প্রস্তাবনা শেষের পথে, থাকছে আলোচনার ক্ষেত্র : খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:১৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮
প্রস্তাবনা শেষের পথে, থাকছে আলোচনার ক্ষেত্র : খসরু
ফাইল ছবি

বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছে জানিয়ে দলটির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ওই রূপরেখায় আলোচনার একটি ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এতে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটিকে ভিত্তি ধরে জাতীয় ঐক্যমত্যের মাধ্যমে একটি নির্বাচনী ব্যবস্থায় পৌঁছানো যাবে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ‘সাগর-রুনি মিলনায়তনে’ এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ‘বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাবনার অপেক্ষায় আছে আওয়ামী লীগ’ গণমাধ্যমে এমন সংবাদকে উদ্ধৃত করে আমির খসরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বন্ধুরা নাকি বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের যে প্রস্তাবনা দেবে তারা সেটার অপেক্ষায় আছে। আমি আশ্বস্ত হলাম, এটা তো সুখবর। প্রথমবারের মতো শুনলাম তাদের গণতান্ত্রিক মনমানসিকতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। তারা যদি বিএনপির সেই প্রস্তাবনার জন্য অপেক্ষা করে থাকে তবে স্বাগত জানাই।’

‘আমাদের প্রস্তাবনার কাজ শেষের পথে। প্রস্তাবনা জাতির কাছে উপস্থাপন করব। এর মাধ্যমে একটি জাতীয় আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা করছি আমরা। সেই আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমত্যের মাধ্যমে একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।’ প্রস্তাবনার উদ্দেশ্য জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার যেটি হবে সেটি হচ্ছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। প্রস্তাবনার উদ্দেশ্য হবে সেটা। এটা বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কোনো বিষয় নয় জনগণের যে প্রত্যাশা নির্বাচনকে নিয়ে সেটি পূরণ করতে হবে। কোনো দল বা গোষ্ঠীর প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য বাংলাদেশ হয়নি।’

তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকবে, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন থাকবে, একটি নিরপেক্ষ সরকারের নির্বাহী বিভাগ কাজ করবে; যার মাধ্যমে জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাবে। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং তার প্রতিফলন ফলাফলে ঘটবে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ হবে, সরকার হবে। এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। সেটি কোনো শক্তি করতে চাইলে তা প্রতিরোধ করতে হবে। প্রতিরোধ করে জনগণের রাষ্ট্রের ওপর যে মালিকানা তা ফিরিয়ে দিতে হবে বলেন আমির খসরু।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের মুক্তি দাবিতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল মুক্তি পরিষদ’। বিএনপির সভা সমাবেশের ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত করে দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, জুয়েলের মুক্তির জন্য সভা করতে হচ্ছে এ ধরনের একটি ছোট জায়গায়। আমাদের নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার কোথায় আছে এ থেকে বোঝা যায়। এখন থেকে আমরা মুক্তি চাইব না, মুক্ত হব। মুক্ত হওয়ার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার, সেটি আমাদের অনুধাবন করে কাজে লাগাতে হবে। বক্তৃতা বা প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে হবে না।

তিনি বলেন, শত শত মানুষ গুম হচ্ছে, পুরো ব্যাংকিং সেক্টরকে লুটপাট করে শেষ করে দিয়েছে, দেশ থেকে লক্ষ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, আজকে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নেয়া হয়েছে, বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ এসবের বিস্ফোরণ ঘটবে। এর দায়-দায়িত্ব অবৈধ সরকারকে নিতে হবে। সরকার ‘পাতানো নির্বাচনের’ মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের ছক অাঁকছে অভিযোগ করে বিএনপির এ নীতি নির্ধারক বলেন, এজন্য তারা নির্বাচনী একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই সরকারের বিশেষ বিশেষ ব্যক্তি এ নির্বাচনী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে বাইরে রেখে ক্ষমতায় যাওয়া। খালেদা জিয়াকে কোর্টে ব্যস্ত রেখে বা সাজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া এ নির্বাচনী প্রকল্পেরই অংশ।

এ চক্রান্তের মধ্যে আছে দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় কারাগারে নেয়া, দলীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করা, সেনাবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলার কাজ থেকে দূরে রাখা, গুম-খুন-রাজনৈতিক নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়ে যাওয়া এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চালু না রাখা’ বলেন আমির খসরু। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জাকারিয়া আলম মামুনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।

এমএম/ওআর/এমএস