ভোক্তাস্বার্থ দেখবে কে?

সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় সম্পাদকীয়
প্রকাশিত: ০৪:০৪ এএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৭

আমাদের দেশে দ্রব্যমুল্যের পাগলা ঘোড়া সব সময় দাপিয়ে বেড়ায়। কখন যে কোন পণ্যের ওপর আছর পড়ে সেটা বলা মুশকিল। তবে মওকা বুঝেই যে মুনাফালোভী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয় সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। কখন কোন পণ্যের দাম বাড়ালে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে সেটি নিয়ে যেন রীতিমত গবেষণা করা হয়। আর তার গিনিপিগ হয় সাধারণ মানুষ। এটা কোনো কাজের কথা হতে পারেনা। প্রশ্ন হচ্ছে, ভোক্তাস্বার্থ দেখার কি কেউ নেই?

এবার মূল্যবৃদ্ধির ভূতের আছর পড়েছে কাঁচা মরিচের ওপর। চালের দাম নিয়ে অস্বস্তি না কাটতেই বাড়তি কাঁচা মরিচের দাম। আড়াইশ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল কাঁচা মরিচের কেজি। পেঁয়াজের দামও বাড়তি। ৫০ টাকা কেজির পেঁয়াজ এখন ৯০ টাকা। বিক্রেতারা বন্যা ও আমদানির দোহাই দিলেও দিশেহারা ক্রেতারা। একই সঙ্গে গুজব ছড়িয়ে বাড়তি দাম নেয়ার অভিযোগ তাদের। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ ছাড়াও সব ধরনের সবজির দাম বেশি। বাজারে এই সময়টাতে শীতের আগাম সবজি আসে। এবার জুলাই আগস্টে বন্যা হওয়ায় সে সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সবজির দাম কমছে না। এছাড়া ঢাকায় অনেক হাত বদল হয়ে সবজি ক্রেতার কাছে যায়। এতে দাম আরো বেড়ে যায়। অন্যদিকে উৎপাদক কৃষক এই দাম পায় না। এছাড়া পণ্য পরিবহনেও রয়েছে নানা ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ। পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে হলে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সবজির বাজার। অভিযোগ আছে পর্যাপ্ত সবরাহ থাকার পরও ঘাটতির অজুহাত তুলে দাম বাড়ায় অসাধুচক্র। এদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের দেশে বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ফলে নানা উসিলায় বাড়ে দ্রব্যমূল্য। কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরবরাহে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে। ঘাটতি কমবেশি থাকতে পারে। তাই বলে দাম আকাশচুম্বী হবে? হঠাৎ করে এই মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিতভাবেই আস্বাভাবিক। এবং তা ভোক্তাদের নিদারুণ দুর্ভোগে ফেলেছে। মূল্যবৃদ্ধির এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এইচআর/আইআই

‘আমাদের দেশে বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। ফলে নানা উসিলায় বাড়ে দ্রব্যমূল্য।’

আপনার মতামত লিখুন :