ডিএনসিসি নির্বাচন ভণ্ডুল করেছে সরকার : আমীর খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৭:২৮ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

ডিএনসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাদের পরাজয় নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩য় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিহিংসার রাজনীতি বিপন্ন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আমীর খসরু বলেন, সব সময় কোর্টের কাঁধের ওপর বন্দুক রেখে একটির পর একটি অগণতান্ত্রিক কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তারা এ কাজটি করেছে। কারণ এ নির্বাচনে তারা বিশালভাবে পরাজিত হতো। এ জন্য তারা এ নির্বাচনটিকে ভণ্ডুল করে দিয়েছে। তারা চিন্তা করেছে এ নির্বাচনে তাদেরকে জয়লাভ করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা ছাড়া তাদের কোনো পথ নেই। আর তা না হলে তাদের পরাজয় হবে। যেটা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এটার মাধ্যমে স্পষ্ট ডিএনসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তাদের পরাজয় নিশ্চিত।

বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, ২০১৮ সালের শেষে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেই নির্বাচনের জন্য আজকে জনগণের মধ্যে অনেকগুলো প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রশ্নগুলো হচ্ছে নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি-না? এই প্রশ্নটা আমরা যতই দূরে সরিয়ে দিতে চাই এটা আবার সামনে চলে আসে। সবার মনেই একটা প্রশ্ন আগামী নির্বাচনে নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার অর্থাৎ আমার ভোট আমি প্রয়োগ করতে পারবো কি-না এ প্রশ্নগুলো সবার সামনে ওঠে এসেছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নগুলো এ কারণে ওঠে এসেছে আজকে আওয়ামী লীগ একটি নির্বাচনী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পটির কাজ হচ্ছে দেশের জনগণকে বাইরে রেখে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া। এর জন্য প্রয়োজনীয় যা যা করার সব কিছু করছে এবং করবে। সেজন্য বিএনপির চেয়ারপারসনকে মামলা দিয়ে ব্যস্ত রেখে প্রকল্পের অংশ হিসাবে কাজ করছে। এ প্রকল্পটি কি সফল হবে নাকি আমরা এটা কে ভেঙে চুরে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে নিয়ে আসবো এটাই হচ্ছে প্রশ্ন। এর সমাধান জাতি চায়, জাতির প্রত্যাশা এটা।

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, সরকারের উদ্দেশ্যে আরও পরিষ্কার হয়ে গেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে। এ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবার আগে আমাদের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে ছিলাম। এ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য আমাদের যে সিরিয়াসনেস ছিল সেটা আমরা প্রকাশ করেছি। অামাদের ঢাকা উত্তরের নেতাকর্মীরা সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল। এ অবস্থা দেখে ক্ষমতাসীনরা ভেবেছে এ নির্বাচন তাদের জন্য ভালো হবে না। তারা জানতো এ নির্বাচনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। বিগত সিটি নির্বাচনেও তাদের পরাজয় হয়েছিল। আমরা জানি কীভাবে তারা ক্ষমতা দখল করেছিল।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হুমায়ূন কবির বেপারির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা, জাসাসের সাবেক সভাপতি রেজাবুদ্দদৌলা চৌধুরী প্রমুখ।

এমএম/জেএইচ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :