হয়রানি বাড়াতেই খালেদা জিয়ার ১৪ মামলা বকশীবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:০৯ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮
হয়রানি বাড়াতেই খালেদা জিয়ার ১৪ মামলা বকশীবাজারে

বকশীবাজার বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার ১৪ মামলা স্থানান্তর প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আরও বেশি হয়রানি করতেই এটি সরকারের আর এক নির্মম পদক্ষেপ।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিশেষ এজলাসে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রিজভী বলেন, আপনারা দেখেছেন শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় বসেন তার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা বিচারাধীন ছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণসহ হাজার হাজার মামলা চলমান ছিল। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১/১১ এর অবৈধ সরকারের করা কয়েকটি মামলা ছিল অভিন্ন। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসার পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাজার হাজার মামলা জাদুর কাঠির ইশারায় প্রত্যাহার হয়ে যায়। আর খালেদা জিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা জাল ও ভুয়া নথিতে তৈরি মিথ্যা মামলাগুলো চলে সুপারসনিক গতিতে।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় এমনিতে সপ্তাহে কয়েকদিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়। নতুন মামলাগুলো বকশিবাজারে স্থানান্তরের উদ্দেশ্য হলো-বেগম জিয়াকে প্রতিনিয়ত হয়রানির মধ্যে রাখা এবং অবিরামভাবে হেনস্তা করা।

‘বেগম জিয়ার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যঘাত সৃষ্টি করতে আওয়ামী লীগের নীলনকশা অনুযায়ী ১৪ মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও একতরফা করতে যে যড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা চলছে এটি তারই অংশ’।

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী দুঃশাসনে অশান্তির আগুনে ভিতরে ভিতরে মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। সরকার বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের হাইওয়ের দিকে না গিয়ে চক্রান্তের হদিস করে বেড়াচ্ছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধের মতো এরা এখন সুপথের সন্ধান পাচ্ছে না। তাই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে চক্রান্তে মেতে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি সুস্পষ্টভাবে বলছি- নিজেদের বোনা চক্রান্তজালে নিজেরাই আটকা পড়বেন। জনগণই রাজপথে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে’।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম, তৈমূর আলম খন্দকার, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরাফত আলী সপু, আব্দুল আউয়াল খান, আসাদুল করিম শাহীন, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএম/এমএমজেড/জেআইএম