Jago News logo
Banglalink
ঢাকা, বুধবার, ২৮ জুন ২০১৭ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

আমেরিকার নির্বাচনে পুতিনের ট্রাম্প কার্ড


নাসরীন মুস্তাফা

প্রকাশিত: ০৯:৫৫ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১০:০০ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৭, বৃহস্পতিবার
আমেরিকার নির্বাচনে পুতিনের ট্রাম্প কার্ড

আমেরিকার নির্বাচন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, হিলারি ক্লিনটন, বারাকা ওবামা, ভ্লাদিমির পুতিন- এই পাঁচটি শব্দের মধ্যে কোনটি বেমানান, বলুন তো?

আমেরিকার সাথে সম্পর্কযুক্ত আমেরিকার নির্বাচন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, হিলারি ক্লিনটন, বারাকা ওবামা চললেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কেন এসবের সাথে আসতে যাবেন, কেনইবা বেমানান শব্দজটে থাকবেন তিনি, এই প্রশ্নের জবাব চাইতে গেলে পাল্টা প্রশ্ন আসবে এরকম, আমেরিকার ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নামটা কেন আসবে না? তিনি নাকি শুরু থেকেই অদৃশ্যে খেলেছেন, ট্রাম্প কার্ডের মতো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যবহার করে দখল করে নিয়েছেন শীতল যুদ্ধের জয়, বিস্তারিত রাগ না ঝাড়লেও রাশিয়ার সাইবার হামলার মাধ্যমে ট্রাম্পকে জিতিয়ে দেওয়ার দোষ পুতিনের ঘাড়ে ঝাড়ার বার্তা এসেছে খোদ সাদা বাড়ি থেকেই!  বিশ্বমিডিয়ায় এখন গরম শিরোনাম-পুতিনের প্রতিশোধ বা রাশিয়ার প্রতিশোধ। ১৯৯০-এর আমেরিকান অবমাননা ভোলেনি রাশিয়া। শীতল যুদ্ধ ২.০. জিততেই হবে, এই সংকল্প নিয়ে রাশিয়ার স্ট্রংম্যান দারুণ ছক কেটেছেন, ছক মতোই চাল চেলেছেন এবং সম্ভবত তিনি জিতে যাচ্ছেন।

১৯৯৪-এর সেপ্টেম্বর। নতুন বন্ধু, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সাথে  রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলেৎসিনের কর্মব্যস্ত দিন কাটছিল ওয়াশিংটনে। এর তিন বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেছে, আমেরিকা-রাশিয়ার বন্ধুত্ব তুঙ্গে, কয়েক দশকের বৈরিতাকে মাটিচাপা দিতে ব্যস্ত দু’পক্ষই। সমাজতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র থেকে বেরিয়ে এসে রাশিয়া ‘মুক্তি’ পেয়েছে। আমেরিকান রেসিপি মেনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা তখনো বড্ড ভঙ্গুর, ভোগবাদী অর্থনীতি ক্রমশঃ কতৃত্বপরায়ণ হচ্ছে। শক্তিশালী ইউরোপ গড়ে তুলতে পশ্চিমা-বন্ধু রাশিয়া দরকার ছিল, পাওয়া গেল তা। ক্লিনটন আর ইয়েলেৎসিন এক ও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে এক মত হলেন, লক্ষ্যটা ছিল মস্কোর অধীনে কোন প্রতিশোধপরায়ণ নিরাপদ রাষ্ট্র থাকবে না বিধায় রাশিয়া শীতল যুদ্ধে জড়িত থাকবে না। এর কিছু দিন পরই বন্ধু ক্লিনটন গেলেন মস্কো, তরুণ রাশিয়ানদের বললেন, ‘ভয়কে জয় করে আশাবাদী হও’, বললেন, ‘রাশিয়ার মহত্ত্বের নতুন ব্যাখ্যা খুঁজে বের কর’। 

