জাতীয় মজুরি ১৮ হাজার টাকা করার দাবি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতারা শ্রমিকের বাঁচার মতো জাতীয় মজুরি ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সমাজে সম্পদ তৈরি করে শ্রমিকের অভাব ও দুঃখ দূর হয় না। দেশের সম্পদ যতো বেড়েছে সব কিছুই শ্রমিকের শ্রমে।

৬ কোটি ১৪ লাখ শ্রমিক কৃষি, শিল্প, সেবা খাতে কাজ করে। তাদের শ্রমে দেশের জিডিপি বাড়ে, মাথাপিছু আয় বাড়ে, রফতানি আয় বাড়ে। কিন্তু হতভাগা শ্রমিকদের বেতন বাড়ে না।

শ্রমিক ফ্রন্টের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিল আয়োজিত হয়। জাহেদুল হক মিলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা জেলা ট্যাক্সি, ট্যাক্সিকার, অটো টেম্পু অটোরিক্সা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, রিক্সা শ্রমিক ফ্রন্টের সংগঠক খালেকুজ্জামান লিপন, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ঢাকা মহানগরের সভাপতি জুলফিকার আলী।

নেতারা বলেন, সরকারের হিসাবে মাথাপিছু আয় ১৬১০ ডলার। তাহলে ৫ সদস্যের পরিবারের মাসিক আয় হওয়ার কথা ৫৩ হাজার টাকারও বেশি। কিন্তু কতজন শ্রমিক মাসে এই পরিমাণ টাকা আয় করতে পারে? গার্মেন্টস, চা, রি-রোলিং, দোকান কর্মচারীসহ বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে কম। অথচ এই দেশে মালিকদের বাড়ি-গাড়ি, ব্যাংকের টাকা, বিদেশে সম্পদ সব বাড়ছে। ১৮৮৬ সালে শ্রমিকরা আন্দোলন করেছিল ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে, আজ ১৩১ বছর পরেও কোনো রকম সংসার চালানোর জন্য শ্রমিকদের ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়।

নেতারা আরও বলেন, শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও গণতান্ত্রিক শ্রম আইনের জন্য আন্দোলন করছে দীর্ঘদিন থেকে। ২০০৬ সালে প্রবর্তিত এবং ২০১৩ সালে সংশোধিত শ্রম আইনের ১৭৯ ও ১৮০ ধারার মাধ্যমে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে। আইনের ২৩ ও ২৬ ধারার বলে মালিকের হাতে শ্রমিক ছাঁটায় করার অসীম ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ মাত্র ১ লাখ টাকা। যারা অসংগঠিত খাতে কাজ করে যেমন হালকা যানবাহন, রিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, ইজি বাইক, পরিবহন, মোটর মেকানিক, নির্মাণ, তাঁত, বিড়ি, জরি, পাদুকা, হকার, দিনমজুর তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তাদের শ্রম আইনে সুরক্ষা বলতে কিছু নেই।

এফএইচএস/এমআরএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :