জনগণ হামলা মোকাবেলা করলে পরিণতি কি হবে : রব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আ স ম আবদুর রব বলেছেন, জনগণ মাঠে একটু নামলেই সব একাকার হয়ে যাবে। কিন্তু তারা (ক্ষমতাসীনরা) জনগণ, প্রার্থী ও কর্মীদের নামতে দেবে না। আমরা ভয় পাই না। কিন্তু তারা জনগণকে গুলি চালাবে বলে ভয় দেখায়। কর্মীদের শান্ত, ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে আগাতে বলছি। সাহস দেখাতে গিয়ে কি জনগণ জীবন দেবে? যদি একবার আমরা জনগণকে বলি, হামলা-মামলার মোকাবেলা করো। আর জনগণ যদি মোকাবেলা করতে যায় তাহলে এর পরিণতি কি হতে পারে ভাবুন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আ স ম আবদুর রব বলেন, শুধু গ্রেফতার নয়, মামলা, হামলা করা হচ্ছে। গত ১৪ ডিসেম্বর আমরা গিয়েছিলাম বুদ্ধিজীবী শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। আমাদেরই শহীদ করার চেষ্টা চলেছে।

তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে প্রার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে নাই। অথচ এবার তাই হচ্ছে। প্রার্থী যদি গ্রেফতার হয় তবে সে নির্বাচন করবে কি করে? ৩০ তারিখ নির্বাচন। আজ ১৬ তারিখ। নির্বাচনের ১৩ দিন আগেই যদি প্রার্থীদের উপর গুলি চলে তবে আরও পরে কি হতে পারে?’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল মাহবুব উদ্দিন খোকনের উপর ৫টা গুলি করা হলো। সিরাজগঞ্জে গুলি হয়েছে। টুকুর স্ত্রী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঢাকায় সুব্রতসহ কোনো এলাকায় কোনো প্রার্থী মাঠে নামতে পারছে না। ঢাকা-১৮ এর একটি প্রচারণা গেছি। সেখানেও হামলা হয়েছে। ১৩ দিন পূর্বে যদি গুলি চালায়, তাহলে বাকি দিনগুলোতে কি চালাবে? ট্যাঙ্ক চালাবে। কামান-বিমান চালাবে। একি অবস্থা? পৃথিবী কোথায়, মানুষ কোথায়, জাতিসংঘ কোথায়, ইউএনডিপি কোথায়, কমনওয়েলথ কোথায়? আমরা তো মানুষ। ১৯৭১ সালের বর্বর পাকিস্তানিরাও তো এভাবে হামলা করেনি। এগুলো কী? পাকিস্তানিরা হামলা করেছে মুক্তিযুদ্ধের সময়। কিন্তু পাকিস্তানি আমলে যতোগুলো নির্বাচন হয়েছে কোনো নির্বাচনে বিরোধী দল, প্রার্থী ও কর্মীদের উপর এজেন্টদের উপর এভাবে হামলা করেনি।

রব বলেন, আমরা কালকে ময়মনসিংহে ৪টা পথসভা, ক্যাম্পেইন করেছি। একেকটাতে ২০ হাজার মানুষ। উত্তপ্ত বালির উপর। একটু নামতে পারলেই কিন্তু জনগণ একাকার হয়ে যাবে। কিন্তু তারা জনগণ, প্রার্থী ও কর্মীদের নামতে দেবে না। এটা কী?

তিনি বলেন, ‘আমরা তো ভয় পাই না। জনগণকে তারা ভয় দেখায় গুলি চালাবে। আমরা কর্মীদের শান্ত, ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে আগাতে বলছি। সাহস দেখাতে গিয়ে কি জনগণ জীবন দেবে? দল জোটের পক্ষ থেকে যদি একবার আমরা জনগণকে বলি, হামলার মোকাবেলা করো। আর জনগণ যদি মোকাবেলা করতে যায় তাহলে এর পরিণতি কি হতে পারে?

তিনি আরও বলেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করেছিলাম। কিন্তু আমাদের জনগণকে ক্ষমতা দেয়া হয় নাই। সেজন্য আমরা অস্ত্র ধরেছিলাম। আজকে আমাদের জনগণ জয়লাভ করতে চাচ্ছে। জনগণকে যদি জয়লাভ করতে না দেন, ১৯৭১ যদি অস্ত্র দিয়ে জবাব দিয়ে থাকে, তাহলে এখনো মাঠে নেমে জবাব দেবে। এদেশের মানুষ জাগ্রত। বাঙালি জাগ্রত।

আ স ম রব বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষ ভোট দেব, নাকি বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেব। আমরা দেশটাকে রক্ষা করতে চাই। স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্রকে উদ্ধার করতে চাই। জনগণকে উন্নত জীবন ও সংস্কৃতি দিতে চাই, শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই, ছাত্রদের শান্তিপূর্ণভাবে পড়ালেখা, নারীদের নির্বিঘ্নে চলাফেরার সুযোগ করে দিতে চাই।’

আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে বলবো, এখনো সময় আছে হামলা-মামলা বন্ধ করেন। আমাদের নির্বাচন করতে দেন।

তিনি বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন জনগণ যদি না চায় চলে যাবেন। এখন তো দেখতেছি জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করতেছেন। জোর করে আপনাকে ক্ষমতায় থাকতে দেবে না ১৮ কোটি জনগণ। আমরা সবাই আক্রান্ত-ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহর ওয়াস্তে আর এসব করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা করা হচ্ছে। আগুনে পোস্টার পোড়ানো হচ্ছে। জয় বাংলার স্লোগান আমরা দিয়েছি। জয় বাংলার স্লোগান মানে রাহাজানি মানুষ পোড়ানো খুন করা, ঠকবাজি, চাঁদাবাজি নয়। জয় বাংলার স্লোগান মানে জনগণের জয়।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু।

জেইউ/এসএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :