১/১১ সরকারের বৈধতাদানকারীদের বিচার চাইলেন খসরু

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহামুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১/১১ সরকারের সময় তাকে গ্রেফতারে কাদের অবদান ছিলে তা জানতে পেরেছেন। তাদের বিচার করবেন। ১/১১ সেনা সমর্থিত সরকার তো আওয়ামী লীগের আন্দোলনের ফসল। তাহলে যারা সেই সরকারের বৈধতা দিয়েছে তাদের আগে বিচার হওয়া উচিৎ।’

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সকল কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত যুব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের আস্থা হারাচ্ছে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) নিজেদের জালে নিজেরাই আটকা পড়ছে। তাদের এমন ভাব হয়েছে যেমন চোরাবালিতে পড়লে যেদিকেই নড়ে না কেন নিচে যেতে হয়।’

সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে প্রস্তাব দিয়েছেন তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এরশাদ নিজে ছিলেন একজন স্বৈরাচার, আর বর্তমানে ক্ষমতায় আছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতপ্রাপ্ত স্বৈরাচার। দুই স্বৈরাচারের অধীনে কেমন নির্বাচন হবে তা দেশের মানুষ ভালো করেই জানে।

আমীর খসরু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় বলে সংবিধান মোতাবেক নির্বাচন হতে হবে, সংবিধান মোতাবেক দেশ পরিচালনা করতে হবে, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন সংবিধান কি পড়ে বলেন, নাকি না পড়ে বলেন? সংবিধানের মৌলিক অধিকার আইনের শাসন। জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সংবিধানের মৌলিক স্টাকচার ভেঙে দিয়ে সংবিধানের কথা বলতে আপনাদের লজ্জা করা উচিৎ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিএনপিকে উস্কে দিচ্ছে যাতে তারা গোলা পানিতে মাছ ধরতে পারে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে আবারও একদলীয় নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করতে পারে। এ জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সরকারের কোনো উস্কানিতে কান দেয়া যাবে না। গণতন্ত্রের পথ শান্তির পথ। আমরা সে পথেই আছি থাকব।

বিনএনপির এ নেতা বলেন, সরকার চাইবে বিএনপিকে উস্কানি দিয়ে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে। যাতে তারা খালেদা জিয়া ও বিএনপিকে বাহিরে রেখে নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু সরকারের এ ষড়যন্ত্র কখনও সফল হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। ভবিষ্যতেও তারা সময় মতো জেগে উঠবে। সব অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম নির্যাতনের জবাব দেবে।

সংগঠনের উপদেষ্টা এম এ বাশারের সভাপতিত্বে যুব সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কেএইচ/আরএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :