সরকারের সময় শেষ : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতই পণ পণ করে ঘুরতে থাকেন কোনো লাভ হবে না। যদি মনে করে থাকেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্তরীণ করে দেশের মানুষকে বোকা বানাবেন, আবার ক্ষমতায় যাবেন, সেটা এদেশের মানুষ হতে দেবে না। আপনাদের সময় শেষ। আইয়ুব খান, এরশাদ মানুষকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি।

বুধবার সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

সমাপনী বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ জিয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, জাতির সামনে একটা নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শহীদ জিয়া। সেই স্বপ্নটা ছিল পরিবর্তনের। অর্থাৎ আগের রাজনীতি নয়। মানুষের কল্যাণ এবং দেশের উন্নয়নের রাজনীতি। দারিদ্র্য দূর করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নকে গ্রহণ করে দেশের মানুষ দিনরাত কারখানা খোলা রেখে উৎপাদন করেছেন। কৃষক-কৃষাণীরা উৎপাদনের গান গেয়েছেন। স্কুলে স্কুলে ডাবল শিফটে পড়াশোনা হয়েছে। মানুষ নতুন স্বপ্নের পথ দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছিল এদেশের শত্রুরা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ সময় নয়, মাত্র সাড়ে তিন বছরে শহীদ জিয়া অর্থনীতির ভিত্তি রচনা করেছিলেন। সেই ভিত্তির ওপরেই আজকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অট্টালিকা নির্মিত হচ্ছে। আজকে মুখে মুখে বড় কথা বললেও সরকার অন্তসারশূন্য। এতগুলো ব্যাংক দিয়েছে। সবাইকে ব্যাংক দিয়েছে। এমনকি ম খা আলমগীরকেও ব্যাংক দিয়েছে। কিন্তু এমন অবস্থা হয়েছে আজকে তার ফার্মাস ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করে তাকে পালিয়ে যেতে হয়েছে। চুরির দায়ে এমডিকেও পদত্যাগ করতে হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার প্রত্যেকটা ব্যাংকে চুরি করে এমন অবস্থা করেছে যে, ব্যাংকের আমানতকারীরা বলছে-ছেড়ে দে মা কেন্দে বাঁচি। ইসলামী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংক গিলে ফেলেছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত গেলার চেষ্টা করেছিল। এরা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। রেমিট্যান্সেও কমতে শুরু করেছে। অর্থনীতির মূল স্তম্ভ গার্মেন্ট সেক্টরও ধ্বংস। আজকে প্রশ্নপত্রও ফাঁস হচ্ছে। ক্লাস এম এ থেকে শুরু করে চাকরি, প্রথম শ্রেণি, দ্বিতীয় শ্রেণির প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। সব ফাঁস। মানুষ যাবে কোথায়? এই পয়সাগুলো তারা নিজেদের পকেটে ঢুকায়। পদ্মাসেতু-মগাবাজার উড়ালসেতুর মতো সব মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে অর্থ লুট করে নিচ্ছে। এরা হচ্ছে বর্গী। যারা দেশ থেকে লুটে নিয়ে যাবে।

বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ব্ক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম এ মালেক, খন্দকার মাশুকুর রহমান, ঢাকা মহানগরীর হাজী শফিকুল ইসলাম রাসেল ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এমএম/জেএইচ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :