেকটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন মামলায়ও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও রয়েছে। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও পলাতক আসামী হিসেবে বিদেশে বসে দেশে নাশকতা সৃষ্টির জন্য উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে হওয়া প্রতিটি মৌলবাদী কার্যক্রমে আইএসআই-এর পাশাপাশি কাজ করে গেছেন তারেক রহমান।

এবারও লন্ডনে বসেই সরকার বিরোধী কর্মসূচিকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পরিচালনা করেন তারেক নিজেই। হেফাজতের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগের বিষয়ে বহু তথ্য-প্রমাণ গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাঁরা এখন সেইসব তথ্য প্রমাণ বিচার করে দেখছেন। ২০১৩ সালে হেফাজত বাংলাদেশে যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, সেটাও এখন গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে। নতুন করে সবকিছু খতিয়ে দেখে অশান্তিতে মদত দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। কারণ গোয়েন্দারা নিশ্চিত, ২০১৩ সালেও দেশ বিরোধী অশান্তিতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি যুক্ত ছিল। সেই প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে।

সৃষ্টি থেকেই বাংলাদেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক ছিলো বিএনপির। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশের পশ্চাৎপদ যাত্রার শুরু। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত ইসলাম। এখনো বাংলাদেশের সকল জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে এই জামায়াত ইসলাম। আর তাদের সমর্থনে রয়েছে বিএনপি।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

এইচআর/জেআইএম

সৃষ্টি থেকেই বাংলাদেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক ছিলো বিএনপির। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশের পশ্চাৎপদ যাত্রার শুরু। তার হাত ধরেই বাংলাদেশে রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত ইসলাম। এখনো বাংলাদেশের সকল জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে এই জামায়াত ইসলাম। আর তাদের সমর্থনে রয়েছে বিএনপি।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]