‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে আ. লীগ-বিএনপিকে সমান সুযোগ নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২২ এএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ মানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সমান সুযোগ প্রদান নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।

সোমবার রাজধানীর পুরানা পল্টন মুক্তিভবনে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির সভার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তখনই নিশ্চিত হবে যখন সকল ভোটারদের ভোটে দাঁড়ানোর এবং ভোট দানের অধিকার সুনিশ্চিত হবে। কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত করে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রচিত হবে না।

সেলিম বলেন, নিবন্ধিত তিনটি বাম দল সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির যৌথ প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে তার সাথে সাক্ষাতকালে তিনি নিশ্চিত করেছিলেন নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। কিন্তু আমরা সংবাদ মাধ্যমে দেখছি, নির্বাচন কমিশন বর্তমান জামানত ২০ হাজারকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)’র খসড়া তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বিদ্যমান জামানত ২০ হাজার থেকে কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করা, ভোটার তালিকার সিডি ক্রয় বাধ্যতামূলক না করা, করারোপযোগ্য আয়ের নীচের প্রার্থীদের জন্য টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক না করা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়ন জমা গ্রহণের ব্যবস্থা করাসহ ১৮ দফা সুপারিশ করা হয়।

সেলিম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছিলেন জামানত বাড়ানোর কোনো চিন্তা নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশন তার অবস্থান পরিবর্তন করে জামানত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছি, জামানতসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যোগ্য কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল রাজনৈতিক কর্মীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে বাধা সৃষ্টি করলে সিপিবি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভেবে দেখবে।

সেলিম বলেন, দেশে ক্ষমতার লড়াই চলছে শাসক শ্রেণীর দুই দল এবং তাদের অনুসারী জোটের মধ্যে। শাসক দল রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ব্যাংকে রক্ষিত জনগণের আোনত লুট করে নিচ্ছে শাসক দলের নেতা-কর্মীরা। মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতিবাজ আমলা আর সরকারি দল ও জোটের নেতা-কর্মীরা। মন্ত্রীরা নিজেরাই স্বীকার করছেন তারা দুর্নীতিগ্রস্ত।

পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম কেন্দ্রীয় কমিটির গত এক বছরের পর্যালোচনা উত্থাপন করেন।

এইউএ/এআরএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :