দলীয় প্রধানের নির্দেশে নেতারা এলাকায়

আমানউল্লাহ আমান
আমানউল্লাহ আমান আমানউল্লাহ আমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিকরা পেয়েছেন আরেকটি ঈদ। ভোটারদের মন জয় করতে এবারের ঈদ কাজে লাগাতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাই অধিকাংশ নেতারাই ঈদুল আজহা উদযাপনে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, ঈদুল আজহায় এলাকায় জনগণের দুয়ারে যাওয়া এবং তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচানো একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। নেতাদের প্রতি এলাকার জনগণের রাগ-অনুরাগ থাকলেও ঈদে সেই রাগ-অনুরাগ দূর করা সম্ভব বলে ধারণা তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক কেন্দ্রীয় নেতা, বর্তমান সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে এলাকায় অবস্থান করছেন। যারা ঢাকায় ঈদ করবেন, তারাও ঈদের আগে ও পরে নিজ এলাকায় যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বাসভবন গণভবনে ঈদ উদযাপন করবেন। ঈদের দিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তিনি ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ঈদ পালন করবেন। কোম্পানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন তিনি। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠিতে।

ঢাকায় ঈদ করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাম্বাসিডর জমির। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য রাশিদুল আলম ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং কর্নেল (অব.) ফারুক খান ঢাকায় ঈদ করবেন।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য ঈদ করবেন যশোরের মনিরামপুরে।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ হজ করতে সৌদি আরব গেছেন। তিনি সেখানেই ঈদ করবেন। আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকায় ঈদ করবেন। তার নির্বাচনী এলাকা মোহাম্মদপুরে তিনি ঈদের দিন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরে ঈদ করবেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম তার নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুরের কালকিনিতে ঈদ করবেন।

তিনি বলেন ‘আমরা তৃণমূলের রাজনীতি করি। যেকোন উদযাপনে এলাকার মানুষ আমাদেরকে তাদের পাশে চায়। জনগণ চায় তাদের প্রতিনিধিও যেন একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ে, তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে, সুখ-দুঃখের তাদের পাশে থাকে। সে কারণে আমি প্রতিবারই ঈদ আমার এলাকার মানুষের সঙ্গেই করি। আগে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তারা তাদেরকে যেকোন উদযাপনে কখনই পেতেন না, আমি চেষ্টা করি তাদের সুখে দুখে সব সময় পাশে থাকার।’

সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় ঈদ করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ঈদ করবেন জয়পুরহাট, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক শরীয়তপুরে, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঈদ করবেন দিনাজপুরে। ঈদের চার দিন আগে থেকেই সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তিনি।

তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ঈদ করবেন পটুয়াখালী সদরে। ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন এবং এলাকার মানুষকে সময় দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর ঈদ করবেন কুমিল্লায় তার নির্বাচনী এলাকায়।

প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ তার নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়ায় ঈদ করবেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং তার স্ত্রী যুব মহিলা লীগের সাধারণ

সম্পাদক অপু উকিল ঈদ করবেন নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ঈদ করবেন গোপালগঞ্জে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা ঈদ করবেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা ঈদ করবেন ঢাকায়, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্সি ঢাকায় ঈদ করবেন।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ঈদ করবেন তার জন্মস্থান চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ঢাকায় ঈদ করবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, দলের সব সংসদ সদস্য, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় সব নেতাকে যার যার এলাকার জনগণের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এই ঈদ শেষ। ফলে গণসংযোগ করার জন্য এই ঈদ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী বলেন, এই ঈদে নেতাদের এলাকায় থাকতে মৌখিক নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এটি শেষ ঈদ হওয়ায় এলাকার মানুষের সঙ্গে সময় দেয়ার জন্য এই নির্দেশনা রয়েছে। ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি এলাকার জনগণের মান-অভিমান ভাঙাতে আওয়ামী লীগের ও সরকারের লক্ষ্য -উদ্দেশ্য মানুষের কাছে তুলে ধরতে নেতাকর্মী সবাইকে যত বেশি সম্ভব এলাকায় সময় দিতে বলা হয়েছে।

এইউএ/এমআরএম/এমএস