দেড়শতাধিক নেতাকর্মী আটকের অভিযোগ রিজভীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৪ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত প্রতীকী অনশন ঘিরে দেশব্যাপী দেড়শতাধিক নেতাকর্মীকে আটকের দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, আজ আমাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ অনশন কর্মসূচির জন্য ডিএমপি অনুমতি দিলেও তারা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিউশনে আসা-যাওয়ার পথে গতিরোধ করে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১০৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরেও ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

রিজভী বলেন, কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি প্রতীকী অনশন কেন্দ্র করে করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে অনশন কর্মসূচি শুরু ও শেষে রাস্তা অবরোধ করে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের নির্বিচারে গ্রেফতার করে। বিরোধী দলকে দলনের এক নতুন ফন্দি অবলম্বন করেছে পুলিশ। বিএনপি’র কর্মসূচির মৌখিক অনুমতি দেয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে নোতকর্মীদেরকে গ্রেফতারের এক নতুন স্ট্র্যাটেজি অবলম্বন করেছে সরকার। অর্থাৎ অনুমতির কথা শুনে নেতাকর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ে কর্মসূচির জন্য এক জায়গায় জড়ো হবে, আর সেই সুযোগ পুলিশ অনায়াসেই তাদেরকে ধরতে পারবে। এটি আসলে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে ধরতে পুলিশের একটি নতুন ফাঁদ।

তিনি বলেন, দখল ও সন্ত্রাসের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশ জনশূন্য করার জন্যই পুলিশকে অবাধ কর্মকাণ্ডের সনদ দিয়েছে। আজকের ঘটনায় এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সরকার দমননীতির উত্থান প্রবল থেকে প্রবলতর করছে। আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক চরিত্রই হচ্ছে হানাদারি আচরণে জনঅধিকার কেড়ে নেয়া। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের বাহিনী না বানিয়ে সবচেয়ে নিম্ন মানের দাসত্বের তকমা ঝুলিয়ে দিয়েছে সরকার। পুলিশি গ্রেফতারের এই অবাধ কর্মকাণ্ডে জনগণের পুঞ্জীভূত নীরব ক্ষোভ প্রশমিত হবে না, বরং তা আগ্নেয়গিরির মতো উদগীরণ হবে। আজকেও বেপরোয়া পুলিশি গ্রেফতার অভিযান গণতন্ত্রের জন্য এক মহাবিপদ সংকেত। বাক-স্বাধীনতা হরণ করতে সরকারের আগ্রাসী মনোভাব এখন চরম পর্যায়ে। অবৈধ সরকার দেশকে অতি দ্রুত গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী সরকারের কাশিম বাজার কুঠিতে মন্ত্রী ও আওয়ামী নেতাদের বৈঠক চলছে দিনরাত। একের পর এক চক্রান্তমূলক পরিকল্পনা আঁটা হচ্ছে সেসব বৈঠকে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে-অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী দলের অস্তিত্ব সর্বোপরি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের জন্য মহা লজ্জার দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। তারা চরম সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে। আওয়ামী সরকার এখন প্রান্ত বেলায়। খাদের কিনারে পতনের শঙ্কায়। সেজন্য তারা শেষ ভরসা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। কিন্তু এই ভরসাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। ক্ষমতার কানেকশন বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে এই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সাথে থাকবে না। বিএনপি নেতাকর্মীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে সরকারি বাহিনীর অন্যায় আচরণ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। সকল বাধা অতিক্রম করে সামনের আন্দোলনে গণতান্ত্রিক শক্তি জীবনবাজি রেখে অংশগ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কেএইচ/এসএইচএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :