চট্টগ্রামে মাঠছাড়া বিএনপি, দখলে রেখেছে আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০১৮

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে মাঠে নেই বিএনপি। মঙ্গলবার রাতেই নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ চার নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এদিকে গতকাল থেকেই মাঠ দখলে রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রায় ঘোষণার পর নগরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।

বুধবার সকাল থেকে নগরের কাজীর দেউড়ির নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

নগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী জাগো নিউজকে জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপি নেতা এম এ আজিজের পতেঙ্গার কলসী দিঘীর পাড়ের বাসায়, রাত ১০টার দিকে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের এনায়েত বাজারের বাসায়, রাত ১১টার দিকে সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের চান্দগাঁও আবাসিকের এ ব্লকের বাসায় এবং বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দুলালের খুলশীর বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।

awami

কিন্তু এসময় তারা কেউ বাসায় ছিলেন না। তবে এ অভিযানে সরাইপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ খানসহ ৯ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

এ অবস্থায় আজ (বুধবার) নগরে সবধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। ইতোমধ্যে গ্রেফতার-আতঙ্কে অধিকাংশ নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন। বন্ধ করে দিয়েছেন মোবাইল ফোন। দুপুর ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নগর বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনে দলের কোনো নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে কল দিয়েও সংযোগ পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্করের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া গেছে।

অপরদিকে সকাল থেকেই নগরের ১৭ টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে মাঠ দখলে রেখেছে আওয়ামী লীগ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সকালে বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গীবাজার, পাথরঘাটা, দেওয়ানহাট মোড়, পাহাড়তলী, লালখান বাজার, সিটি গেট ও অক্সিজেন মোড়ে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। প্রতিটি স্পটেই সড়কের পাশে অথবা আইল্যান্ডে অবস্থান নিয়ে তারা সমাবেশ করছে। সমাবেশগুলোতে অংশ নেন শতশত নেতাকর্মী।

awami

এদিকে রায় ঘোষণার পরপরই রায়কে স্বাগত জানিয়ে নগরের আকবরশাহ এলাকায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আনন্দ মিছিল হয়েছে নগরের আন্দরকিল্লা, বহদ্দারহাট ও নিউমার্কেট এলাকায়।

এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক গণ সমাবেশের আয়োজন করে নগর আওয়ামী লীগ। নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এতে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ রশিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শফিকুল ইসলাম ফারুক, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম প্রমুখ।

awami

সমাবেশে বক্তারা বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিঃশেষ করার আয়োজন। তারেক রহমানসহ ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে এদেশকে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে তুলে দিতে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপায় ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম মহানগরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনো প্রকার নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি হয় সে ব্যাপারে নগর পুলিশের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে দুই প্লাটুন পুলিশ।’

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় করা হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে অবস্থিত ঢাকার ১নং অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

এনএফ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :