পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মমতার বিজয় বিশেষ কি বার্তা বহন করছে?

বিভুরঞ্জন সরকার
বিভুরঞ্জন সরকার বিভুরঞ্জন সরকার
প্রকাশিত: ১০:০১ এএম, ০৪ মে ২০২১

সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। এবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বসার জন্য আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছিল কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার প্রধান মন্ত্রণাদাতা, ভারতের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে অমিত শাহ তাদের অন্য সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে। একটাই ছিল তাদের লক্ষ্য – যেকোনো উপায়ে হারাতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বলা যায়, একজন নারী হয়ে মমতা একা লড়েছেন ভারতীয় রাজনীতির চাণক্যবুদ্ধিধর বলে পরিচিত প্রবল প্রতাপশালী সব পুরুষ নেতাদের বিরুদ্ধে। লির্বাচনের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে রাখার জন্য সব আয়োজনই করেছিল বিজেপি এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী। নজিরবিহীনভাবে লম্বা সময় ধরে মোট আট দফায় ভোট হয়েছে। ২ মে ফলাফল ঘোষণার পর বিষ গেলার মতো করে মমতাকেই বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাতে হয়েছে মোদি-শাহ জুটিকে।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দোপ্যাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস যতটা আশা করা হয়েছিল, তার চেয়েও ভালো ফল করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ব্যক্তিগতভাবে নন্দীগ্রামে অল্প ভোটে পরাজিত হলেও ২৯২ আসনের মধ্যে ( মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ২ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত হয়েছে ) ২১৩ আসন পেয়ে রেকর্ড গড়েছে তৃণমূল। নির্বাচনের আগে যেভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক পড়েছিল, তাতে কেউ কেউ এমন আশঙ্কাও করছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এবার তৃণমূল নির্মূল হয়ে যাবে। কিন্তু ভোটের ফল বলছে, তৃণমূল আছে মানুষের মর্মমূলে। মমতাকে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে তাকে আরও বেশি জনগণের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বহর, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, ভিনরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসন যন্ত্র, সিবিআই, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সর্বশক্তি নিয়ে নেমেও মমতাকে হারাতে ব্যর্থ হওয়ার পেছনের কারণ খুঁজতে বসে গেছেন রাজনীতি বিশ্লেষক ও পণ্ডিতরা। অনেক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হবে, বিজপির অনেক ত্রুটি এখন ধরা হবে, নানা কারণ বের করে চলবে আলাপ আলোচনা। কিন্তু তাতে মমতার তৃতীয় বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া ঠেকানো যাবে না। মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে গিয়ে এখন উল্টো মোদি-শাহের কপালে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট হবে। কারণ ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মোদিবিরোধী রাজনীতির প্রধান এবং উজ্জ্বল মুখ হয়ে উঠবেন মমতা– এমন কথা এখনই উচ্চারিত হচ্ছে।

ভারতের রাজনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মমতার পক্ষে কয়েকটি ‘ম' বিশেষ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। প্রথম ম- হলো মহিলা অর্থাৎ নারী ভোট। মমতা নারী হওয়ায় নানা কুৎসিত প্রচারণা চালানো হয়ে তার বিরুদ্ধে। এমন কি নরেন্দ্র মোদিও তাকে ‘দিদি, ও দিদি' বলে প্রকাশ্য জনসভায় এমন অভব্য অঙ্গ ভঙ্গি করেছেন, যা ভালোভাবে নেননি পশ্চিমবঙ্গের নারীরা। নারীদের জন্য মমতার সরকার কিছু বাড়তি সুবিধাও দিয়েছেন নানা সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে। তাই মমতাকে ক্ষমতায় রাখতে নারীরা আগের তুলনাশ এবার বেশি সংখ্যায় তার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীকে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

দ্বিতীয় ম– হলো মধ্যবিত্ত সমাজ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলনবলন সবই মধ্যবিত্তদের জীবনাচারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ভদ্রলোকেরা তাকে অপছন্দ করলেও মধ্যবিত্তরা মমতাকে নিজেদের লোক বলেই মনে করেন। মমতার দশ বছরের শাসনকালে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বঞ্চিত বোধ করেননি। মধ্যবিত্তদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়িও কম। বিজেপি হিন্দুত্ব নিয়ে অহং প্রচারের যে নগ্ন চেষ্টা চালিয়েছে তা মধ্যবিত্তদের মনে গভীর রেখাপাত করেছে বলে মনে হয় না। বরং বিজেপি ক্ষমতায় এলে উচ্চবিত্ত এবং হিন্দুদের মধ্যে যারা জাতপাত নিয়ে বিভাজনে আগ্রহী তাদের দাপট বাড়বে এমন শঙ্কা থেকেও মধ্যবিত্তরা মমতার পক্ষে দাঁড়নোকেই নিরাপদ মনে করেছে।

তৃতীয় ম– হলো মুসলমান জনগোষ্ঠী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুসলিম বান্ধব বলে প্রচার করে বিজেপি প্রকারান্তরে তার উপকারই করেছেন। মুসলমানদের মধ্যে এই আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে, বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তাদের জীবন-জীবিকা অনিরাপদ হয়ে উঠবে। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোট কম নয়। প্রায় ২৭ শতাংশ বলে জানা যায়। আগে এই ভোট বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলে বিভক্ত হলেও এবার তা প্রায় একচেটিয়াভাবে মমতার পক্ষে গেছে বলে মনে করার যুক্তিসংগত কারণ আছে। বাম এবং কংগ্রেসের ভুল রাজনৈতিক কৌশল এবার তাদের একেবারে তলানিতে নিয়ে গেছে। ৩৪ বছর রাজ্য শাসন করে বামপন্থিদের এই শোচনীয় অবস্থা আলাদা গবেষণার বিষয় হওয়া দরকার। কংগ্রেসের রাজনীতিও যে আর সাধারণ মানুষের মেজাজ-মর্জি বুঝে পরিচালিত হচ্ছে না, সেটা বোঝা যায় নির্বাচনে দলটির হত দশা দেখেই।

শেষ ম- ‘ম’মতা নিজেই। তার নামের অর্থই বুঝি তার প্রতি ভোটারদের মমতা বাড়িয়ে দিয়েছে । ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গিয়ে পায়ে আঘাত পান মমতা। তখন থেকে তার সঙ্গী হয় হুইলচেয়ার। তার এই চোট পাওয়া বা আহত হওয়া নিয়েও কম পানি ঘোলা করেনি তার প্রতিপক্ষ শিবির। বলা হয়েছে এটা তার অভিনয়, সাজানো নাটক। তবে এটা যদি নাটক বা অভিনয়ও হয় তাহলেও বলতে হবে যে, এখানেও মমতা পারদর্শিতার পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন। পোশাকআশাকে আটপৌরে মমতা হুইলচেয়ারে বসে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে মানুষের সহানুভূতি পেয়েছেন কিছুটা বেশি মাত্রায়। বিজেপি শিবিরের আত্মবিশ্বাস ও ঔদ্ধত্যের জবাব মানুষ দিয়েছে ভোটের যন্ত্রে টিপ দিয়ে। মমতাও হুইলচেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন।

মোদি – শাহ রণদামামা বাজিয়ে ভোটের মাঠে নামলে মমতা বলেছিলেন, খেলা হবে। ভোট রাজনীতিতে তিনি যে দক্ষ খেলোয়াড় সেটা তিনি প্রায় একা খেলেই জয় ছিনিয়ে এনে প্রমাণ করে দিয়েছেন। তার সঙ্গে যে বিপুল জনগোষ্ঠী রয়েছে, তা-ও স্পষ্ট হয়েছে।

ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যে সব অঞ্চলে, সব সময় এক রকম সাফল্য পাওয়া যায় না, বিজেপি কি তা বোঝার চেষ্টা করবে? ধর্ম বিশ্বাসের দিক থেকে বিভক্ত একটি দেশে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি কখনো কখনো বুমেরাংও হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গরাজ্য নির্বাচনের ফলাফল অন্তত তাই বলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির পরাজয় এবং মমতার তৃণমূলের জয়ের ফলে সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির বিজয় হয়েছে বলে উল্লসিত হওয়ারও কিছু আছে বলে মনে হয় না। কেউ কেউ বরং মনে করছেন, সেখানে একটি উগ্রবাদী ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক ধারা পরাজিত হলেও প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ বা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ধারার বিজয় হয়নি। সেখানে যেটা হয়েছে তাকে অনেকে মন্দের ভালো মনে করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর নরেন্দ্র মোদি এক ধারার রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব না করলেও আদর্শগত জায়গায় মমতার দৃঢ়তাও সন্দেহ মুক্ত নয়। মমতার মধ্যেও নানা স্ববিরোধিতা আছে। ক্ষমতার রাজনীতির যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তাতে মমতা সততা ও উদারতার ধারক-বাহক, তেমনটা বলা যাবে না। গণতন্ত্র চর্চার পরিসর তিনিও কম সীমিত করে আনেননি। বিশৃঙ্খলতা ও হিংস্রতা মুক্ত রাজনীতির পথ তিনি দশ বছরে কতটা মসৃণ করেছেন, সে প্রশ্ন আছে। মারের বদলে মার– এই নীতি অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গে যে অগ্নিগর্ভ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে তার দায় থেকে মমতাকে মুক্তি দেওয়া যাবে না।

অর্থনীতি ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনের প্রতিযোগিতা না করে হিংস্র, কদর্য ও সংঘাতের পরিবেশ তৈরিতে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা সব রাজনৈতিক দল এবং বর্তমান কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে একসঙ্গেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। নির্বাচনী প্রচারকালে যে হানাহানি, রক্তপাত, গুলি-বোমার মহড়া, খুন জখমের যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলোও একতরফা ছিল না। ভোট ভিক্ষুক, ক্ষমতা লিপ্সু রাজনীতিকরা এখন নীতি পঙ্গুতার শিকার। সেটা কোনো এক দলে আছে তা-ও নয়। মমতার বিজয়ে তাই এটা মনে করার কারণ নেই যে, এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে শীতল হাওয়া বইবে। বরং দেখে নেওয়ার জেদ ও প্রবণতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, নজর রাখতে হবে সে দিকে। বিজেপি-আরএসএস রামরাজ্য প্রযতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়ে ৩ থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছে যে বিপদ সংকেত দিয়েছে, তা খাটো করে যেমন দেখা যাবে না, তেমনি এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নিয়েও ভাবতে হবে।

আমার এক রাজনীতি সচেতন বন্ধু হাবিবুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, পশ্চিম বাংলার শিক্ষিত বাঙালি ভেবেছে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার সাংস্কৃতিক কৌলিন্য, বাঙালিত্ব বিনষ্টের আশঙ্কা প্রবল। এছাড়া, উত্তর ভারতীয়দের সাব-কলোনি হবে বাংলা। অতএব, মমতাই নির্বাণ। এ দুই স্বার্থ এক হয়ে ডালে ডালে, পাড়ায় পাড়ায়, গ্রামে গ্রামে জোড়াফুল ফুটিয়েছে। অর্থাৎ দুই ধর্মের বিশাল সংখ্যায় মানুষ তাদের সাম্প্রদায়িক পরিচয় ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে ওঠে এক হয়ে একটি আপাত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিকাশ ঘটিয়েছে। এর ফলে একদিকে সংখ্যালঘিষ্টের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে, অপরপক্ষে শিক্ষিত সংস্কৃতিবান মূলস্রোতের মানুষদের মর্যাদা এবং বাঙালির স্বাতন্ত্র ও ঐতিহ্য বিজাতীয় বালাই থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছে।

হাবিবুর রহমান যথার্থই লিখেছেন যে, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু উভয়ের রক্ষাকবচ। নানা ধর্মমতের, নানা জাতের ও নানা চিন্তার মানুষের একটি দেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে কেবল ধর্মনিরপেক্ষ নীতি। ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়। এ কথা কতটা সত্য তা বোঝা যায় তৃণমূলের বিজয়ে বাংলাদেশের মানুষদের উচ্ছ্বাস দেখে।

বাংলাদেশে যারা হেফাজত,। জামায়াত কিংবা ইসলামী রাজনীতির অনুসারী তারাও আনন্দ ও স্বস্তি পেয়েছেন মমতার জয়ে। কিন্তু কেন এ দ্বিচারিতা? যে নীতি আপনি নিজ দেশে চান, তা অন্য দেশে চান না কেন? এখানে ইসলামী নীতি ভালো হলে ভারতে হিন্দুত্ববাদ খারাপ হবে কেন? সবারই এটা মনে রাখা প্রয়োজন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক ও সৌদি আরবে ইসলামী রাজনীতি শক্তিশালী হলে তার প্রতিক্রিয়ায় ভারতে হিন্দুত্ববাদ, বার্মা, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা ও জাপানে বৌদ্ধ ধর্মীয় রাজনীতি, ইউরোপ ও আমেরিকায় খ্রিস্টবাদ ও ইসরাইলে ইহুদিবাদ জোরালো হবে। তখন এসব নানা বাদ ও পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাবে। আর এমন কাণ্ড যদি ঘটে তবে দোজখ দেখতে পরকালে যেতে হবে না। মর্ত্যেই দেখা যাবে জাহান্নামের আগুন। বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও ব্যাংকে গচ্ছিত বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা মুহূর্তেই অনর্থক হয়ে যাবে। আপনার আওরাত ও আওলাদ অন্যরা গণিমতের মাল মনে করে এস্তেমাল করবে।

এমনতর পরিস্থিতি আমরা ভাবতেই পারি না। অথচ আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন এবং আফ্রিকার অনেক দেশে এমন বাস্তবতাই চলছে। যারা ধর্মীয় রাজনীতির ফ্যান্টাসির মধ্যে বাস করেন, তাদেরকে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। ধর্মকে ব্যক্তি জীবনের চর্চার মধ্যে রাখাই মঙ্গল। রাজনীতির কূটজালে ধর্মকে জড়ালে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। ধর্মমুক্ত রাজনীতি সকল ধর্মের, সকল সম্প্রদায়ের এবং সকল দেশের মানুষের জন্য কল্যাণকর ও পৃথিবীর জন্যও শুভ।

তবে সেই আদর্শ রাজনীতির চালকের আসনে বসার মতো যোগ্য মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিনা, তা নিয়ে আছে বিরাট প্রশ্ন। বড় হওয়ার প্রতিযোগিতা করার মতো বড় মানুষের অভাব অনেক দেশের রাজনীতিতেই প্রকট।

লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এইচআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]