‘অনুমতি না দিলে গণতন্ত্র হরণ, দিলে বলে সরকার বাধ্য হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৩ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৩:০৫ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮
ছবি-ফাইল

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দিলে বলে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে, আর দিলে বলে সরকার বাধ্য হয়েছে। এখন সরকার কোন দিকে যাবে?

বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের এসব কথা বলেন।

আগামী ২৯ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এখনও অনুমতি পায়নি দলটি। অনুমতি পেতে মঙ্গলবার দলটির তিন শীর্ষ নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পুরনো কথা বলতে গেলে তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত, কিন্তু লজ্জা তারা পাবে না। কারণ তারা লজ্জা পাওয়ার দল না। তারা যখন ক্ষমতায় ছিল আমরা তখন বিরোধী দল। আমাদের অফিসের বারান্দায় পর্যন্ত আমরা সভা করতে পারিনি। তারা নিজেরা যখন ক্ষমতায় ছিল এসব সুযোগ-সুবিধা কাউকে দেননি। গণতান্ত্রিক সব অধিকার তারা হরণ করেছে।’

জনদুর্ভোগ বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালি করেনি জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা না করে তারা (বিএনপি) অফিস খোলার দিন র‌্যালি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসে তারা শোভাযাত্রা করলো, সেটা কি (প্রমাণ করে) সরকার স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় দেশ চালাচ্ছে? অনুমতি পেয়েও কি তার এই কথা বলবে? নাকি এই কথা বলবে সরকার বাধ্য হয়েছে? প্রবলেম তো এখানে, তাদের অনুমতি না দিলে সরকার গণতন্ত্র হরণ করেছে। আর অনুমতি দিলেই তারা বলে সরকার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এখন সরকার কোন দিকে যাবে। এটাই তো বিএনপির ন্যাচার। এভাবেই তো তারা কথা বলছে।’

আগামী ২৯ তারিখে ঘোষিত বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে সরকার কোন দিকে যাবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোন দিকে যাবে তা পুলিশ কমিশনারকে জিজ্ঞাসা করুন। এখানে নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। সরকারের আন্তরিকতার অভাব থাকলে, তারা কীভাবে গতকাল শোভাযাত্রা করল? সেই প্রশ্নটার জবাব দিক তারা।’

তিনি বলেন, ‘তারা কি বলবে- সরকার বাধ্য হয়েছে! তারা বাংলাদেশে এমন কী মহাপ্লাবন ঘটিয়েছে যে, সরকার বাধ্য হবে। সেই সামর্থ্য-সক্ষমতা কি বিএনপি গত ৯ বছরে ৯ মিনিটের জন্যও দেখাতে পেরেছে! সামনে তো প্রশ্নই আসে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মানুষ এখন ইলেকশনের মুডে, কেউ আর আন্দোলনের মুডে নেই। উন্নয়ন ও অর্জনে মানুষ খুশি। বিএনপির কোনো অর্জনের ইতিহাস নেই। এখন লিভ সর্ভিস দিয়ে কি ভোট পাওয়া যাবে। ভোট পেতে হবে কাজ দিয়ে। তরঙ্গ বিক্ষোভ তো দূরের কথা একটা ঢেউও তো দেখলাম না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তারিখ ঘোষণার পর পরই রাতের বেলা এক কলমের খোঁচায় বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে ৭ ধারা বাদ দিল কেন? এখন দুর্নীতিবাজ, কুখ্যাত ও উন্মাদের বিএনপির সভাপতি বা অন্য কোনো পদে থাকতে বাধা নেই। নৈতিকতার বিষয়টি তারা বড় করে দেখছেন না?’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি মেনেই নিয়েছে তারা আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ দল, আত্মস্বীকৃত দণ্ডিত দল।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা কেন ৭ ধারা বাদ দিয়েছে এই প্রশ্নের জবাব, ফখরুল সাহেব বা অন্য কোনো নেতার কাছে আমি আজও পাইনি। কেন (৭ ধারা বাদ দিলেন)- সেই প্রশ্নই আমি আবার করছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে এলে সরকার কীভাবে তাদের সরাবে। এটা তাদের অধিকার। এটা কি সরকারের দয়া। তারা কি সরকারের দয়ায় রাজনীতি করে। সরকার কেন তাদের নির্বাচনে টেনে আনবে?’

তৃণমূলে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে শক্তিশালী, দৃঢ় অবস্থানে আছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃণমূলের বিপুল সমর্থনের উপর ভর করেই আমরা আগামী নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে আশাবাদী। সাম্প্রতিককালে এসব নির্বাচনে আমরা যখন বিজয়ী হই তখন নিউজ আসে না। আমি দেখছি তো ইউনিয়ন পরিষদে।’

এবারও নির্বাচনকালীন সরকার গতবারের মতো ছোট হবে জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে যেসব দল প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের নিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে। তবে কী করবেন, এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।’

কবে নাগাদ নির্বাচনকালীন সরকার হবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের একটা সময়সীমা হয়ে গেছে, এর আগে নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। এটা তো আমরা ঠিক করতে পারি না।’

 

আরএমএম/আরএস/এমবিআর/আরআইপি