আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার সংগ্রাম : খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩০ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৯:০১ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭
আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার সংগ্রাম : খসরু

আগামী নির্বাচন (একাদশ জাতীয় নির্বাচন) বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার সংগ্রাম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমাদের সমস্ত অধিকার ফিরিয়ে নেয়ার মুক্তির আন্দোলনের যে সংগ্রাম আসছে এই বাঁচা-মারার সংগ্রামে উত্তীর্ণ হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নাই। এতে উত্তীর্ণ হতে হবে। জনগণ প্রস্তুত আমাদের মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। যে যেখানে আছে আমাদেরকে নেমে পড়তে হবে। দেশকে বাঁচাতে হবে, মুক্ত করতে হবে।

সোমবার দুপুরে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় আয়োজন করে বাংলাদেশ সিভিল রাইটস সোসাইটি।

খসরু বলেন, বাংলাদেশে স্বপ্রণোদিতভাবে নীলনকশার অংশ হিসেবে মানবাধিকার হরণ করা হচ্ছে। আর এর পিছনে কাজ করছে একটি শক্তি। যারা বাংলাদেশে ক্ষমতায় যাওয়া এবং দখল করে বছরের পর বছর থাকার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। যা শুধু মাত্র করা হয়েছে সংবিধান পরিবর্তন করে।

খসরু বলেন, সংবিধান হচ্ছে জীবন্ত দলিল। এর মৃত্যু হতে পারে না। আজকে সরকার নিজেদের সুবিধার্থে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে সংবিধান কিছু পরিবর্তন করেছেন। তারা সংবিধানকে ডিপ ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন, এতে হাত দেয়া যাবে না। কারণ সংবিধানে হাত দিলে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে হবে, মানবাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। অথচ সরকার সংবিধান পরিবর্তন করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করতে, কারো কারো পারিবারিক নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু একটি কথা স্পষ্ট, সংবিধান মানুষের অধিকার সুরক্ষায় তাই যতবার প্রয়োজন হবে ততবার পরিবর্তন করতে হবে।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন আইনের শাসন অনুপস্থিত, আছে শাসকের আইন। জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগকে পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রধান বিচারপতিকে রীতিমত পালিয়ে যেতে হয়েছে, পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গুমের স্থান হচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীর মাধ্যমে গুম করছে। ফলে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় সন্ত্রাস একাকার হয়ে গেছে। কারণ গণতন্ত্রের আবরণে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে ভয়ংকার ব্যাপার।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান সাংবাদিক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর অালম প্রধান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, নারী নেত্রী জুয়েলা পারভীন প্রমুখ।

এমএম/আরএস/এমএস