পোশাককর্মীদের দাবি শুনুন


প্রকাশিত: ০৬:৫৭ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬

এক অমিত সম্ভাবনা হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকখাত। আমাদের অর্থনীতির গতিপ্রবাহ অনেকটাই ঠিক থাকে পোশাকখাত থেকে আসা রেমিটেন্সে। পোশাককর্মীরা এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখে চলেছেন। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর চলছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে একালের জীবনযোদ্ধা তারা। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে পোশাকখাতের উন্নতি হলেও এ খাতের শ্রমিকদের জীবন-মানের তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।  এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।

ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন করছেন ঢাকার আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সেখানে অন্তত ১০টি কারখানায় কাজ না করে বের হয়ে গেছেন শ্রমিকেরা। তিনটি কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করছেন তারা। আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত এই অবস্থা চলছে। এসব কারখানার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের জীবনমানের সার্বিক উন্নতিকল্পে অবিলম্বে তাদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শ্রমিকদের দাবি তারা যা বেতন পান, তাতে সংসার চলে না।  ২০১৩ সালের সর্বশেষ মজুরি বোর্ডের বেতন অনুসারে শ্রমিকেরা পান ৫ হাজার ৩০০ টাকা। শ্রমিকেরা ন্যূনতম পাঁচ হাজারের বদলে তাদের বেতন ১৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়া নিয়ম অনুসারে গ্র্যাচুইটি পান না শ্রমিকরা। প্রয়োজন পড়লে ছুটিও পান না। ছুটি দিলেও বেতন দেওয়া হয় না। কথায় কথায় ছাঁটাইসহ নানা অনিয়ম তো রয়েছেই। রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনসের মত কারখানায় মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পরও এখানকার শ্রমিকদের সেই তুলনায় ক্ষতিপূরণও  দেওয়া হয়নি।
 
পোশাক খাত শুধু আমাদের রপ্তানি আয় বাড়াতেই ভূমিকা রাখছে না, ‘মেড ইন বাংলাদেশ` ব্র্যান্ডিং- এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করছে বহির্বিশ্বে। তাই শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করে পোশাক খাতের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কর্তৃপক্ষের উচিত হবে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি শোনা, তাদের সাথে কথা বলে একটি যুক্তিগ্রাহ্য সমাধানের পথ বের করা। পোশাকখাতের সার্বিক উন্নতিকল্পে এটা অত্যন্ত জরুরি।

এইচআর/আরআইপি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]