আমেরিকান আর রাশিয়ান নেতৃত্বে এমন গলাগলি ভাব চলছিল, যদিও গোঁজামিলে গণতন্ত্র রাশিয়াকে ‘পুতুল’ রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলল, মদ্যপ প্রেসিডেন্ট ইয়েলেৎসিন প্রকাশ্যেই ভারসাম্য হারাতে থাকলেন, বন্ধু ক্লিনটনকে ফোন করে সাহায্য চাওয়াও বেড়ে গেল অনেক। এই দুইজনের এক গোপন টেলিফোন আলাপ ফাঁস হলে জানা যায়, ইয়েলেৎসিন নাকি সাবমেরিনের ভেতর বসে গোপন আলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নিজের লোককেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না বলেই সাবমেরিনে বসে আলাপ করবেন বন্ধুর সাথে, অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে নিজের আসন দৃঢ় করতে আমেরিকান ডলারের চাহিদা প্রকাশ করবেন। সাবমেরিনে বৈঠক হয়েছিল কি না নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ডলারের চাহিদা ভ্রমণরত ক্লিনটনকে ঠিকই দিয়েছিলেন ইয়েলেৎসিন, আর তাই বিনিময়ে ক্লিনটন ন্যাটো জোটের বিস্তৃতি পূর্ব ইউরোপ পর্যন্ত ঘটানোর ইচ্ছে প্রকাশ করলে ইয়েলেৎসিন নারাজ হননি। ‘বিল এন্ড বরিস শো’ আশা জাগিয়েছিল, কোন একদিন হয়তো রাশিয়া ন্যাটোতে যোগ দেবে, আমেরিকা-রাশিয়ার সামরিক জোট হবে। এমন আশা টিকে ছিল যতদিন না রঙ্গমঞ্চে পুতিনের আবির্ভাব ঘটল। ন্যাটোকে নিউক্লিয়ার ‘চর্চা’র মাধ্যমে হুমকি প্রদর্শন করা পুতিনের নিয়মিত চর্চায় দাঁড়িয়ে গেছে। এই একটি মাত্র লোকের কারণে আমেরিকা-রাশিয়ার বন্ধুত্ব এখন প্রশ্নের মুখে, আর তাই বারাক ওবামা রাশিয়ান কূটনীতিকদের ঝেঁড়েপুছে বের করে দিয়েছেন আমেরিকা থেকে। এই লোকটি তারপরও বিষয়টি গিলে ফেলেছেন, কেন গিলেছেন তা সম্ভবত তিনি ছাড়া আর কেউ জানেন না।

ভ্লাদিমির পুতিন নামের এই লোকটি যা করছেন, তা থেকে মনে হচ্ছে আমেরিকান গণতন্ত্র মস্কোর কেন্দ্রীয় শাসনকে ‘পুনর্গঠন’ বা ‘পেরেস্ত্রইকা’ নামে সোভিয়েত ইউনিয়নকে বহুদা বিভক্ত করে দেয়, আর তখন শীতল যুদ্ধ থেকে বিশ্বকে রেহাই দিলেও তিনি পুরো ব্যাপারটাকে মেনে নিতে পারেননি। এ সবই এই লোকটির কাছে অবমাননাকর বিষয় ছিল। ‘পেরেস্ত্রইকা’ কালে ভ্লাদিমির পুতিন ছোটখাট সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সেন্ট পিটার্সবার্গে কর্মরত ছিলেন, পূর্ব জার্মানির সমাজতান্ত্রিক সরকার পতনের পর কেজিবি এজেন্ট হিসেবে তাকে তুলে আনা হলে চাকরি জীবন সমাপ্ত করেন। পুতিন নিজে বলেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ছিল ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক বিপর্যয়’। আর তাই ২০০০ সালের ১ জানুয়ারিতে রাশিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের দিনেই তিনি তাঁর লক্ষ্য সম্বন্ধে বলেছিলেন, ‘রাশিয়ার সম্মান আর মর্যাদা পুনরুদ্ধার’।  

হ্যাঁ, রুশরা ছিল এক পরাজিত জাতি। ক্ষমতায় যে গেছে, সে-ই লুট করেছে। রুশদের আয়ু গেছে কমে। বিপরীতে আমেরিকা বিশ্বজুড়ে দোর্দণ্ড প্রতাপে একাই ছড়ি ঘুরিয়েছে। আর সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাশিয়া আমেরিকার ইমেইল হ্যাক করছে, আমেরিকান সংবাদকে নিপুনভাবে গোলমেলে করে দিতে পারছে। সিআইএ-ই বলছে, এই সব কলকাঠি নেড়ে পুতিন-ই অজনপ্রিয় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিতিয়ে এনেছেন। ট্রাম্প হবেন পুতিনের সমঝদার প্রতিপক্ষ, এ ব্যাপারে ট্রাম্পের নিজের আগ্রহেরও কমতি দেখা যাচ্ছে না। বিল ক্লিনটনের ডেপুটি সেক্রেটারি ছিলেন স্ট্রব টালবট, তিনি বলছেন, ‘তিনি (পুতিন) আসলে চাচ্ছেন রাশিয়াকে আবারো মহৎ করতে।’

