হরতালের প্রভাব পড়েনি রাজধানীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:১৫ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৭

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম দলগুলোর ডাকা হরতালের প্রভাব পড়েনি রাজধানীতে। যদিও বিভিন্ন পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকাল থেকেই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত চিত্রের ন্যায় দেখা গেছে যানজট।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ২৩ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভায় ৩০ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতালের ডাক দেয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।

ওই ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পপতিবার সকাল ৬টা থেকে হরতাল শুরু হয়। সকালে শাহবাগ ও পল্টন এলাকায় হরতালের সমর্থনে দফায় দফায় মিছিল করে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। আর পল্টন-প্রেস ক্লাব এলাকায় দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মিছিল করেছেন হরতাল সমর্থকরা। এরপর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে বাম দলগুলো।

এদিকে হরতালকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ও নাশকতামূলক ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শাহবাগ এলাকাজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাঁজোয়া যান। পল্টন মোড়েও সাঁজোয়া যানসহ পুলিশের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।

Trafic-jam-1

সরেজমিনে রাজধানীর রামপুরা, মতিঝিল, কমলাপুর, বাড্ডা, হাতিঝিল ও গুলশান এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কোথাও হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং অনেক স্থানে রয়েছে যানজট।

সকাল ১১টায় মতিঝিলেও ছিল যানজটের নিত্যদিনের চিত্র। সকাল সোয়া ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার পর্যন্ত রামপুরা-বাড্ডা এলাকায় দেখা যায় তীব্র যানজট। বিশেষ করে রাজধানীতে প্রবেশের সড়কগুলোতে যানবাহনের আধিক্যে যানজট ছিল লক্ষ্যণীয়।

নূর এ মক্কা পরিবহনের বাস চালক আমিনুল ইসলাম জানান, হরতালে কোথাও বাধা পাননি তারা। বরং যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে আরও সময় লাগছে।

আলিফ পরিবহনের যাত্রী আসমাউল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের ন্যায় আজও যানজট ঠেলে মিরপুর থেকে তিনি রামপুরা যাচ্ছেন। হরতালে কোথাও বাঁধায় পড়েনি বাস।

তবে সকালে বামদলগুলোর বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচির কারণে পল্টন ও শাহবাগে যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পল্টনে যান চলচাল স্বাভাবিক হলেও শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাওয়ার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, হরতালের নামে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন আছে।

তিনি বলেন, হরতালের সমর্থনে মিছিল হচ্ছে। আমরা বাধা দিচ্ছি না। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কিছু করতে দেওয়া হবে না। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

Trafic-jam

ডিএমপির (ট্রাফিক) উত্তর বিভাগের (বাড্ডা) সহকারি কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান জানান, হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি সড়কে। যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

অন্যদিকে মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এখনও ঘটেনি। সার্বিক পরিস্থিতি ভাল আছে। সকালে মিছিল হলেও এখন সব স্বাভাবিক রয়েছে। সকালে পল্টন এলাকা থেকে ১১ হরতাল সমর্থককে আটকের পর ফের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বামদল জোটভুক্ত সংগঠনের ডাকা আধা বেলার হরতালে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে পাঁচ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

জেইউ/এমএমজেড/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :