প্রচারণা তুঙ্গে হাছান মাহমুদের, দেখা নেই ২০ দলের প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রচারণার তুঙ্গে আছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ। আর আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর খোঁজ জানেন না খোদ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

রাঙ্গুনিয়া আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নুরুল আলমকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। শুরুতে বিএনপি থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রার্থী হচ্ছেন- এমন প্রচার থাকার পরও এখানে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেয়া হয় বিএনপি নেতা মো. কুতুব উদ্দিন বাহারকে।

কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী বদলে আসনটি ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপি প্রার্থী নুরুল আলমকে ছেড়ে দেয়া হয়। এতেই ভোটের মাঠে লড়াইয়ের আভাস পাচ্ছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর এক সপ্তাহর কাছাকাছি সময়ে রাঙ্গুনিয়ায় ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা চোখে না পড়ায় এতে এ আসনে এক তরফা নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালী উপজেলার একটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম ৭ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ চষে বেড়াচ্ছেন এ দুই উপজেলার গ্রাম থেকে গ্রামে। নৌকার পোস্টার ব্যানারে ছেয়ে গেছে প্রত্যন্ত গ্রাম। প্রতিদিন পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও সভা করছেন নৌকার সমর্থকরা।

নৌকার প্রার্থী হাছান মাহমুদ নিজে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেছেন। তার পক্ষে কোমর বেঁধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

শনিবার উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের আলমশাহ পাড়া, ঘাগড়াকুল, বেড়িবাঁধ, ধামাইর হাট, দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সাদেকের পাড়া, মুন্সিবাড়ি, আফজলের পাড়া, সোনারগাঁও এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন হাছান মাহমুদ।

অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়ার নির্বাচনী মাঠে ধানের শীষের প্রার্থী এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নুরুল আলমের এখনো দেখা পাননি জোটের নেতাকর্মীরা। ফলে ভোটযুদ্ধে নামতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে।

jagonews

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, ২০ দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা প্রস্তুত থাকলেও স্বয়ং প্রার্থীর খুব একটা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার পরও তিনি এলাকায় প্রচারণায় নামেননি। প্রচারণার ছয় দিন চলে গেলেও এলাকায় লাগেনি পোস্টার-ব্যানার। জনসভা তো দূরের কথা, কোনো কর্মিসভাও হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ‘হটাৎ প্রার্থিতা বদলে জোট একটু সমস্যায় আছে। এখনো হোম ওয়ার্ক চলছে। প্রচারণার সবকিছু তৈরি করা হচ্ছে। সময়মতো জোটের সবাইকে নিয়ে প্রার্থী মাঠে নামবেন।’

এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী নুর দাবি করেন, ‘ঘরে ঘরে গিয়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। তাই মাঠে নামতে সমস্যা হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া সবসময় ধানের শীষের ঘাঁটি। সুযোগ পেলে ভোটাররা ধানের শীষেই ভোট দেবেন।’

নৌকার প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিগত সাড়ে ৯ বছর ধরে রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। রাঙ্গুনিয়ার মানুষ এখন মিলেমিশে আছে। দল-মত নির্বিশেষে সাধ্যমতো সেবা করার চেষ্টা করছি। বিগত প্রায় পাঁচ বছরে এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা খাতে আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। অন্তত এক হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। আমার এলাকায় কে বিএনপি করে, কে জাতীয় পার্টি করে তা দেখিনি। সবাইকে সমান চোখে দেখেছি। ভোটাররা এ সবের মূল্যায়ন করবেন।’

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী আংশিক) আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ জন এবং মহিলা ভোটার এক লাখ ২৯ হাজার ৭৮৬ জন।

১৯৯১ সাল থেকে প্রতিযোগিতামূলক চারদফা নির্বাচনে (১৯৯১-২০০৮) ১৯৯১ সালে কমিউনিস্ট পার্টি, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি এবং ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়। ভোটের হিসাবে এ আসনে কোনো দলের একক আধিপত্য নেই। তবে ভাগ্য প্রতিবারই নির্ধারিত হয়েছে পাঁচ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে।

এনডিএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :