‘জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৮:২২ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০১৮

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচন দেন, জনগণ ঠিক করবে তারা কাকে পছন্দ ও নির্বাচিত করবে। এখনো সময় আছে সংবিধান সংশোধন করার। নচেৎ জনগণ তাদের ভোটের অধিকার রাস্তায় নেমে আদায় করবে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা জনগণের সেই আন্দোলনে পাশে থাকবো।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

'জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর আবির্ভাব, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও জনগণের জন্য আশীর্বাদ' শীর্ষক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, 'রাজনীতির যে অস্থিতিশীল অবস্থা, সমাজে যে অস্থিরতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নাই, সব কিছুকে যদি সমাধান করতে হয়, তাহলে জনগণের সরকার প্রয়োজন। জনগণের সরকার আনতে হলে নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন। আমি প্রত্যাশা করি সরকার এ কথা উপলব্ধি করবেন। কেন না প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন 'ভবিষ্যৎতে নির্বাচনকালীন একটি সরকার হবে।' কিন্তু বর্তমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকারের কোনো অস্তিত্ব নেই। যদি নির্বাচনকালীন সরকারের কথা আপনি (প্রধানমন্ত্রী) মেনেই থাকেন তাহলে আপনার সংসদ আছে, টু-থার্ড মেজরিটি আছে। সেই সংসদে সংবিধান সংশোধন করেন। সেখানে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারে ব্যবস্থা কায়েম করেন। যা এখনো সম্ভব।

সরকার বিরোধী দলকে দাবিয়ে রাখার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত মন্তব্য করে বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, 'আজকে যদি আমরা গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে চাই, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার। যেহেতু জিয়াউর রহমান বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, আমাদেরই দায়িত্ব গণতন্ত্রকে মুক্ত করা। নির্বাচনের মাধ্যমেই এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।'

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, 'আমরা নাকি নির্বাচনকালীন তিনটি সরকারের কথা বলেছি, তারা এখনো পরিষ্কার নয়। আমরা বলতে চাই, সাধারণ সম্পাদক সাহেবতো (ওবায়দুল কাদের) অনেক কথাই বলেন, তাকে তার অফিসে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আর তিনি বলেছেন এটা অবরুদ্ধ না, তারা সেখানে বিজয় মিছিল করছিল, উল্লাস করছিল। যে ব্যক্তি অবরোধকে উল্লাস বলতে পারে, তিনি বলছেন বিএনপি নাকি নির্বাচনকালীন সময় তিনটি সরকারের কথা বলছে। আমরা তিনটি সরকারের কথা বলি নাই। আমরা পরিষ্কার বলেছি নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে। এ সরকারটি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সহায়তা করবে। সেই সহায়তা করার জন্য একটি সহায়ক সরকার হবে, সেটা যেভাবেই হোক। এ সরকারের চরিত্র হবে নিরপেক্ষ। নির্বাচনকালীন তাদের কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। সে নিরপেক্ষ সরকারের নাম যেটাই হোক না কেন, আমরা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলেছি।

আমাদের নেত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) এ সরকার (নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার) কেমন হবে, সেটা নিয়ে ভবিষ্যৎতে একটি রূপরেখা দিবেন। আমরা উপযুক্ত সময়ে সে ঘোষণা দেব। সেই রূপরেখা নিয়ে আমরা জনগণের কাছে যাবো। তার স্বপক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য কর্মসূচি দেবে বলে জানিয়েছেন মোশাররফ।

জনগণ এ গায়ের জোরের সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাদের কাছ থেকে মুক্তি চায়, সেটা সম্ভব নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে বলেও তিনি এ সময় মন্তব্য করেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল হোসেন প্রমুখ।

এমএম/জেএইচ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :