পাঁচ তারকা হোটেলে মিটিংকারীরা জনগণের দল না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫৩ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

 

যারা পাঁচ তারকা হোটেলে মিটিং করে তারা জনগণের দল না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও শ্রমিক সমাজ’ শীর্ষক সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল পাঁচ তারকা হোটেলে মিটিং করে এটি আমরা কল্পনাও করতে পারি না। বিএনপির জাম্বু জেট মার্কা কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা হোটেল লা-মেরিডিয়ানে তিন বছর পর হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা প্রতি দুইমাসে একটি হয়। সুতরাং যারা রাজনৈতিক দলের সভা পাঁচ তারকা হোটেলে করে এরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, এরা জনগণের দল নয় এরা লুটেরাদের দল, এরা শ্রমিকের দল নয়, শ্রমিকের রক্তচোষাদের দল।

'বাংলাদেশের সংবিধান কোন শিলায় তৈরি' বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের দোয়াশ মাটি থেকে উৎসরিত জনগণের স্বার্থে এই সংবিধান। আপনারা ভারত, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার উদাহারণ দেন সেখানে যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নাই বাংলাদেশেও নির্বাচনকালীন সময়ে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনাই প্রধানমন্ত্রী থাকবেন এবং বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন। আপনাদের আবদার রক্ষার্থে সংবিধানের কোন ব্যত্যয় হবে না।

‘আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ যাতে না হয় সেই লক্ষ্যে নাকি তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে’ বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আপনারা পুলিশের ওপর হামলা চালাবেন, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতায় করবেন, পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিবেন এবং সেই অস্ত্র ভেঙে দিবেন আর আপনাদের গ্রেফতার করা যাবে না। এটা কোনো ধরনের আইন আমার বোধগম্য নয়। সুতরাং শুধু যারা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করলে হবে না। তাদের নির্দেশদাতাকেও গ্রেফতার করতে হবে। আর আমরা চাই আপনারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন।

আওয়ামী লীগের সমস্ত পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আগামী ৭, ৮, ৯ ফেব্রুয়ারি মাঠে থাকার আহবান জানিয়ে হাছান বলেন, আগামী ৭, ৮, ৯, ফেব্রুয়ারি আমরা রাজপথে থাকবো যদি আবারও শ্রমজীবী মানুষের উপর পেট্রাল বোমা নিক্ষেপ করা হয়, হামলা করা হয়, সেই হামলা প্রতিহত শুধু নয়, হামলাকারীদের ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল প্রমুখ।

এইউএ/জেএইচ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :