২০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি : ‘একলা চলো’ নীতিতে ইবরাহিম?

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২১

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট এখন কার্যত অকার্যকর। অন্যদিকে উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপি এখন চলছে এককভাবে। মাঝে মাঝে দু-একটি সভা করে জোট শরিকদের ‘সান্ত্বনা’ দেয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। অন্যদিকে জোট শরিকদের কেউ কেউ ‘একলা চলো’ নীতির মাধ্যমে নিজেকে দরকষাকষির উপযুক্ত করে গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে বিএনপির অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ২০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছে।

কল্যাণ পার্টি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটটি ভেঙেও দিচ্ছে না, আবার কার্যকরও করছে না। তারাই কার্যত একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে জোটের শরিকরা যাতে নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে না পারে সেজন্য এক ধরনের প্রতিবন্ধকতাও তৈরি করছে।

২০ দলীয় জোটের মধ্যেই ছয়টি দল নিয়ে ২০১৯ সালে গড়ে ওঠে জাতীয় মুক্তি মঞ্চ নামে আরেকটি জোট। এর নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক বিএনপি নেতা ও পরবর্তীতে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম। এই জোট নিয়ে এক সময় কিছুটা সক্রিয় হয়েছিলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম। কিন্তু এখন এই জোটও কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।

মুক্তি মঞ্চ সংশ্লিষ্ট নেতাদের অভিযোগ, এ জোটকে অকার্যকর করতে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। এজন্য তারা শরিকদের মধ্যে যেমন ভাঙন ধরিয়েছে, তেমনি ২০ দলীয় জোটের শরিকদের চাপ দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা মুক্তি মঞ্চের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মঞ্চের শরিক এলডিপি, জাগপা এবং কল্যাণ পার্টিতে ভাঙনের পেছনে বিএনপি মূল ভূমিকা রেখেছে।

এমন পরিস্থিতিতে দলীয় ব্যানারে বিভিন্ন দিবসের আলোচনা সভা, দোয়া অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। তিনি নিজের দলকে শক্তিশালী করে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডির এক রেস্টুরেন্টে ইবরাহিম আয়োজিত ‘দোয়া অনুষ্ঠান’ এবং সেখানে শরিক দলের কয়েকজন নেতার উপস্থিতি ও বক্তব্য বিএনপিকে ভাবিয়ে তুলেছে।

নতুন প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তারা চলতি মাসেই আরও একটি ডিনার পার্টির আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত ভণ্ডুল হয়ে গেছে। সেখানে কূটনীতিবিদ এবং বিশিষ্টজনের পাশাপাশি কয়েকজন বিএনপি নেতাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

কিন্তু সংবাদ সম্মেলন করে ইবরাহিম অভিযোগ করেন, বিএনপির যেসব নেতাকে ওই ডিনার পার্টিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাদের অনুষ্ঠানে আসতে নিষেধ করেছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। তার ইঙ্গিত মূলত লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দিকেই।

এদিকে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক দলীয় সভায় কল্যাণ পার্টির প্রধান আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দেন। সেজন্য সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।

যদিও সারাদেশে তাদের কমিটি নেই, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জনপ্রতিনিধি নেই। এমন একটি দলের পক্ষ থেকে ২০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হলেও দলীয় সূত্রের দাবি, কল্যাণ পার্টি সেই সক্ষমতা ‘সময় মতো’ অর্জন করবে।

সূত্র জানায়, নিবন্ধন হারানো একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী নির্বাচনে ২০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করছে কল্যাণ পার্টি। এই প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হলে সেখানে বিএনপি এবং অন্যান্য দলের একাধিক পরিচিত মুখকে দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব মো. আল-আমিন ভূঁইয়া রিপন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা ২০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। সে অনুযায়ী দলে আমাদের কাজ চলছে।’

jagonews24

এ ঘোষণার পর জোটের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক থাকছে কি-না জানতে চাইলে রিপন বলেন, ‘এখনই এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ২০০ আসনে প্রার্থী প্রস্তুত করতে পারি, আমাদের প্রার্থীর যদি সক্ষমতা থাকে নিশ্চয়ই জোট আমাদের সমর্থন দেবে।’

এ ঘোষণার মাধ্যমে কল্যাণ পার্টি ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে কি-না অথবা তারা বিএনপির সঙ্গে জোটগত নির্বাচনে যাচ্ছে কি-না জানতে চাইলে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘আমরা আগামী নির্বাচনে ২০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার কথা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছি। এর মানে এই নয় আমরা জোট থেকে বের হয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রার্থী নিয়ে আমরা জোটের সঙ্গে নেগোশিয়েট করব।’

কেএইচ/এসএস/এসএইচএস/জেআইএম

বিএনপি তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটটি ভেঙেও দিচ্ছে না, আবার কার্যকরও করছে না। তারা কার্যত একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে জোটের শরিকরা যাতে নতুন কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে না পারে সেজন্য এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

আমরা আগামী নির্বাচনে ২০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার কথা ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছি। এর মানে এই না আমরা জোট থেকে বের হয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রার্থী নিয়ে আমরা জোটের সঙ্গে নেগোশিয়েট করব।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]