মেননের ৭৫তম জন্মদিন আজ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ এএম, ১৮ মে ২০১৮
ফাইল ছবি

ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্র নেতা ১৯৬৩-৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ৬৪-৬৭ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এবং বর্তমানে ১৪ দলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আজ ১৮ মে ৭৫ বছরে পদার্পণ করলেন।

এ উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে আজ সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত তাকে শুভেচ্ছা জানাবেন পার্টির নেতাকর্মীরা। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ যুব মৈত্রী ও ছাত্র মৈত্রীর যৌথ আয়োজনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

রাশেদ খান মেনন ১৯৪৩ সালের ১৮ মে পিতার কর্মস্থল ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার ছিলেন। তার মাতা মরহুমা সালেহা খাতুন। পিতৃভূমি বরিশালের বাবুগঞ্জের বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম। ঢাকা কলেজিয়াট হাইস্কুল থেকে মেট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টামেডিয়েট পাশ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএ পাশ করেন।

তিনি বাষট্টির আয়ুববিরোধী সামরিক শাসন ও শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আসেন। ১৯৬৩-৬৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) ও ৬৪-৬৭ সালে পূর্বপাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ১৯৬২ সালে নিরাপত্তা আইনে প্রথম কারাবন্দী হওয়ার পর ৬৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন মেয়াদে নিরাপত্তা আইন, দেশরক্ষা আইন ও বিভিন্ন মামলায় কারাবরণ করেন।

৬৭-৬৯ জেলে থাকাকালীন অবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন কৃষক সমিতিতে যোগ দেন ও সন্তোষে ঐতিহাসিক কৃষক সম্মেলনের সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা’ কায়েমের দাবি করায় ইয়াহিয়ার সামরিক সরকার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপনে যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে সব বামপন্থী সংগঠনকে নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি’ গঠন করে বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে প্রবাসী সরকারের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন প্রমুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টরে এবং দেশের অভ্যন্তরে কেন্দ্র স্থাপন করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

১৯৭৯ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮২ জেনারেল এরশাদ সামরিক শাসন জারি করলে রাশেদ খান মেনন সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১-এর পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাশেদ খান মেনন পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর নির্বাচনে তিনি ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তার প্রকাশিত গ্রন্থ হচ্ছে- রাজনীতি : রাশেদ খান মেননের রাজনৈতিক কলাম (১৯৯৮); রাজনীতির কথকতা (২০০০)।

এফএইচএস/এমবিআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :