শিশুদের নিরাপদ শৈশব দিন

সম্পাদকীয় ডেস্ক সম্পাদকীয় ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৬ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

নাদেরা সুলতানা নদী

বিষয়টা এমন না যে, নির্মমতা, বর্বরতা থেকে আমরা দূরে থাকতে চাইলেই পারি। পৃথিবী একদিকে যেমন দেখায় মায়া মমতার অপার সৌন্দর্য, ভালোবাসা, প্রেম নিয়ে থাকা জীবন, আলো...। অন্যদিকে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকে নিষ্ঠুরতার চিত্র, দেশে দেশে প্রকারভেদে, বীভৎস, কালো!!

‘শৈশব’ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজ জীবন অভিজ্ঞতার নির্যাস নিয়ে বলি, অনেক খারাপ বা বৈরী সময় মোকাবিলা করা, জীবনকে নূতন করে আঁকড়ে ধরার জন্যে বেশির ভাগ সময়ই আমার শৈশবে পাওয়া অভিজ্ঞতাই আমাকে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে আর্থসামাজিক কাঠামো এবং প্রবল রকমের ধর্মীয় আবহে ঝুঁকে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে হয়েছে অনেক বেশি মাদরাসা এবং জানা যায় অনেকগুলো সরকারি বা বেসরকারি অনুমোদন ছাড়াই। মাদরাসায় অনেক বেশি শিশু-কিশোরকে অভিভাবক পাঠাচ্ছেন। কে শিক্ষক, কারা শিক্ষক অভিভাবকরা এই নিয়ে ভাবেনও না।

ধর্মীয় স্পর্শকাতরতার বিষয়টি এতটাই কাজ করে যে, নিজেদের বাচ্চারা কেমন থাকবে বা কেমন আছে আমি নিশ্চিত মা বা বাবারা এটা জানেন না। জানলে মানেন না বা অনেকে বিশ্বাসই করেন না। যদিও বা করেন বিশ্বাস, ভেবেই নেন কিছু শাসন যদি শিক্ষক পরিচয়ে থাকা মানুষটি করেন, তাঁদের সন্তানের ভালোর জন্যে করেন।

আজ দেখতে না চাইলেও হঠাৎই বাংলাদেশের নিউজে উঠে আসা সাভারের এক মাদরাসায় কিশোর ছেলেকে শিক্ষক নামধারী এক বর্বর উন্মাদের নির্যাতনের ভিডিও দেখছিলাম। কিছু সময় আমার পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা মা, পৃথিবীর এমন অসহায় কিশোরদের জন্যে ডুকরে কেঁদে উঠল। আহা সোনা বাচ্চাগুলো। এই পৃথিবী ওদের শৈশবকে কী ভীষণ কালোছায়া দিয়ে নির্মমভাবে ঢেকে দিল...

আমি নিশ্চিত স্কুলজীবনে কম আর বেশি বাংলাদেশে কোনো না কোনোদিন কিছু বাজে অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। বেশির ভাগ মাদরাসার চিত্র করুণ! মাদরাসায় নির্যাতনের খবর বিচ্ছিন্ন কিছুই উঠে আসে... কিন্তু ছোট এই ভিডিওতেই দেখা যায়, অনুমান করা যায় আমাদের দেখার বাইরের চিত্র ... একটা বাচ্চাকে নির্যাতন করা হচ্ছে, বাকি বাচ্চাগুলো পাখির বাচ্চার মতো কাঁপছে, দ্রুতগতিতে পড়ার চেষ্টা করছে...

হয়তো সিসি ক্যামেরার জন্য আজকের এই ভিডিও উঠে এসেছে, আসছে না এমন কত আসলেই আমাদের ধারণা নেই। অপরাধ এবং অপরাধী এই দুই এ এসে বাংলাদেশ অনেকটাই এলোমেলো... যে অপরাধীদের মুখোশ উন্মুক্ত হওয়া উচিত জনসম্মুখে, শাস্তি হওয়া উচিত দৃষ্টান্তমূলক তাদের হয় না অনেক সময়ই।

এই মাদরাসাশিক্ষক ইব্রাহিমকে শাস্তি দিন, শাস্তি চাই, যে শাস্তির মধ্য দিয়ে এমন নির্যাতকেরা পায় কঠিন বার্তা... আমাদের এই রকম অসহায় শিশু-কিশোরের একটা নিরাপদ (আনন্দময় বাদ না-ই বলি আজ) শৈশব দিন।

মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া

এইচআর/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]