পুতিন কিন্তু শুরুতেই আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেননি। ২০০০ সালে ভগ্ন অর্থনীতি, দুর্বল সামরিক শক্তির রাশিয়াকে দাঁড় করাতে শ্রম দিয়েছেন। আমেরিকার ব্যাপারে পুতিনের মাথাব্যথা টের পাওয়া যায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর, কেননা পুতিন ছিলেন প্রথম বিশ্ব নেতা যিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে ফোন করে সমাবেদনা জানিয়েছিলেন। জর্জ বুশও ইসলামিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পুতিনকে অংশীদার হিসেবে দেখেছিলেন। বুশ-পুতিন ঘনিষ্টতা গড়ে ওঠার সুযোগ পায়নি নানা কারণে। বিশেষ করে ২০০৪ সালে ইউক্রেনের নির্বাচনে আমেরিকার নাক গলানো পুতিন পছন্দ করেননি। ২০০৮ সালের আগস্টে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আরেক খণ্ড রিপাবলিক অব জর্জিয়ার সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় পুতিন জর্জিয়ার পশ্চিমাপ্রেমি সরকারকে দোষারোপ করেন। সে সময়কার আমেরিকান নির্বাচনে এক পক্ষকে জিতিয়ে আনার জন্য সিএনএন জর্জিয়ার সরকারকে দিয়ে নাটক সাজিয়েছিল বলে পুতিন বলেছিলেন, ‘ওদের একটা কোন ছোটমোট জয় খুব দরকারি ছিল।’  

পুতিন তার দেশের দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দৃষ্টি ফেরানোর জন্যই দেশের মানুষের কাছে আমেরিকাকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে দেশপ্রেম আর সামরিকবাদ বিক্রি করতে চাইছেন, রাশিয়া বিষয়ক কিছু বিষেশজ্ঞ এমনটিই ভাবছেন। রাশিয়াকে আবারো ইয়েলেৎসিন যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সহধর্মিনী হিলারি ক্লিনটনকে (১৯৯৪ সালের রাশিয়া ভ্রমণে স্বামীর সাথে তিনিও ছিলেন) বানিয়েছিলেন সেক্রেটারি অব স্টেট। পুতিন আর ইয়েলেৎসিন এক নন, আর তাই হিলারি পরাজিত হলেন সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে, প্রেসিডেন্ট হতে চেয়ে পারলেন না, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুরোপুরি কাদায় গেঁথে গেছে বলে দৃশ্যমান।

২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ আর ২০১১ সালে আমেরিকার লিবিয়ায় হস্তক্ষেপে হিলারি ক্লিনটন ছিলেন মুখ্য ভূমিকায় আর এর প্রতিটিতে পুতিন বরাবরই বিরোধিতা করেছেন। আবার ২০১১-এরই ডিসেম্বরে মস্কোতে পুতিন বিরোধী সমাবেশ কার ইঙ্গিতে কিভাবে হয়েছিল, তা বুঝতে সাবেক কেজিবি এজেন্ট পুতিনের কষ্ট হয়নি। আর হিলারি ক্লিনটনও স্পষ্ট করে জনসম্মুখে বলেছিলেন, রাশিয়ার জনগণের অধিকার আর চেতনার প্রতি আমেরিকার সমর্থন আছে। সেই থেকে হিলারি ক্লিনটন পুতিনের রাজনৈতিক ভিলেন আর তাই আমেরিকার নির্বাচনে হিলারি যখন প্রার্থী হলেন, তখনি পুতিন অংশ নিলেন। হিলারি জিতলেন না। জিতলেন পুতিন। ওবামা প্রশাসনের বিষয়টি বুঝতে দেরি হয়ে গেল, এই যা! আসলে ওবামা বিষয়টি বুঝতেই চাননি। ২০১২ সালের নির্বাচনী প্রচারনায় মিট রমনী আমেরিকার ‘সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক শত্রু’ হিসেবে রাশিয়ার কথা বললেও বারাক ওবামা উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, এসব বাজে কথা। শীতল যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে বিশ বছর আগে।

ওবামা বুঝতে ভুল করেছিলেন। যদিও বিল ক্লিনটনের মনে ভয় দানা বেঁধেছিল আগেই। ইয়েলেৎসিনের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে, রাশিয়াতেই তিনি পুতিনের ছায়া লম্বা হতে দেখেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আপনাদের খাঁটি গণতান্ত্রিক এবং খাঁটি সংস্কারবাদী পেটে আগুন ধরে গেছে। আমি নিশ্চিত নই যে সেটাই পুতিন কি না।’ ইউক্রেনে যখন আমেরিকানপন্থি জাগরণ শক্ত হাতে দমন করতে পুতিন গোটা ক্রেমিয়ান পেনিনসুলা দখলে নিয়ে ফেলেন, প্রায় দশ হাজার মানুষের মৃত্যুও কোন বিষয় না বলে প্রতিভাত হয়, আর এর পরেই ২০১৪ সালের মার্চ মাসে পুতিন তাঁর ভাষণে প্রথম বারের মতো সরাসরি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তিনি বিশ্ব মানচিত্রে রাশিয়ার অবস্থানকে পুনর্গঠিত করতে চান। সিরিয়ায় আকস্মিক রুশ সামরিক হস্তক্ষেপ এই ইঙ্গিতের আরও প্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়, যা ওবামা প্রশাসনকে চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়। ওদিকে পুতিন বলেই চলেছেন, ‘বিশ্বকে এই সত্য মেনে নিতেই হবে যে রাশিয়া আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে স্বাধীন ও কর্মক্ষম অংশীদার। আর সব দেশের মতো রাশিয়ারও নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রয়েছে, যা সবার উচিত সম্মান করা।

এর সরল অর্থ এরকম: ওয়াশিংটন যখন বিশ্বকে ‘ডিকটেট’ করবে, তখন বাচ্চাদের মতো টেবিলে বসে পা ঝোলাতে আর রাজি নয় রাশিয়া। অর্থটা সবাই বুঝেছিল। শীতল যুদ্ধের সময়ের মতো বিশ্বেও ঘটনাবলীতে রাশিয়া ভূমিকা রাখবে, বুঝেছিল। বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রভাব খাটাতে রাশিয়াও মরিয়া হবে, বুঝেছিল। কিন্তু খোদ আমেরিকার বুকেই ক্রেমলিনের ঝাণ্ডা উড়ে যাবে, অতটা বোঝেনি কেউ, স্বয়ং আমেরিকাও নয়। কয়েক মাস ধরে নির্বিঘ্নে হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল হ্যাকড হতে থাকল, আমেরিকা টেরও পেল না। অথচ এখন বলা হচ্ছে, এসবই ঘটেছে স্বয়ং পুতিনের হুকুমে। আর এসব কিছুতে কোন রাখঢাক নেই। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার সাথে সাথে, ঘন্টা না পেরুতেই পুতিন অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে দিলেন ট্রাম্পকে। কেনই বা দেবেন না? ট্রাম্প পুতিনের মনের মতো বক্তব্য রেখেছেন ন্যাটোর মূল্যবোধ আর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। সিরিয়া সংকট আর ইসলামিক স্টেটস হিলারি ক্লিনটনের নিজের হাতে গড়া, এমন ‘সত্য’ ট্রাম্প-বচন হিসেবে এসেছে, যা পুতিনের রুশ বক্তব্যেরই আমেরিকান অনুবাদ।
 
২০ জানুয়ারি ২০১৭। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করবেন। সম্ভবতঃ আমেরিকাতে ‘পেরেস্ত্রইকা’ যাত্রা শুরু করবে তখন থেকেই। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে, যদিও ইতিহাস ভুলোমনা ছাত্র বলে মনে রাখে না, তাই বলে তো ইতিহাস মিথ্যে হয়ে যায় না।
আসুন, আমরা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি পর্যবেক্ষণ করি। দাবার চাল উল্টে গেলে কি কি ঘটে, তা অবলোকনের বিশাল সুযোগ সম্ভবত এসে গেছে।

লেখক : শিশুসাহিত্যিক।

এইচআর/জেআইএম

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Jagojobs