ডিজিটাল বাংলাদেশের বাজেট

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ এএম, ০৩ জুন ২০১৭

গত ১জুন ১৭, বৃহস্পতিবার দেশের সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেছেন। বাজেটের আকার আকৃতি এবং এর অন্তর্গত বিষয়াদি নিয়ে এখন মিডিয়া প্রচণ্ড গরম। বাজেট নিয়ে পত্রিকার পাতায়, অনলাইন গণমাধ্যমে যেমন আলোচনা হচ্ছে তেমনি চলছে টকশো। অন্যদিকে ফেসবুকই গরম হয়ে আছে বাজেট নিয়ে। ২ জুন ১৭ বিকালে অর্থমন্ত্রী বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই বাজেট এর সব দিক নিয়ে আলোচনা করা সত্যি কঠিন। সেই কারণেই বাজেটের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমি কখনও আলোচনা করিনা। আমার নিজের জগৎ নিয়েই আমি সন্তুষ্ট থাকি। সেই জগতটা ডিজিটাল বাংলাদেশ। সরকারের বিবেচনায় বিসয়টি এখনও তথ্যপ্রযুক্তি। আমি নিজে মনে করি এভাবে কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বলে আমাদের মূল্য লক্ষ্য জ্ঞানভিত্তিক সমাজকে ছোট করে দেখা হয়। আমি মনে করি এক সময়ে সকল বাণিজ্যকে ডিজিটাল বাণিজ্য বলা হবে। সরকার বলতে ডিজিটাল সরকার বোঝানো হবে। শিক্ষা বলতেও ডিজিটাল শিক্ষা বোঝাবে। বস্তুত আমাদের জীবনধারাই হবে ডিজিটাল। তেমন সময়ে বাজেট মানেই হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের বাজেট বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজের বাজেট।

অর্থমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুসারে এবার ডিজিটাল বাংলাদেশ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হিসেবে ওঠে এসেছে। এই খাতে এবার বরাদ্দ অতীতের সকল সময়কে অতিক্রম করেছে। অর্থমন্ত্রীর এমন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এই সরকারের প্রথম বাজেট ২০০৯-১০ সালের বাজেট থেকেই। আমার মনে আছে ২০০৯-১০ সালের বাজেট পেশের আগে আমি এবং আমার অতি প্রিয় বন্ধু স্থপতি ইয়াফেস ওসমানকে তিনি ডেকে পাঠান। তার কাছেই জানলাম যে ইয়াফেস ভাই-এর মন্ত্রণালয়ের বাজেট মাত্র ৭৪ কোটি টাকা। মাত্র কয়েক মাসের অভিজ্ঞতায় স্থপতি ইয়াফেস ভাই তখনও বাজেটের অলি গলি বুঝে ওঠতে পারেননি। তার মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন আমলারা ভেবেছে এবং যেমনটা বলেছে বাজেটে তেমন প্রস্তাবনাই পেশ করা হয়েছে। আমি ইয়াফেস ভাই-এর মুখের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলাম, ভাই এবার আমাদের কি কি উন্নয়ন কাজ হবে। তিনি জানালেন এই ৭৪ কোটিতো বেতনেরই টাকা। তাহলে উন্নয়ন কোথায়? আমরা কেউ জানিনা।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী জানালেন, তার কাছে এমন কোন প্রকল্প প্রস্তাবনা নেই যাতে তিনি কোন বরাদ্দ দিতে পারেন। আমরা দুই বন্ধুতে মিলে অর্থমন্ত্রী বা আমাদের মুহিত ভাইকে ১০০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ দেবার আবেদন পেশ করলাম। তিনি এক টাকাও না কমিয়ে ১০০ কোটি টাকারই থোক বরাদ্দ রেখে দিলেন। পরের দিন ইয়াফেস ভাই আামকে তার দপ্তরে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললেন, ভাই টাকাতো তিনি দেবেন, খরচ করবো কোথায়? আমার লোকেরাতো খরচের খাত খুঁজে পায়না। কিভাবে আমরা খরচের খাত পেলাম সেটি না বলে এটুকু বলতে পারি যে, বছর শেষে থোক বরাদ্দ ১০০ থেকে ১১০ কোটিতে দাঁড়ায়। তেমন একজন মানুষ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এমন কোন বিষয় নেই যার প্রতি আন্তরিক নন। ডিজিটাল বাংলাদেশের অবকাঠামো গড়ে তোলাই হোক আর এই খাতকে সরাসরি সহায়তা করাই হোক মুহিত ভাই এর তুলনা কেবল তিনি নিজেই। এবারও তিনি তার সেই আসন থেকে সরে দাঁড়াননি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের বরাদ্দ:
আসুন দেখি এবার ডিজিটাল বাংলাদেশ এর বাজেট কেমন অবস্থায় রয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য ৮ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিলো অর্থবাজেটে যা মোট বাজেটের ২.৪৪ শতাংশ ছিলো। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতের জন্য বরাদ্দ ছিলো ৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। সে হিসেবে বিদায়ী অর্থ বছরে বাড়তি দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ পেয়েছিলো এ খাতটি। ২০১৭-১৮ সালে আগের বছরের ৮ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ ১১ হাজার কোটি টাকায় ওঠেছে। বাজেটের আকার বাড়ার সাথে তুলনা করলে এই অংকটি আরও বড় হতে পারতো। অন্যদিকে আগের অর্থবছরের তুলনায় বিদায়ী অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জন্য ৬২২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো। এই খাতে বিদায়ী বছরে আইসিটি ডিভিশনের জন্য এক হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল এক হাজার ২১০ কোটি টাকা। এই বছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বরাদ্দ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এবার বরাদ্দ ৩৯৭৪ কোটি টাকা। এটি উল্লেখ না করলেও চলে যে এই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ এই খাতে আর কখনও হবার প্রশ্নই নেই।

বাজেট পেশ করার আগে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের বাজেটের কিছু আকাক্ষার কথা তুলে ধরেছিলাম। সেই সব আকাক্ষার মাঝে তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানীতে নগদ সহায়তার বিষয়টি সম্ভবত একটি জাতীয় কমিটির বিবেচনার অপেক্ষায় আছে। বাণিজ্য মন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে আমরা জেনেছি যে নগদ সহায়তার বিষয়টি সেই কমিটি স্থির করে দিলে তথ্যপ্রযুক্তিতে রপ্তানী সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যাবে। আমি নিশ্চিতভাবে ধারণা করি যে সরকার রপ্তানী টার্গেট পূরণ করার কাজে সহায়তা করার জন্য অবশ্যই আমাদের এই দাবিটি পূরণ করবে।

আমদানীকারক থেকে উৎপাদক:
২০১৭-১৮ সালের বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির শুল্ক ও ভ্যাট কাঠামোতে পরিবর্তন। এই বাজেটে ডিজিটাল যন্ত্র যেমন ল্যাপটপ, ট্যাব ও স্মার্টফোন সংযোজন ও উৎপাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে মাত্র এক শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি দেশের ডিজিটাল যন্ত্র উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। আমরা এখন আশা করতেই পারি যে দেশে স্মার্ট ফোন, ট্যাব এবং ল্যাপটপ সংযোজিত হবে বা এমনকি উৎপাদিতও হবে। গত ৬ আগস্ট ২০১৫ অনুষ্ঠিত ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্স এর সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ডিজিটাল যন্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানীর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেটি এখন বাস্তবে রূপায়িত হবার সময় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাপূরণে সরকারি প্রতিষ্ঠান টেশিস এখন দেশের সর্ববৃহৎ ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদকে পরিণত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুসারে আমি এই সংস্থার দায়িত্বে থাকলে অন্তত এই কাজটি এবার করতে পারতাম। এবার সেই সুযোগ দেবার ফলে সামনের বাজেটের আগেই আমরা দেশে কয়েকটি দেশীয় ব্রান্ডের ডিজিটাল যন্ত্র উৎপাদন ও সংযোজন হতে দেখার পাশাপাশি বিদেশি ডিজিটাল যন্ত্র নির্মাতাদেরকে এদেশে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত হতে দেখব। এজন্য হাইটেক পার্কের সুবিধার ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা যেতে পারে। বর্তমানে হাইটেক পার্কগুলোর সুবিধা হচ্ছে কেবল রপ্তানীর জন্য। ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সুবিধাকে দেশীয় বাজারের জন্যও সম্প্রসারিত করা যেতে পারে। মনে রাখা দরকার যে দেশীয় বাজারে ডিজিটাল ডিভাইস বাজারজাতকরণ বস্তুত আমদানী বিকল্প এবং এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রাও বাঁচবে। এবারের বাজেটে শুল্কহ্রাসের ক্ষেত্রে কিছু সফটওয্যারের দামও কমানো হয়েছে। কিন্তু একটি মজার বিষয় হলো সিডিতে সফটওয়্যার আনলে সেই সুবিধা পাওয়া যাবে অথচ অনলাইনে আনা হলে সেই সুবিধা পাওয়া যাবেনা। বড় অদ্ভুত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মানসিকতা।

খুচরা ভ্যাট:
এবারের বাজেটে কম্পিউটার, কম্পিউটারের যন্ত্রপাতি ও দেশীয় সফটওয়্যারকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রশিক্ষণ এর জন্যও ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে এই পদক্ষেপ দারুণভাবে সহায়তা করবে। তবে ১ জুলাই থেকে শতকরা ১৫ ভাগ ব্যাট আরোপের বিষয়টি নিয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। এই ভ্যাট আইন বলবৎ হলে খুচরা পর্যায়ে ডিজিটাল ডিভাইস, সফটওয়্যার ও আইটি সেবার ওপরও ভ্যাট আরোপিত হবে কিনা সেটি সুস্পষ্ট নয়। আমরা বাজেট ঘোষণা থেকে এটি ধরে নিতে পারি যে ডিজিটাল পণ্য খুচরা ভ্যাট তেকে অব্যাহতি পাবে। এটি বলে রাখা ভাল ডিজিটাল পণ্য যদি খুচরা ভ্যাটের আওতায় আসে তবে এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যাপকভাবে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়াসকে বাধাগ্রস্ত করবে।

প্রসঙ্গত এই আইনের মূল কাঠামো ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প সম্পর্কে দুটি কথা বলা দরকার। এই প্রকল্পে এখনও বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের জন্য যদি কেবল ইংরেজি ব্যবহার করে তবে কাজটি আত্মঘাতী হবে। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা কেবল অনলাইন সফটওয়্যার পেলেই সেটিকে বলবৎ করতে পারবে সেটি মনে করার কোন কারণ নেই। এনবিআর এর কর্মকর্তা নিজেরা ডিজিটাল না হলে ভ্যাট বা ট্যাক্স কোনটাই ডিজিটাল হবেনা। ব্যবসায়ীরা বরাবরই তাদেরকে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সেটি গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। এফবিসিসিআই-এর দুচারজন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এমন বিপুল আকারের কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যাবেনা। ব্যবসায়ীদের হাতে ডিজিটাল যন্ত্র না পৌঁছিয়েও এই মহাযজ্ঞে সফলতা আসবেনা।

২০২৪ পর্যন্ত আয়কর অব্যাহত:
আমরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি যে সরকার আমাদের সফটওয়্যার ও সেবাখাতকে ২৪ সাল অবধি কর অব্যাহতি দিয়েছেন। এবারও সেটি অব্যাহত থাকায় অনেক অভিনন্দন। তবে উল্লেখ করা দরকার যে এই অব্যাহতিতে কিছু শুভঙ্করের ফাঁক আছে। প্রচুর আইটি সেবা খাত আছে যা আইটি এনেবল সংজ্ঞায় ছিলোনা। আমরা এসব কাজকে আইটি এনেবল এর সংজ্ঞায় যুক্ত করার অনুরোধ করে আসছি। আমি আশা করবো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তালিকাটি সংশোধন করবে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সকল খাত এই অব্যাহতি পাবে। অন্যদিকে কর অব্যাহতরি সুবিধা নেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুয়ারে ঘুরতে ঘুরতে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে আমরা যে দশায় পৌঁছেছি তা বর্ণনাতীত। আমরা এনবিআর এর এই সার্টিফিকটে প্রথাটি বাতিল করার জন্য অনুরোধ করছি।

ইন্টারনেটের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক রয়েই গেল:
বিদ্যমান শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটের চাপে দেশে ইন্টারনেটের কানেকশন এর সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত ব্যবহার বাড়েনি। ইন্টারনেট মানে এখন ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ ও ইমো। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। ইন্টারনেটের বাড়তি মূল্য ও গতিহীনতা এর অন্যতম কারণ। ফলে এবারও আমরা ইন্টারনেটকে শুল্ক ও ভ্যাট মুক্ত করার দাবি জানিয়েছিলাম। এই দাবিটি আমাদের অনেক পুরানো। আমার কেন জানি মনে হয় রাজস্ব আহরণ করার সহজ উপায় হিসেবে এনবিআর টেলিকমকে কোন ছাড় দিতে আগ্রহী নয় এবং তারা ইন্টারনেট সভ্যতার মূল বিষয়টিই উপলব্ধি করতে চাননা। আমি নিজে মনে করি ইন্টারনেটের প্রতি এই অবিচার করাটা ডিজিটাল বাংলাদেশ বান্ধব নয়। ইন্টারনেটের সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়াও ইন্টারনেটের কিছু যন্ত্রপাতি যেমন মডেম, রাউটার ইত্যাটির শুল্ক কাঠামো আমাদের ইন্টারনেট প্রসারের অনুকূল নয়। বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আবারও অনুরোধ করছি।

লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক।

এইচআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :