হেফাজত সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করবে না আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০১ এএম, ২৭ অক্টোবর ২০১৮

 

হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ এবং পার্লামেন্টারি পার্টির যৌথ সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সংগঠন। হেফাজতে ইসলামকে ২০১৩ সালে ভুল বোঝানো হয়েছিল। এখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। হেফাজতে ইসলাম জামায়াত বিরোধী। জামায়াত ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করলেও হেফাজতে ইসলাম তা করে না।

নেতারা জানান, হেফাজতে ইসলাম যেহেতু জামায়াত বিরোধী এবং কোনো রাজনৈতিক দল নয় সেহেতু তাদের বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবে আওয়ামী লীগ নেতারা। যেহেতু কাওমী মাদ্রাসাকে বর্তমান সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে সেহেতু এই কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ সম্পর্কে সরাসরি মন্তব্য না করলেও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, কাওমি মাদ্রাসাকে বর্তমান সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পেয়েছে। তারা এখন মূল জনগোষ্ঠীর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

জানা গেছে, বৈঠকের এক পর্যায়ে আল্লামা আহমেদ শফীর নেতৃত্বাধীন পরিচালিত কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের কোনো ঠিকানা ছিল না। আমরা তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছি। তাদের কর্মসংস্থান যেন হয়, সে ব্যবস্থা আমরা করেছি। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কওমি আলেমদের একটা ভুল ধারণা ছিল। আমরা তাদের সেই ভুল ধারণা ভেঙে দিতে পেরেছি। তারা এখন আওয়ামী লীগের সুনাম করে। আমার বিশ্বাস আগামীতে কওমি মাদ্রাসার আলেমদের ভোট আমরা পাব। কিন্তু নির্বাচনের পূর্বে অনেকেই তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কের দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করবে। ১৪ দলের কোনো নেতার কোনো বক্তব্যে যেনো এমন কিছু বলা না হয়, যাতে করে কওমি আলেমদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এজন্য সবাইকেই সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় উপস্থিত নেতারা জানান, আগামী নির্বাচন কঠিন হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত সবাইকে প্রস্তুতি নিয়ে বলেছেন। নির্বাচনে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে, তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। যদি কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়, তাহলে পূর্বে ছাড় পেলেও এবার তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য তাকে বহিষ্কার করা হবে। এ সময় সব নির্বাচনী আসনের দলীয় সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রার্থীর সকল জরিপ তার হাতে এসেছে বলে বৈঠকে জানান।

তিনি জানান, আজ (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পরে তিনি ২০টির মতো গোয়েন্দা ও জরিপ রিপোর্ট খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। এর আগে ৬০ থেকে ৭০টির মতো রিপোর্ট দেখছেন বলেও উল্লেখ করেন। যেসব মনোনয়ন প্রার্থী নিজেকে জাহির করতে দলীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের রিপোর্টও তার কাছে আছে বলে জানান। এ ধরনের কাউকেই মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়ে কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন তিনি।

সভার এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাকের পার্টি ও ইসলামিক গণতান্ত্রিক জোট আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে চায় বলে ৩টি আবেদনের কথা তুলে ধরেন। তবে এ বিষয়ে দলীয় প্রধান সভায় কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানান কেউ কেউ।

সভায় আগামী নির্বাচনে প্রথমে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। এরপর জোটের শরীকসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত আসন বন্টন করার কথা জানান শেখ হাসিনা।

যৌথ সভায় জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৩৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া নির্বাচন ইস্যুতে আরো ১৫টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য গঠিত ৩৩ সদস্যের প্রধান কমিটি ওই উপ-কমিটিগুলোর কর্মকাণ্ড তদারকি করবে।

এইউএ/এমবিআর